ডেস্ক নিউজ:জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে এক টি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে।
জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এই সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বই মে লার উদ্বোধ নী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উদ্বোধন স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার আহ্বা ন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি ধীরে ধীরে তরুণদের বই থেকে দূরে সরিয়ে দি চ্ছে।
তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশা পাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
বইমেলার তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বি শ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন হয়।
তবে বাংলা দেশের বইমেলা কেবল বেচাকেনার আ য়োজন নয়; এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাং লাকে রাষ্ট্রভাষা হিসে বে প্রতিষ্ঠার স্মারক।
তবে প্রতি বছর মেলার পরিসর বাড় লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বাড়ছে কিনা, সে বিষয়েও ভাবনার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’ এই উক্তির মধ্যেই বই য়ের প্রয়ো জনীয়তা স্পষ্ট।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ সৃষ্টি করে, যা স্মৃতি শক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়।
এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমা তে সহায়ক।
তথ্যপ্রযুক্তির অতি ব্যবহার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট অনিবার্য হলেও এর অতিরিক্ত ব্যব হার শিক্ষা র্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
ইন্টারনেটে বই পড়া সম্ভব হলেও ছাপা বইয়ের গভীর তা ও মনোযোগের অভিজ্ঞতা আলাদা।
আন্তর্জাতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১০২টি দেশের পাঠাভ্যাস বিশ্লেষণে দে খা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম।
দেশে একজন মানুষ বছরে গড়ে তিনটি বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন প্রায় ৬২ ঘণ্টা সম য়। এ পরিস্থিতি বদলাতে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।
ভবিষ্যতে অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক বইমে লায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযো গ বাড়বে।
একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের আহ্বান জানা ন প্রধানমন্ত্রী।
এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আ রোপ করেন তিনি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়ো জনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা.জোবাইদা রহমান, লকন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানু ল হক মিলন, উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগী উপাচার্য নিয়াজ আহ মেদ খান, উপ-উপাচার্য মামুন আহমেদসহ কবি, শিল্পী ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং প্রকাশনা প্রতি ষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।