Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
সর্বশেষ:
ঝিনাইদহে মাদক সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে শ্যামনগরের বন্যতলায় খোল‌পেটুয়া নদীর বেড়িবাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, শালিখায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ঠাকুরগাঁওয়ে ১০০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ট্রাকচালক আটক, উদ্ধার বিপুল ইয়াবা মহেশপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মাদকবিরোধী অভিযানে (এক) জন মাদকসেবী গ্রেফতার ও মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড প্রদান নওগাঁয় জামায়াতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর আত্মহত্যা চৌগাছায় হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অমান্য করলে সরকারকে রাজ নৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়ন করে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কৃষক শ্রমিক সাবই মিলে কাজ করতে হবে

গণভোটের রায় অমান্য করলে সরকারকে রাজ নৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

জুলাই সনদের ৫ হাজার ৬৯০ শব্দের মধ্যে বর্ত মান সরকার কয়টি অক্ষর বাস্তবায়ন করেছে, তার হিসাব জনগণ জানতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পা র্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করা হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে জন গণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্ত বতা’ শীর্ষক সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরীর, ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক
মাশরুর ফাহিম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ,এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী।

মঞ্জু বলেন, কোন ভাষায় সমালোচনা করলে কিংবা কী ধর নের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, গালাগালি করবেন না, মারতে উদ্যত হবেন না কিংবা ক্রসফায়ারে দেওয়ার চিন্তা করবেন না,তা আমাদের জানা নেই।

আবার আমাদের প্রতিবাদ যেন কুসুম-কুসুম বিরোধিতা মনে না হয়, কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থানও যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এমন ভাষা ও কর্মসূচি কারও জানা থাকলে আমাদের জানাবেন।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বী কার করার পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারও ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের মতো নেতিবাচক চরিত্রে পরিণত হতে পারে।

এবার আগে সনদ তৈরি হবে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হবে, আগামী গণঅভ্যুত্থান সেই বাস্তবতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারকে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেও য়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বরাদ্দসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, সর কার উল্টো পথে হাঁটছে এবং বাক্‌স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মেজর আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই সরকারের অংশ।

বিরোধী দল কঠোর অবস্থান নিলে সরকার আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে,এমন আশঙ্কায় তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

আইজিপির আইনবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সাফাই গাইছেন।

বিরোধী দল কেবল পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আসার অপে ক্ষায় থেকে কুসুম-কুসুম বিরোধিতা করলে তা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘বানরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠার’ মতো।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি জনযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ ক রে বলেন, সেই জনযুদ্ধে জনগণ বিজয়ী হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয় গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করে বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের আগেই সামাজিক যো গাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে।

আইনটি কার্যকর হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আ শঙ্কা রয়েছে। সরকার সীমারেখা অতিক্রম করে ফ্যাসি বাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পিএসসি, দুদক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো সংস্কার সাধারণ মানুষের স্বার্থেই প্রয়োজন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের বাইরে থেকেও ভবিষ্যতে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকা শ করেন।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফু য়াদ বলেন, জুলাই সনদের কথা বললেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণ জুলাই সনদ বোঝে না। অথচ জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়।

সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের অনুমতি দিতে পা রে না।

অতীতের ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনাগুলো দেশের মানুষকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃ ত্তি ঠেকানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত কর তেই জুলাই সনদের প্রয়োজন। জুলাই গণহত্যার বিচারপ্র ক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফুয়াদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার উত্তরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা একটি মীমাংসিত বিষয়। সেটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়।

গুম, মানবাধিকার ও সাইবার আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যো গের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিএনপিও রয়েছে।

অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে সরকারকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও জনগণের সঙ্গে ওয়াদা বরখেলাপ না করার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকা শের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতু ন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোকে কেন্দ্র করে অতীতে যে রাজনৈ তিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তার পরিণতি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, পুরো জাতিকে ভোগ করতে হয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির বক্তব্য ও বাস্তব অবস্থানের ম ধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কোনো কুমতলব থাকলে তা সফল হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী বলেন, রাজ নৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরি পন্থী হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও বিনিয়োগে অনাগ্রহের পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কার্যকর সংস্কারের অভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থবহ সংস্কার ছাড়া অর্থনীতিতে অগ্রগতি সম্ভব নয়। সং স্কার ছাড়া নির্বাচন হলে দেশ আরও পিছিয়ে পড়বে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রি ন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক পা র্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ঢাকা মহানগ র দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপ ক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থা নবিষয়ক সহসম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মোহসীনুল হক চৌধু রী,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু রাইয়ান আশয়ারী রছী এবং হাতিরঝিল থানার আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

About Author Information

Popular Post

ঝিনাইদহে মাদক সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গণভোটের রায় অমান্য করলে সরকারকে রাজ নৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

Update Time : One hour ago

জুলাই সনদের ৫ হাজার ৬৯০ শব্দের মধ্যে বর্ত মান সরকার কয়টি অক্ষর বাস্তবায়ন করেছে, তার হিসাব জনগণ জানতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পা র্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করা হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে জন গণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্ত বতা’ শীর্ষক সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরীর, ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক
মাশরুর ফাহিম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ,এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী।

মঞ্জু বলেন, কোন ভাষায় সমালোচনা করলে কিংবা কী ধর নের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, গালাগালি করবেন না, মারতে উদ্যত হবেন না কিংবা ক্রসফায়ারে দেওয়ার চিন্তা করবেন না,তা আমাদের জানা নেই।

আবার আমাদের প্রতিবাদ যেন কুসুম-কুসুম বিরোধিতা মনে না হয়, কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থানও যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এমন ভাষা ও কর্মসূচি কারও জানা থাকলে আমাদের জানাবেন।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বী কার করার পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারও ইতিহাসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের মতো নেতিবাচক চরিত্রে পরিণত হতে পারে।

এবার আগে সনদ তৈরি হবে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হবে, আগামী গণঅভ্যুত্থান সেই বাস্তবতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারকে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেও য়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বরাদ্দসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, সর কার উল্টো পথে হাঁটছে এবং বাক্‌স্বাধীনতা হরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মেজর আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই সরকারের অংশ।

বিরোধী দল কঠোর অবস্থান নিলে সরকার আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে,এমন আশঙ্কায় তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

আইজিপির আইনবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সাফাই গাইছেন।

বিরোধী দল কেবল পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আসার অপে ক্ষায় থেকে কুসুম-কুসুম বিরোধিতা করলে তা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘বানরের তৈলাক্ত বাঁশে ওঠার’ মতো।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি জনযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ ক রে বলেন, সেই জনযুদ্ধে জনগণ বিজয়ী হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয় গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করে বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের আগেই সামাজিক যো গাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে।

আইনটি কার্যকর হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আ শঙ্কা রয়েছে। সরকার সীমারেখা অতিক্রম করে ফ্যাসি বাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পিএসসি, দুদক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো সংস্কার সাধারণ মানুষের স্বার্থেই প্রয়োজন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের বাইরে থেকেও ভবিষ্যতে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকা শ করেন।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফু য়াদ বলেন, জুলাই সনদের কথা বললেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণ জুলাই সনদ বোঝে না। অথচ জনগণ বিচার ও সংস্কার চায়।

সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের অনুমতি দিতে পা রে না।

অতীতের ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনাগুলো দেশের মানুষকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃ ত্তি ঠেকানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত কর তেই জুলাই সনদের প্রয়োজন। জুলাই গণহত্যার বিচারপ্র ক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফুয়াদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার উত্তরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা একটি মীমাংসিত বিষয়। সেটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়।

গুম, মানবাধিকার ও সাইবার আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যো গের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিএনপিও রয়েছে।

অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে সরকারকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও জনগণের সঙ্গে ওয়াদা বরখেলাপ না করার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকা শের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতু ন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোকে কেন্দ্র করে অতীতে যে রাজনৈ তিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তার পরিণতি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, পুরো জাতিকে ভোগ করতে হয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির বক্তব্য ও বাস্তব অবস্থানের ম ধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কোনো কুমতলব থাকলে তা সফল হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী বলেন, রাজ নৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরি পন্থী হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও বিনিয়োগে অনাগ্রহের পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কার্যকর সংস্কারের অভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থবহ সংস্কার ছাড়া অর্থনীতিতে অগ্রগতি সম্ভব নয়। সং স্কার ছাড়া নির্বাচন হলে দেশ আরও পিছিয়ে পড়বে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রি ন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক পা র্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ঢাকা মহানগ র দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপ ক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থা নবিষয়ক সহসম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মোহসীনুল হক চৌধু রী,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু রাইয়ান আশয়ারী রছী এবং হাতিরঝিল থানার আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।