Dhaka , Monday, 2 November 2026
সর্বশেষ:
ডুমুরিয়ায় যাত্রীবেশে ভ্যান ছিনতাই: ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৪ ঝিনাইদহে জাতীয় যুব দিবস পালিত ঝিনাইদহে পানিতে ডুবে শ্রাবন নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নওগাঁয় গাঁজাসহ চোর চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৬; ৫১৭টি হারানো মোবাইল উদ্ধার ঝিকরগাছায় জাতীয় যুব দিবস পালিত শৈলকুপায় মুদি দোকান থেকে ২৫ বস্তা বিএডিসি ডিএপি সার উদ্ধার উন্নয়ন বঞ্চিত উত্তরঞ্চলের বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন সান্তাহার শহরকে আধুনিক শহরে রুপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ  কয়রায় সদ্য চাকুরিচ্যুত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর বেতনভাতা সহ চাকুরী পূর্ণবহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল,

মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল,

বৈঠার ছন্দ, কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনি আর মাঝি-মাল্লাদের হেঁইও রবে মুখরিত মধুমতি নদী।

নদীর বুকে রঙিন নৌকার প্রতিযোগিতা, দুই তীরে লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে উৎসবের নগরে পরিণত হয় মাগুরার মহম্মদপুর নদীর পাড়। প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর এই নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে মধুমতি নদীর দুই পাড়ে নামে দর্শনার্থীদের ঢল।

মাগুরা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে আসেন। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে।

মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দুই দিন আগে থেকেই মধুমতি নদীর দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, মিষ্টি, শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসে।

মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

বিকেলে নৌকাবাইচ শুরু হলে নদীর বুকে তৈরি হয় প্রতিযো গিতার উত্তেজনা। মাঝি-মাল্লাদের সমন্বিত বৈঠার টানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে রংবেরঙের নৌকাগুলো।

কাঁসার ঘণ্টার শব্দ আর মাঝিদের হেঁইও রবে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। এক নৌকাকে পেছনে ফেলে অন্য নৌকার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের ভাষ্য, মহম্মদপুরের মধুমতি নদীর এ নৌকা বাইচ ঐতিহ্য বহন করছে। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনপদে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

নদীকেন্দ্রিক বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এ আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি মেলার উদ্বোধন করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপা র মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম শামীম হো সেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড রোকনুজ্জামান খাঁন, মহম্মদপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক মতিউর রহমান,শালিখা উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন টুকু, মেলা কমিটির সভাপ তি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, সাধারন সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান কাবুল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপিত সাবেক অধ্যাপক মো: সাইদুর রহমান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ বায়ক ড. রইচ উদ্দীন ইউনুস আলী, যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব খান সোহেল, মো: মহিদুল ইসলাম ,শরিফুজ্জামান টুকু, আকতারুজ্জামান বিল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী হুসাইন আলী বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে এসে অনেক আনন্দ উপভোগ করছি। এত মানুষের সমাগম দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খুলনার কয়রা থেকে এসেছেন আলী আকবর। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই এ প্রতিযো গিতায় অংশ নিতে আসি।

গত বছরগুলোতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছি। মহম্মদপুরের মধু মতি নদীর নৌকাবাইচ দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এবারও প্রথম পুরস্কার জয়ের আশা নিয়ে এসেছি।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন সাগরিকা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই এ মেলা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নৌকাবাইচ ও মেলা দুটোই খুব উপভোগ করছি। কেনাকাটাও করছি।

আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিবছরই যেন এ আয়োজন অব্যাহত থাকে।

নৗকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন,অনেক দিন পর মহম্মদপুরবাসী এমন আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করছেন।

নদীর দুই পাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া।

About Author Information

ডুমুরিয়ায় যাত্রীবেশে ভ্যান ছিনতাই: ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল,

Update Time : 16 Hours Ago

বৈঠার ছন্দ, কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনি আর মাঝি-মাল্লাদের হেঁইও রবে মুখরিত মধুমতি নদী।

নদীর বুকে রঙিন নৌকার প্রতিযোগিতা, দুই তীরে লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে উৎসবের নগরে পরিণত হয় মাগুরার মহম্মদপুর নদীর পাড়। প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর এই নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে মধুমতি নদীর দুই পাড়ে নামে দর্শনার্থীদের ঢল।

মাগুরা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে আসেন। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে।

মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দুই দিন আগে থেকেই মধুমতি নদীর দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, মিষ্টি, শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসে।

মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

বিকেলে নৌকাবাইচ শুরু হলে নদীর বুকে তৈরি হয় প্রতিযো গিতার উত্তেজনা। মাঝি-মাল্লাদের সমন্বিত বৈঠার টানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে রংবেরঙের নৌকাগুলো।

কাঁসার ঘণ্টার শব্দ আর মাঝিদের হেঁইও রবে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। এক নৌকাকে পেছনে ফেলে অন্য নৌকার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের ভাষ্য, মহম্মদপুরের মধুমতি নদীর এ নৌকা বাইচ ঐতিহ্য বহন করছে। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনপদে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

নদীকেন্দ্রিক বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এ আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি মেলার উদ্বোধন করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপা র মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম শামীম হো সেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড রোকনুজ্জামান খাঁন, মহম্মদপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক মতিউর রহমান,শালিখা উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন টুকু, মেলা কমিটির সভাপ তি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, সাধারন সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান কাবুল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপিত সাবেক অধ্যাপক মো: সাইদুর রহমান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ বায়ক ড. রইচ উদ্দীন ইউনুস আলী, যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব খান সোহেল, মো: মহিদুল ইসলাম ,শরিফুজ্জামান টুকু, আকতারুজ্জামান বিল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী হুসাইন আলী বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে এসে অনেক আনন্দ উপভোগ করছি। এত মানুষের সমাগম দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খুলনার কয়রা থেকে এসেছেন আলী আকবর। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই এ প্রতিযো গিতায় অংশ নিতে আসি।

গত বছরগুলোতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছি। মহম্মদপুরের মধু মতি নদীর নৌকাবাইচ দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এবারও প্রথম পুরস্কার জয়ের আশা নিয়ে এসেছি।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন সাগরিকা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই এ মেলা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নৌকাবাইচ ও মেলা দুটোই খুব উপভোগ করছি। কেনাকাটাও করছি।

আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিবছরই যেন এ আয়োজন অব্যাহত থাকে।

নৗকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন,অনেক দিন পর মহম্মদপুরবাসী এমন আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করছেন।

নদীর দুই পাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া।