:অধ্যাপক মোঃ ইয়াকুব আলী: জয় আর পরাজয় এটা মহান আল্লাহ পাক ফয়সাল্লাহ করেন।
তাই জনগনের ভোটের রায়কে অবশ্যই সকল রাজনৈ তিক দলকে সম্মান দেখানো প্রয়োজন। আর সরকারী দলকে প্রতিশোধ নয়,সহিংসতা নয়,সহনশীল হওয়া এখন সময়ের দাবী।
বিএনপি জোটের গত ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিজ য়ের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নের্তৃত্বে খুব শীঘ্রই নতুন সরকারের সূচনা হবে।
দেশবাসী চেয়ে আছে নতুন বিএনপির সরকার জাতী কে ভাল কিছু উপহার দিবে। তবে দেশের রাজনৈতিক মহলে ভোটের ফলাফল নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, সমোলোচনা।
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোট ছিল । মোট প্রার্থী ছিল ২ হাজার ২৮ জন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন।
নির্বাচনে গণভোট পড়েছে ৬০ দশ মিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজা র ৪২৯ এবং না ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গণভোটে কাস্ট হয়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বিএনপি জোট ৩কোটি ৫৩ লাখ পেয়ে২১৩ আসন ও জামায়াত জোট ৩ কোটি ৩৩ লাখ ভোট পেয়ে ৭৭ আসন পেয়েছে। বিএনপি ৪৬.৬ শতাংশ ও জামায়াত ৪৩.৯ শাতাংশ ভোট পেয়েছে।
এবারের ভোটে জামায়াত কেন পরাজয় হলো এর অংক কষছেন অনেকে ? অবশ্য ভোট অনুষ্ঠিত হবার আগে বিভিন্ন গনমাধ্যমে,জরিপ সংস্থা,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনও প্রচার ছিল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীও এবার সরকার গঠন করতে পারে।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকা রের পতনের পর জামায়াত ধর্মভিত্তীক দল হওয়ায় তাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা নিয়ন্ত্রনে ছিল।
তারা ধর্মভিত্তীক দল হওয়ায় ন্যায়,আদর্শ ও সততায় দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। তাদের তেমন বদনাম ছিল না। তার পরেও দেশের জনগন তাদেরকে ভোট না দিয়ে বিএন পি জোটকে ভোট দিয়ে বিজয় করেছে ?
তবে জামায়াতের পরাজয়ের অন্যতম যে সব কারন গুলো দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যা মনে কর ছেন।
প্রথম কারন:বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পপতি জামায়াতকে সমর্থন করেনি।জামায়াত সুূদ ভিত্তীক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করে না।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সুদ ভিত্তীত আর্থিক প্রতি ষ্ঠান যেমন এনজিও ও ব্যাংকগুলো অচল হয়ে পড় বে। তাদের সুদের ব্যবসায় ধ্বস নামবে।
জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইসলামী ব্যাংকে (সুদমুক্ত)দেশে- বিদেশে বেশ গ্রহনযোগ্যতা আছে। আরও শক্তিশালী হবে।
দুইঃ স্বাস্থ্য বিভাগের মালিকরাও মনে করেছিল জামা য়াত ক্ষমতায় না গিয়েই তাদের নিয়ন্ত্রিত ইবনেসীনা সহ দেশে বেশকয়েকটি বেসরকারী হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন।
সেখানে কর্পোরেট কার্ড দিয়ে দেশের হাজার হাজার মানুষকে স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
জামায়াতে র নির্বাচনী ঘোষনা ছিল বিদেশে চিকিৎসা নয়। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে।
তারা ভাবতেন জামায়াত ক্ষমতায় আসলে তাদের হাসপাতালের (স্বাস্থ্যে) সেবা বানিজ্যে ধস নামবে। এ জন্য তারা জামায়াতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
তিনঃ জামায়াতের পরাজয়ের অন্যতম কারন আও য়ামীলীগ। দেশের ১৫/ ২০ শতাংশ ভোট বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় করে। তারা গন ভোটে না এর পক্ষে ভোট দেয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে এ তথ্য মেলে।
২৪ জুলাই বিপ্লবীরা আওয়ামীলীগ সরকারকে হঠায় এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী ভূমিকা রাখে।
তারা এই ভোটের আগে জুলাই বিপ্লবীরী বিএনপিকে তকমা লাগিয়েছিল আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভা পতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বিএনপি।
এদিক বিবেচনায় বেশীরভাগ আওয়ালীগের নেতা-কর্মীরা মনে করেছিল বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারা নিরাপদে থাকবে, ভাল থাকবে।
রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসীর রায় কার্যকর হবে না। তাদের জন্য জামায়াতের থেকে বিএনপিই নিরাপদ। তাই বিএন পির ধানের শীষের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল তারা।
চার :জামায়াতের সাথে জুলাই বিপ্লবীদের ভোটের জোট। আর জামাায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে ভারতীয় আধপত্য বাদের একেবারেই অস্তিত্ব থাকবে না।
আওয়ামীলীগ কোন রকমই ছাড় পাবে না। এ জন্য জামায়াতকে আওয়ামীলীগের অধিকাংশ ভোটার ভোট দেয়নি বলে ভোটের বিশ্লেষণ এটাই প্রতীয়মান হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগায় বিএনপি।
জামায়াতের ৭১ সালের তকমা জায়গা বিশেষ প্রচার ছিল। আর জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে ৭১ বলে কিছু থাকবে না। নেতাকর্মীদের ভিতরে ভিতরে ৭১ বাঁচাও শ্লোগান ছিল।
পাঁচ:যুক্তরাস্ট্র জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আর জানায়াত ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারে সমূদ্র সৈকতের সেন্ট মার্টিন চট্রগ্রাম বন্দর গুলো যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নিবে। এ ধরনের প্রচারও ছিল।
ছয়: জমায়াত ইশতেহারে ঘোষনা দিয়েছিল জামায়া ত ক্ষমতায় গেলে নারীদর কর্ম ঘন্টা হবে ৫ ঘন্টা হবে।
এ দেশের হাজার হাজার গার্মেন্ট মালিকরা নারীদের সামান্য বেতনে ১২ ঘন্টা সময় কাজ করিয়ে নেয়।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এটা হবে না। তাই শিল্পপতি রা মেধা ও অর্থ দিয়ে জামায়াতের বিরোধীতা করে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলো এদেশে ইসলামী শরীয়া আইন চালু হবে। মেয়েদের পর্দায় থাকতে হবে।
কোন স্বাধীনতা থাকবে না। তাই এবারের ভোটে জা মায়াত কোন মহিলা প্রার্থী করেনি। জামায়াতে ভোট দিলে জান্নাতের টিকিট পাওয়া যায় এমন ধরনের নানা প্রচার করা হয়।
এসব কারনে শহরের উচ্চ বিলাসী শতকরা ৭০ জন নারী জামায়াত কে ভোট দেয়নি। তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
সাত:জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল হিসেবে খুলনার একটি কৃষ্ণ নন্দী নামে একজন হিন্দুকে প্রার্থী করলে ও তেমন লাভ হয়নি। পক্ষান্তরে তারা ভেবেছিল জামা য়াত ক্ষমতায় গেলে সখ্যালঘু হিন্দুসহ অন্যদের উপর নির্যাতন বাড়বে না। এটাও ঢালাও ভাবে প্রচার করা হয়।
সর্বপরি জামায়াত জোটকে বলবো হতাশা নয়। আরও ত্যাগ ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে আপ নাদের দল নিষিদ্ধ করা হয়। জুলুম করা হয়।
আপনারা রাতে ঘরে ঘুমাতে পারেননি। অসখ্যা নেতা কে ফাঁসী দেয়া হয়। এখন দেশের জনগন আপনাদের বিরোধী দলের (ছায়া সরকারে)আসনে বসিয়েছে।
আগামীতে এই ৭৭ টি সংসদীয় আসনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে জনগনের সেবামূলক কর্ম কান্ডের উপর নির্ভর করছে আপনাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি।
সরকারী দল বিএনপিকে বলবো প্রতিশোধ নয়, জন গন সবার,নির্বাচনের সহিংসতা বর্জন করে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হবে আমাদের সবার প্রত্যাশা ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোটের পরাজয়ের প্রেক্ষাপট
Partner with us for generous payouts—sign up today!
online pharmacies in us
Discover what’s new — http://apr.kiro46.ru/wp-content/pages/promokod_755.html