Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন পুঠিয়ায় টাফেন্টাডল ও ইয়াবা টেবলেটসহ তিনজন আটক চৌগাছায় সমবায় দিবস পালিত সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী

রাজশাহীতে সরিষা চাষ বাড়ছে মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:05 pm, Thursday, 8 January 2026
  • 73 Time View
ঃআলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীতে সরিষা চাষ দিনদিন বাড়ছে।অল্প খরচে বেশী মুনাফা হওয়ায় সরিষা চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও সরিষা আবাদে লোকসানের ঝুঁকি নাই, ফলন যেমনই হোক মুলধন ফিরে আসবেই।
জানা গেছে,চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
শীতের এই সময়ে সরিষা গাছে ফুল ফুটতে শুরু করায় এখন গ্রামাঞ্চলের মাঠজুড়ে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের এই দৃশ্য প্রকৃতিকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। যেদিকে চোখ যায় চারিদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন হলুদের সমারোহ।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায়  ৫৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।
তানোরে সরিষা হচ্ছে ৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর।রাজশাহীর তানোর, চারঘাট, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাঘা  উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, এক হেক্টর জমিতে গড়ে ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ টন সরিষা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
এতে জেলার তেলজাত ফসলের চাহি দা পূরণের পাশা পাশি কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বীজ ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরিষার ভালো বাজারমূল্যের আশায় এবার কৃষকরা ব্যাপকভাবে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছে ন।
বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন অধিকাংশ কৃষক।
সরিষা চাষ নিয়ে পবা উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে সরিষা করেছেন।
ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছেন। রোগবালাইও তেমন নেই। বাজারে দাম ভালো পেলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন। তানোর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, সরিষা চাষে খরচ কম, সময়ও কম লাগে।
এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে ফুল এসে ছে। যদি এভাবে থাকে, ফলনও ভালো হবে। তানোর উপজেলার কৃষক রহিম মোল্লা জানান, সরিষা উৎপাদনে খরচ কম তাই সরিষা দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছি।
আশা করছি ফলন ভালো হবে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এক বিঘা সরিষা বপণের জন্য ৩০ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপ সার এবং দু’একবার কীটনাশক, সেচসহ ৭ থেকে ৮ হাজা র টাকা খরচ হ এবং বিঘায় যদি ৫ থেকে ৬ মণ ফলন হয়। এক মণ সরিষা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা য়।
এই হিসেবে ৫ মণ ফলন হলে ১৫ হাজার টাকা। আর ৬ মণ ফলন হলে ১৮ হাজার টাকা আসবে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচা লক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, সরিষা একটি লাভ জনক ও কম খরচের ফসল।
আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।
আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। সরিষা চাষের ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে হলুদ ফুলে ছেয়ে যাওয়া মাঠ প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ।
অনেক জায়গায় মানুষ সরিষার ক্ষেতে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন, উপভোগ করছেন গ্রামবাংলার শীতকালীন এই রূপ। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবারের সরিষা চাষ শুধু কৃষি উৎপাদনেই নয়, সৌন্দর্য ও অর্থনীতিতেও যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার  বলেন, এ বছর ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অনূকুল থাকায় ব্যাপক পরিসরে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূর্ণ হবে।
সরিষার ভালো উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।#

About Author Information

Popular Post

শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে সরিষা চাষ বাড়ছে মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

Update Time : 06:05 pm, Thursday, 8 January 2026
ঃআলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীতে সরিষা চাষ দিনদিন বাড়ছে।অল্প খরচে বেশী মুনাফা হওয়ায় সরিষা চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও সরিষা আবাদে লোকসানের ঝুঁকি নাই, ফলন যেমনই হোক মুলধন ফিরে আসবেই।
জানা গেছে,চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
শীতের এই সময়ে সরিষা গাছে ফুল ফুটতে শুরু করায় এখন গ্রামাঞ্চলের মাঠজুড়ে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের এই দৃশ্য প্রকৃতিকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। যেদিকে চোখ যায় চারিদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন হলুদের সমারোহ।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায়  ৫৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।
তানোরে সরিষা হচ্ছে ৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর।রাজশাহীর তানোর, চারঘাট, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাঘা  উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, এক হেক্টর জমিতে গড়ে ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ টন সরিষা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
এতে জেলার তেলজাত ফসলের চাহি দা পূরণের পাশা পাশি কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বীজ ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরিষার ভালো বাজারমূল্যের আশায় এবার কৃষকরা ব্যাপকভাবে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছে ন।
বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন অধিকাংশ কৃষক।
সরিষা চাষ নিয়ে পবা উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে সরিষা করেছেন।
ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছেন। রোগবালাইও তেমন নেই। বাজারে দাম ভালো পেলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন। তানোর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, সরিষা চাষে খরচ কম, সময়ও কম লাগে।
এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে ফুল এসে ছে। যদি এভাবে থাকে, ফলনও ভালো হবে। তানোর উপজেলার কৃষক রহিম মোল্লা জানান, সরিষা উৎপাদনে খরচ কম তাই সরিষা দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছি।
আশা করছি ফলন ভালো হবে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এক বিঘা সরিষা বপণের জন্য ৩০ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপ সার এবং দু’একবার কীটনাশক, সেচসহ ৭ থেকে ৮ হাজা র টাকা খরচ হ এবং বিঘায় যদি ৫ থেকে ৬ মণ ফলন হয়। এক মণ সরিষা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা য়।
এই হিসেবে ৫ মণ ফলন হলে ১৫ হাজার টাকা। আর ৬ মণ ফলন হলে ১৮ হাজার টাকা আসবে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচা লক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, সরিষা একটি লাভ জনক ও কম খরচের ফসল।
আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।
আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। সরিষা চাষের ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে হলুদ ফুলে ছেয়ে যাওয়া মাঠ প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ।
অনেক জায়গায় মানুষ সরিষার ক্ষেতে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন, উপভোগ করছেন গ্রামবাংলার শীতকালীন এই রূপ। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবারের সরিষা চাষ শুধু কৃষি উৎপাদনেই নয়, সৌন্দর্য ও অর্থনীতিতেও যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার  বলেন, এ বছর ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অনূকুল থাকায় ব্যাপক পরিসরে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূর্ণ হবে।
সরিষার ভালো উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।#