মোঃ মনসুর আলী আদমদিঘী (বগুড়া) থেকেঃ বগুড়ার সান্তাহার প্রাচীনতম রেলওয়ে জংশন শহর প্রায় দেড়শ বছর আগের শহর।
এ শহরের মাঝখানে স্থাপিত একটিমাত্র রেলগেট দিয়ে পারাপার হয় হাজার হাজার পথচারীর এবং যানবাহন।
এই রেলগেটে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়।
ঝুকি নিয়ে ট্রেন ও পথচারিদের চলচল করতে হয়।এখানে এলাকাবাসির ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি দেড়শ বছরেও পুরুন হয়নি।
১৮৭৮ সালে ইষ্টার্ন ষ্টেট কোম্পানি নির্মিত ঐতিহ্য বাহি, প্রাচীন,সান্তাহার জংসন স্টেশন স্থাপনের সম য় স্টেশনে উত্তরপাশে শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি রেলগেট স্থাপন করা হয়।
এই রেলগেটের উপর দিয়ে প্রতিদিন ৩২টি ট্রেন চলাচল করে এবং উক্ত রেলগেট দিয়ে হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহন পারাপার হয়। স্টেশনে ট্রেন আসা-যাওয়ার সম য় হলেই গেটের দুপাশে অটোমেটিক গেট বন্ধ হয়ে যায়।
এতে গেটটি পারাপারের জন্য পথচারী ও যনবাহন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে সীমাহীন যানজট সৃষ্টিহয়।
একারণে ট্রেনযাত্রী,স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ সর্ব সাধা রণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই প্রায় দেড়শ বছর থেকে আজ পর্যন্ত প্রাচীনতম সান্তাহার শহর বাসীর যান যটের অন্যতম কারণ এই রেলগেট।
এই রেলগেট একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে এ দুর্ভো গ থেকে মুক্তি পাবে হাজার হাজার ভুক্ত ভুগি পথচারীরা। এ যানযট নিরসনে সান্তাহার শহরবাসি, নাগরিক কমিটি সহ নানা সংগঠন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।
কিন্তু প্রায় দেড়শ বছর ধরে সেই দাবী এখনো উপেক্ষিত হয়ে আছে। সরকার বদল হয়। মন্ত্রী এমপি বদল হয় কিন্তু এলাকার মানুষের দুভোর্গের শেষ হয়না। এই জনগুরুত্ব পূর্ণ রেলগেটে আগের চেয়ে বর্তমানে যানজোট অনে কাংশে বেড়েছে।
এতে পথচারী এবং ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি ও বেড়েছে। শহরে র প্রাণকেন্দ্র বলে খ্যাত এই রেলগেটির দু প্রান্ত্রে দুটি অ টোমেটিক গেট আছে। একটি পূর্ব প্রন্ত্রে অপরটি পশ্চিম প্রান্ত্রে । প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেন সহ মোট ৩২টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে।
ট্রেনের আসা-যাওয়ার সময় হলেই গেটটি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘন্টা বন্ধ থাকে এই রেলগেট।
একবার গেট বন্ধ হলে কখনো এক থেকে দুই এমনকি তিন ঘন্টা ধরে গেট বন্ধ রাখা হয়।
ট্টেন আসা বা যাওয়ায়ার কারনে নির্ধারিত সময়ের পর খোলার কথা থাকলেও তা খুলতে বিলম্বে হয়।
এইসময়ের মধ্যে রেল লাইনের দুইপাশে বিভিন্ন যানবা হনের যানজট সৃষ্টি হয়। সান্তাহার রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযয়, বৃটিশ আমলে নির্মিত সান্তাহার ব্যস্ততম স্থানে অবস্থিত এই রেলনগেট।
এই রেলগেট দিয়ে প্রতিদিন যে সকল ট্রেন যাতায়াত করে তার মধ্যে রাজশাহী-চিলাহাটি রুটের আন্তনগর তিতুমির এক্সপ্রেস বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটি রুটে আন্তঃন গর নীলসাগর এক্সপ্রেস,চিলাহাটি এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলা হাটি রুটের রুপসা, সীমান্ত, রকেট মেইল, ঢাকা- দিনাজ পুর- ঢাকারুটে একতা,দ্রতযান, বাংলা বান্ধা, রংপুর রুটের আন্তঃনগর রংপুর এক্সপ্রেস,কুড়িগ্রাম থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনিরহাট থেকে লালমনিএক্সপ্রেস, ঢাকা-বুড়িমারী, রুটে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটের দোলন চাঁপা এক্সপ্রেস, সান্তাহার-বুড়িমারী রুটে করতোয়াএক্সপ্রেস, সান্তাহার-লালমনিরহাট রুটে বগুড়া মেইল ও পদ্মরাগ, সান্তাহারবোনারপাড়া রুটের মেইল ট্রেন,ঢাকা এবং ভারত রুটে-নিউজলপাইগুড়িমিতালী এক্সপ্রেস, ট্রেন এই রেলগেট দিয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়া কিছুমালবাহি সহ অন্যন্যে ট্রেন এই রেলগেট দিয়ে যাতায়াত করে। এ রেল স্টেশনে ট্রেনের সান্টিং সার্ভিস।
প্রতিদিন এই রেলগেট দিয়ে কয়েক হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এর মধ্যে আছে স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষা র্থীসহ জনগুত্বপৃর্ন আ্যাম্বলেন্স ফায়ারৃসার্ভিস, সেনা বাহি নী,এবং পুলিশের গাড়ি ও এই রেলগেট দিয়ে পারাপার
হয়। প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনসহ ৩২ টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মনুযায়ী একটি ট্রেন ষ্টেশনের পাশের ষ্টপেজে ষ্টেশনে আসা মাত্রই রেলগেট বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর ট্রেনটি রেলগেট অতিক্রম করে ষ্টেশনে পৌছালে রেলগেট খুলে দেওয়া হয় । কিন্ত এই বন্ধ সময়ে রেলগে টের উভয় পাশে শত শত যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়।
এতে অনেক সময় রেলগেটে আটকা পড়ে জরুরী অ্যম্বু লেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।
সরকারি অফিসে যেতে বা স্কুল-কলেজ গামী অনেক শি ক্ষার্থীকে পড়তে হয় দুর্ভোগে। এই রেলগেটের উভয় পাশে আছে ৬ জন গেইটম্যান রয়েছে।
তাঁরা ট্রেন আসা- যাওয়ার সময় বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে সর্তক করেন। আর রেলগেটের পাশেই রয়েছে সুইচ কে বিন। এই অফিস থেকেই রেলগেটকে নিয়ন্ত্রন করা হয়।
এরমধ্যে ও প্রতিনিয়ত ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীদের
প্রাণহানির ঘটনা সহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে বেলা ১০টা এবং বিকেল ৪টায় স্কুলছুটি সময় শিক্ষা র্থীদে র অনেক কষ্টে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলগেট দিয়ে পার হতে হয় ।
শহরের বিপি,উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সিহাব বললেন, গেট বন্ধ হলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে গেট পার হতে হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওলি আহমেদ বলেন মোটরসাইকেল নিয়ে রেল গেটে অনেক সময় ধরে যানজোটের কারনে অপেক্ষা করতে হয় । দেশের অনেক রেল গেটে ফ্লাই ওভার নির্মাণ করা হয়েছে।
কিন্তু এখানে জন গগুরুত্বপূর্ণ হওয়া স্থান হওয়া শর্তেও ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়নি হচ্ছে না।
সান্তাহার জংসন ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার খাদিজা খাতুন বলেন, সবার সাথে আমিও একমত এখানে একটি ফ্লাই ওভার নির্মাণ করা প্রয়োজন এটা নির্মাণে সবাইকে এগি য়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ রেলেওয়ে (পশ্চিম)পাকশি) সিনিয়র প্রকৌ শলী হাসান আলী বলেন, সান্তাহার রেল গেটে একটি ফ্লাইওভার স্থাপন করতে চাইলে রেলওয়ের উদ্ধর্তন কর্তৃ পক্ষ বরাবর আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশ রেল ওয়ে (পশ্চিম) সেতু প্রকৌশলী নাজিবকা য়সার বলেন, দাবিটি যৌক্তিক। কিন্ত যেহেতু এটি বড় প্রক ল্প, সে হেতুএলাকার পৌর কর্তৃপক্ষের সুপারিশ সহ আবে দন করতে হবে প্রধান প্রকৌশলী ( পশ্চিম) বরাবর। আর সান্তাহার পৌর কর্তৃপক্ষ এই ফ্লাইওভার
নির্মাণে অর্থায়ন করেন, সেই ক্ষেত্রে আমরা ফ্লাইওভার নির্মাণ সহায়তা করা হবে।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সান্তাহার পৌর প্র শাসক মাসুদা বেগম বলেন, এটি অনেক দিনের সমস্যা। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনের মাধ্যমে করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমার পক্ষথেকে কিছু করার থাকলে অবশ্যই করবো।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী, মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মামুনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এর আগে কেউ অবগত করেনি তবে রেলগেটটি সরজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে বগুড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আদ মদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মহিত তালুকদার সাথে কথা বললে তিনি বলেন সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন দেশের অম ত্যন্ত পরিচিত একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের নাম এবং বৃহত্তর জংশন ষ্টেশন।
এখানকার রেল গেটে মানুষ পারাপারের একটি বড় সম স্যা। এটি যখন স্থাপিত হয়েছে তখনই এখানে একটি ওভারব্রীজ বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু এতোগুলা বছর পার হলেও সেটি না করার কারনে মানুষ কঠিন দুর্ভাগের শিকার হচ্ছে।
বিগত ১৭ বছর উন্নয়নের দিক থেকে আমাদের বগুড়া জেলাকে বৈষম্য করা হয়েছে।
আগমীতে আমাদের দল ক্ষমতায় গেলে আগামীর বাংলা দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তখন সারাদেশে যে উন্নয়ন হবে সেটি থেকে এটি বাদ পরবেনা। এসমস্যা অবশ্যই সমাধান করা হবে। #
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে