Breaking News

তানোরে খাল পুনঃখননে পুকুর চুরি

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করেই একটি সরকারি খাল (খাড়ি) পুনঃখননেে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখননের বছর না পেরুতেই খালে এক ফোটা পানিও নাই।
স্থানীয়রা বলছে, কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করেই কেবল মাত্র সরকারি অর্থের অপচয় করতেই এই খাল  পুনঃখনন করা হয়েছে।
কারণ এই খালে কখানোই পানি থাকে না,এমনকি পানি আশার কোনো উৎস্য নাই।
কেবলমাত্র ভরা বর্ষায় ফসলি জমির পানি  খালে জমা হয়ে থাকে সেটাও অল্প কিছুদিন।যে খালে শুস্ক মৌসুমে কখানো পানিই থাকে না এতো বিপুল টাকা ব্যয়ে এই খাল পুনঃখননের কোনো মানেই হয় না।
অযথায় খাল পুনঃখনন। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ও প্রয়ো জনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই, কিন্ত্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ে ঢের আপত্তি রয়েছে।
সরেজমিন তদন্ত করা হলে এর সত্যতা মিলবে।এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরমক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী অবিলম্বে ওই খাল পুনঃখননে জড়ি তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বাধাইড়  ইউনিয়নের (ইউপি) কন্দপুর মৌজার কানখাড়ি প্রায় এক কিলো মিটা র পুনঃখনন করা হয়েছে।
বিগত ২০২৫ সালের ১৪মে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বো ধন করা হয়। ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭২০ টাকা ব্যয়ে, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে খাল পুনঃখনন কাজ  বাস্তবায়ন করেন এস,কে,এস ফাউ ন্ডেশন। মূলত খরা মোকাবেলায় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়ে ছে।
প্রচন্ড খরাপ্রবণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত তানোর উপজেলায় খরা মোকাবেলায় ভু-উপরিভাগের পানি ধরে রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পুকুর ও খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, এই খাল পুনঃ খননে শুধু পুকুর চুরি নয়, বরং অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে সাগর চুরি হয়েছে। এ খাল এক সময়  এলাকাবা সীর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিকাজে সেচ এবং গ্রামীণ জীবনে নানান উপকারে এই খালটি ব্যবহার হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত খালটি যথাযথভাবে সংস্কার না হও য়ায় তার কার্যকারিতা হারাতে বসেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ তুঙ্গে। তারা বলছেন, এতো বড় একটি প্রকল্প কীভাবে এতটা দায়িত্ব জ্ঞানহীন ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।
স্থানীয় প্রশাসনেরও কোনো তদারকি নেই বলেই মনে কর ছেন তারা। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের পাশাপা শি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তারা রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপ ক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তদন্ত না হলে খালের ভবিষ্যৎ কী ? খালটির খনন কাজ সঠিকভাবে না হলে এটি ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে পড়বে, যা কেবলমাত্র স্থানীয় কৃষিকাজই নয়, বরং পরিবেশ ও জন জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশে ষজ্ঞরা।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের রাজশাহীর তানোরের প্রজেক্ট কো-অডিনেটর আরাফাত ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরে ওই ফাউন্ডেশনের কমিউনিটি মোবিলাইজেশন কর্ম কর্তা অনুপ কুমার মন্ডলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কানখাড়ি নিয়ম মেনে সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে।#

About admin

Check Also

সড়ক নির্মাণে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গর্ত কেটে সড়কের মাটি ভরাট, ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণ কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে …