Breaking News

ঠাকুরগাঁওয়ের বি এন পি জামাত ব্যতিত  ১৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।

জামানত খোয়ানো এসব প্রার্থীর তালিকায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যও রয়েছেন। মূলত প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত হিসেবে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগা রে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রাথমি ক বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জে লার তিনটি আসনেই লড়াই হয়েছে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এই দুই দলের প্রা র্থী বাদে বাকিরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামা নত ফেরত পেতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন পেয়ে ছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭ ভোট। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৪১টি। নিয়ম অনুযায়ী জামা নত রক্ষায় অন্তত ৪৮ হাজার ৯১৭টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদে মুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৯৫১ ভোট পাওয়ায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুস সালাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৮টি। জামানত ফেরত পেতে এখানে ৩১ হাজার ৪৮টির বেশি ভোটের প্রয়োজন ছিল।

এই কোটা পূরণ করতে না পারায় জাতীয় পার্টির নূরুন নাহার বেগম (২,৮৭৬ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের ফা রুক হাসান (১,৮৪৩ ভোট), এবি পার্টির নাহিদ রানা (৪৫১ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের রেজাউল করিম (৪৩৭ ভোট) এবং সিপিবির সাহাবউদ্দিন আহাম্মেদ (৩৮০ ভোট) তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রার্থীদের জামানত হারানোর হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই জামানত খুইয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহ মান ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে এই আসনে বেস রকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট। ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৮টি ভোট পড়া এই আসনে জামানত রক্ষায় প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩২ হাজার ৮৩৩ ভোট।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (২৭,১৩৩ ভোট), সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম (১,৫৪৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের আল আমিন (১,২৯৫ ভোট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান সরকার (১১৩ ভোট), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র কমলা কান্ত রায় (৬৮০ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা: আশা মনি (২৭৯ ভোট), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি)’র মো: আবুল কালাম আজাদ (৫০৩ ভোট), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)’র মো: মামুনুর রশিদ মামুন (৫৫২ ভোট) পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যেসব প্রার্থী নির্ধারিত সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের জমা দেওয়া টাকা বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

About admin

Check Also

আমি আপনাদের ছেড়ে যাবো না, বিপদে আপদে পাশে থাকবো: বাপ্পী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনা-৬ আসনের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের বিএনপি মনো নীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী …