Related Articles
স্থানীয়রা জানান, নিজাম উদ্দিন ২০১৪ সালের ৩১ মে থেকে টানা ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন ভাত খান মনি।
বিএনপি সরকার পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি।
তাঁর এই ব্যতিক্রমী ও চরম সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রামে দোয়া ও খাবারের আয়োজন করা হয়।
ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে রান্না করা খাবারের হাঁড়ি ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়ে নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেন যতদিন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি ভাত মুখে তুলবেন না।
এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ভাত পরিহার করে রুটি, চিড়া, গুড়, কলা কিংবা সামান্য শুকনা খাবার গ্রহণ কর তেন বলে পরিবার জানায়।
নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, বাবাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য পরিবার থেকে বহুবার চেষ্টা করেছি।
ডাক্তাররাও ভাত খেতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি বলতেন, ‘প্রতিজ্ঞা ভাঙলে আমি নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাব।’ শেষ দিন পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ভাত না খাওয়ার কারণে বাবার শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানে পৌঁছালে তিনি নিজাম উদ্দিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
তার নির্দেশনায় ফরিদপুর ও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা করা নো হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাঁশবাড়িয়া গ্রাম সহ আশ-পা শের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন রাজনৈতিক নেতা কর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষ। অনেকেই তাঁকে “রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞার প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, নিজাম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ দলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর জানাজায় বহু মানুষ অংশ নেন বলে জানা গেছে।
নিজাম উদ্দিন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী বক্স মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি ছিলেন।
অতি সাধারণ একজন গ্রামের মানুষ হলেও রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার কারণে তিনি স্থানীয় ভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
নিজাম উদ্দিনের মৃত্যু শুধু একটি জীবনের অবসান নয়, বরং এক দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞারও পরিসমাপ্তি যা মহেশপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুদিন আলোচিত হয়ে থাকবে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে