Breaking News

নওগাঁয় ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশের জন্য ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে তদন্ত সম্পন্ন

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃদেশের জনগুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর হচ্ছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। যে দপ্তরটির সকল সেবা দালাল আর ঘুষ ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই এই।খাতটি সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে পরিচি ত। সারা।দেশের মতো নওগাঁর বিআরটিএ অফিসেও টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না।

সম্প্রতি নওগাঁর টিটিসিতে ড্রাইভিং কোর্সের প্রশিক্ষণা র্থীদের পরীক্ষায় পাশ করার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে
দুই হাজার করে টাকা নেওয়ার বিষয় সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি তে আসলে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অন্যান্য গণমাধ্য মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ প্রকাশের পর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের গঠন করা একটি তদন্ত দল গত ১৯ জানুয়ারী বিষয়টি তদন্ত করতে নওগাঁর টিটিসিতে আসেন।

এসময় তদন্ত দল বিষয়টির সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, কিছু শিক্ষার্থী ছাড়া কোর্সের সকল শিক্ষার্থীর সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন।

এছাড়া তদন্তের স্বার্থে।তিনি যা যা করা প্রয়োজন তা সম্পন্ন করেন। তবে এখনোও তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে কোন কিছুই জানা যায়নি।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টিটিসি ও বিআরটিএ’র সকল কার্যক্রমে নজরদারী কঠোর করে ছেন বলে জানিয়েছেন নওগাঁ টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুজ্জামান।

টিটিসি ড্রাইভিং বলতে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) ড্রাইভিং প্র শিক্ষণকে বোঝানো হয়, যেখানে হালকা ও ভারী গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়মকানুন এবং গাড়ির প্রাথমিক রক্ষ ণাবেক্ষণ শেখানো হয়।

যা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য খুবই কার্যকর। বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণ সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস মেয়াদি হয় এবং ভর্তি প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চালু হয়।

গত ডিসেম্বরমাসের ২৮তারিখে নওগাঁ টিটিসি কেন্দ্রে শেষ হয়েছে ৪ মাস ব্যাপী ডাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্স। নওগাঁর বি আরটিএ অফিস যেন কোন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করে না দেয় সেই জন্য প্রতিজন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা সংবাদকর্মীদের জানান।

শুধু নওগাঁ নয় সারা দেশের এই কোর্স পরিচালনা করতে গিয়ে বিআরটিএ কে ম্যানেজ করতে হয়। যদি ম্যানেজ করা না হয় তাহলে বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষায় প্রশিক্ষণা র্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়।

এতে করে কোর্সের সঙ্গে জড়িতদের নানা সমস্যার সম্মু খিন হতে হয়। তাই এমন ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে কোর্স শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কিছু টাকা তোলা হয়। সেই টাকা দিয়ে কোর্স শেষে এক খাওয়া-দাওয়ার আয়ো জন করা হয়। সেই আয়োজনে অবশিষ্ট টাকা বিআরটিএ-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই নিয়ম বহুদিন যাবত চলে আসছে। যার কারণে
এমন কাজ করতে কোর্স সংশ্লিষ্টরা বাধ্য বলে জানান কোর্সের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও অন্যরা। এমন বিষয়টি তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলো ড়নের সৃষ্টি হয়।

নওগাঁ বিআরটিএ-এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মো:
রাশেদুজ্জামান মুঠোফোনে জানান ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্স কমিটির সভাপতি জান্নাত আরা তিথি জানান কোর্স শেষে পরী ক্ষায় পাস করে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসন টিটিসি ও বিআরটিএ-এর অফিস কঠোর নজ রদারীতে রেখেছে।

বিশেষ করে বিআরটিএ অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্ম চারীদের নিজস্ব পরিচয়পত্র গলায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সেবাগ্রহিতা ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজস্ব পরিচয়পত্র ছাড়া অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এছাড়া টিটি সির সকল কর্মকান্ড একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা মনিটরিং করা হচ্ছে।

এমন পদক্ষেপে বিআরটিএ ও টিটিসিতে কিছুটা হলেও
পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

About admin

Check Also

পে-স্কেলের গেজেটের দাবিতে পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সরকার কর্তৃক গঠিত পে কমিশনের …