রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও: শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের নিম্নআয়ের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে আরও দুর্বিষহ।
কনকনে ঠান্ডায় দিনমজুর, রিকশাচালক, বয়স্ক নারী-পুরুষসহ অসহায় মানুষের নিত্যদিনের সংগ্রাম যেন টিকে থাকার লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে লংকা বাংলা ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপ জেলার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যা লয় মাঠে লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ কর্ম সূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শীত নিবারণের এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলা কা থেকে আসা প্রায় তিন শতাধিক দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই কম্বল পাওয়ার আশায় মাঠে জড়ো হতে থাকেন অসহায় মানুষজন। কারও গায়ে ছিল পাতলা জামা, কারও হাতে ছোট শিশু।
শীতের ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল তাঁদের চোখেমুখে। কম্বল হাতে পেয়ে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
উপকারভোগীদের অনেকের ভাষায়, এই সহায়তা না পেলে শীতের রাত পার করাই কঠিন হয়ে পড়ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকু র গাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষ ক হাফেজ রশীদ আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসির দিনাজপুর শাখার প্রধান মো. মোর্শেদ জামিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মোর্শেদ জামিল বলেন, সা মাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে লংকাবাংলা ফাউ ন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচা লনা করে আসছে।
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেই ধারাবাহিক উদ্যো গেরই একটি অংশ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাংলাদেশ এক্স-ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ যোগিতায় দুস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্য ক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লংকাবাংলা ফাই ন্যান্স পিএলসির দিনাজপুর শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মক র্তাবৃন্দ, বাং লাদেশ এক্স-ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকির হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পা দক মো. জোবায় দুল হক স্বপন, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক আরিফ হাসান, মোহাম্মদ জাকির হোসে নসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
এ ক্ষেত্রে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিত্ত বান ব্যক্তিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরু রি।
শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহ মর্মিতা ও দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে।
কম্বল পাওয়া একাধিক উপকারভোগী বলেন, শীতের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলাম না।
আজ কম্বল পেয়ে অনেক উপকার হলো। অন্তত এই কয়ে কটা দিন একটু স্বস্তিতে থাকা যাবে।
শীতের দিনে এমন মানবিক উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের মানু ষের কাছে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাই নয়, বরং কঠিন সময়েও পাশে থাকার একটি আশার বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।