Dhaka , Sunday, 1 November 2026
সর্বশেষ:
গণভোটের গণরায়কে সরকার অপমান করেছে: আমীরে জামায়াত ডা.শফিকুর রহমান পাটকেলঘাটায় বাসের চাকা পিষ্ট  হয়ে পথচারী এক বৃদ্ধ নিহত  চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের আইইএস বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, মাদক নির্মূলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন চৌগাছা থানার নবাগত ওসি কাজী বাবুল ব্রিটিশবিরোধী থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: আমৃত্যু লড়াকু কমরেড কামাখ্যা প্রসাদ রায় চৌধুরী চাঁদগ্রামে ফ্যাসিবাদী আ’লীগের দোসর গিয়াসউদ্দিন সোনার পুনর্বাসন ঠেকাতে এলাকাবাসীর হুঁশিয়ার তানোরে সালিস বাণিজ্যর অভিযোগ  সাতক্ষীরায় এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক শিক্ষার্থী  ঝিকরগাছায় এইচএসসি ফলাফল  এবারও উপজেলার শীর্ষে সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ ঝিনাইদহে দিনব্যাপী কারাতে সেমিনার ও বেল্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

চৌগাছায় ধানেও মিলছে আর্সেনিক : অতিরিক্ত আর্সেনিকের কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে উপজেলার মানুষ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানব দেহের জন্য আর্সেনিকের সর্ব্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলি গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে।

বাংলাদেশে পানীয় জলের সরকা রি মানদ-ে ০.০৫ মিলিগ্রাম সহনীয় মাত্রা ধরা হয়।

কিন্তু একটি উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি বিদ্য মান। পানির ক্ষেত্রে আর্সেনিকের ভয়াবহতার জন্য প্রতিনিয় ত চলছে যুদ্ধ।

এই পরিস্থিতির মধ্যে ধানে সহনশীল মাত্রার চেয়ে অধিক মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এথেকে পরিত্রণের জন্য জাপানের জাইকা ও জেএসটি’র কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বে-সরকারি সংস্থা এশিয়া আ র্সেনিক নেটওয়ার্ক সেচ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে আর্সেনিক মুক্ত ধান উৎপাদনে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তথ্য সূত্রে জানাগেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা সিএসি (কোডেক্স
অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন) কর্তৃক ঘোষনা অনুযায়ী ধানের ক্ষেত্রে আর্সেনিকের সহনশীল মাত্রা ধরা হয় ০.৩৫ পিপিএম। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর না।

অথচ অত্র উপজেলাতে এই মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমান আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ধান ও ভাতে আর্সে নিকের উপস্থিতি সহনশীল রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রনের বিকল্প নে ই।

তারা থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজানো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করছেন। এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বা কৃ বি)। নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ) প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা ও জেএসটি (জাপান সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি) এর কারিগরি ও আ র্থি ক সহযোগিতায় অত্র উপজেলায় আর্সেনিক সহনশীল মা ত্রা য় নিরাপদ ধান উৎপাদনে কাজ করছে সংস্থাটি।

উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌর সভার বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মডেল প্লট তৈরি করা হয়েছে।

পৌরসভার হুদোপাড়া, চৌগাছা ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, সিং হঝুলী ইউনিয়নের মাজালি, ফুলসারা ইউনিয়নের আ ড়ার দহ, জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়–য়া, পাতিবিলা ইউনি য় নের সাদিপুর, হাকিমপুর ইউনিয়নের বকশিপুর,নারায়নপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের স্বরুপদাহ,
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া ও পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মাঠে ধা নে আর্সেনিক প্রতিরোধে প্লট তৈরি করা হয়েছে।

সেখানে ১৪৪ জন কৃষক এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে ন। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিকদের অধীনে তাদের নিজ উদোগে আর্সে নিক মুক্ত ধান উৎপাদনে থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজা নো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি আগামী ইরি-বোরো মৌসু মে ব্যবহার করবেন।

ইতোমধ্যে তাদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সংস্থার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আমিরুল ইসলাম জানান, আমাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর চাল দিয়ে ভাত খেতে হবে। সে কারনে আর্সেনিক মুক্ত বা সহনশীল মাত্রায় ধান উৎপাদন ক রা জরুরী।

তিনি বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে ধানের আবাদি জমিতে পানির ব্যবহার নিয় ন্ত্রন করা। এটা করতে কৃষক পদ্ধতি ও ত্রিএফফোরডি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হচ্ছে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৮ শতাংশ বেশী ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ইরি-বোরো মৌসুমে উ পরিভাগে সেচ পাম্পেরমাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়।

ভূগর্ভস্থ পানির পরিমান কমে গেলে আর্সেনিকের ঘনোত্ব বেড়ে যায়। ফলে ধানে অধিক পরিমান আর্সেনিক থাকার ঝুঁকি থাকে।

এই পদ্ধতির মূল কাজ হলো প্রচলিত জলাবদ্ধতার পরিবর্তে ৩ দিন জমিতে পানি ধরে রেখে ৪ দিন শুকানো।

এতে মাটির রেডক্স পটেনশিয়াল বেড়ে অক্সিডেটিভ পরিবেশ
তৈরি হয়। সেকারনে ধান গাছের আর্সেনিক শোষণ কমে যা য়।

একই সাথে চালে অজৈব আর্সেনিক মাত্রা উল্লেখযোগভাবে হ্রাস পায়। আড়ারহদ গ্রামের প্লটের কৃষক ইমদাদুল হক ও মাজালি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান তপন জানান, ধানে আর্সেনিক থাকতে পারে তা আগে কখনো ধারনা ছিল না।

আমরা ধানের জমিতে যেভাবে পানি দিতাম এখন সেভাবে দিইনা। আমরা থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজানো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফের দৌসী খাতুন জানান, ধান বা চালে আর্সেনিকের বিষয়ে সর কারী কোন উদ্যোগ নেই। তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রনে সরকারি উদ্যোগ আছে।

আমরা বর্তমানে ১১টি ইউনিয়নে ৯০ টি অগভীর নলকুপ দিয়েছি। নলকুপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারে পাঠাচ্ছি। যেখনে আর্সেনিকের মাত্রা বেশী পা চ্ছি, সেখানে পানি পরিশোধনের ভ্যাসেল দিচ্ছি।

তিনি বলেন অত্র উপজেলা আর্সেনিকের আধিক্য রয়েছে। বিগত রিপোর্টে গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহ সাননুল মিজান রুমী জানান, আর্সেনিকের রোগীর সংখ্যা বিষয়ে আপডেট তথ্য নেই।

তবে ইতোপূর্বে বিভিন্ন জরিপে আমরা জানতে পারি উপজে লায় আর্সেনিক রোগী আছে ১৫’শ। উপজেলা হাসপাতালে এখনো রোগীরা আসছেন।

তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করলে রোগ ভাল হওয়া সম্ভব। এই রোগ অবহেলা করা
উচিৎ না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম জানান, ধানে আর্সেনিকের বিষয়ে একটি সংস্থা কাজ করছে বলে জেনে ছি।

এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোন উদ্যোগ শুরু হয়নি। পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রনের জন্য অসভীর নলকুপ দেয়া হচ্ছে।

নলকুপে আর্সেনিক ধরা পড়লে পানি শোধনে সরকারিভাবে
ভ্যাসেল দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দি নের। আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। পানি ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।

 

About Author Information

গণভোটের গণরায়কে সরকার অপমান করেছে: আমীরে জামায়াত ডা.শফিকুর রহমান

চৌগাছায় ধানেও মিলছে আর্সেনিক : অতিরিক্ত আর্সেনিকের কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে উপজেলার মানুষ

Update Time : 18 Hours Ago

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানব দেহের জন্য আর্সেনিকের সর্ব্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলি গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে।

বাংলাদেশে পানীয় জলের সরকা রি মানদ-ে ০.০৫ মিলিগ্রাম সহনীয় মাত্রা ধরা হয়।

কিন্তু একটি উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি বিদ্য মান। পানির ক্ষেত্রে আর্সেনিকের ভয়াবহতার জন্য প্রতিনিয় ত চলছে যুদ্ধ।

এই পরিস্থিতির মধ্যে ধানে সহনশীল মাত্রার চেয়ে অধিক মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এথেকে পরিত্রণের জন্য জাপানের জাইকা ও জেএসটি’র কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বে-সরকারি সংস্থা এশিয়া আ র্সেনিক নেটওয়ার্ক সেচ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে আর্সেনিক মুক্ত ধান উৎপাদনে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তথ্য সূত্রে জানাগেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা সিএসি (কোডেক্স
অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন) কর্তৃক ঘোষনা অনুযায়ী ধানের ক্ষেত্রে আর্সেনিকের সহনশীল মাত্রা ধরা হয় ০.৩৫ পিপিএম। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর না।

অথচ অত্র উপজেলাতে এই মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমান আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ধান ও ভাতে আর্সে নিকের উপস্থিতি সহনশীল রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রনের বিকল্প নে ই।

তারা থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজানো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করছেন। এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বা কৃ বি)। নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ) প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা ও জেএসটি (জাপান সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি) এর কারিগরি ও আ র্থি ক সহযোগিতায় অত্র উপজেলায় আর্সেনিক সহনশীল মা ত্রা য় নিরাপদ ধান উৎপাদনে কাজ করছে সংস্থাটি।

উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌর সভার বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মডেল প্লট তৈরি করা হয়েছে।

পৌরসভার হুদোপাড়া, চৌগাছা ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, সিং হঝুলী ইউনিয়নের মাজালি, ফুলসারা ইউনিয়নের আ ড়ার দহ, জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়–য়া, পাতিবিলা ইউনি য় নের সাদিপুর, হাকিমপুর ইউনিয়নের বকশিপুর,নারায়নপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের স্বরুপদাহ,
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া ও পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মাঠে ধা নে আর্সেনিক প্রতিরোধে প্লট তৈরি করা হয়েছে।

সেখানে ১৪৪ জন কৃষক এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে ন। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিকদের অধীনে তাদের নিজ উদোগে আর্সে নিক মুক্ত ধান উৎপাদনে থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজা নো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি আগামী ইরি-বোরো মৌসু মে ব্যবহার করবেন।

ইতোমধ্যে তাদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সংস্থার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আমিরুল ইসলাম জানান, আমাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর চাল দিয়ে ভাত খেতে হবে। সে কারনে আর্সেনিক মুক্ত বা সহনশীল মাত্রায় ধান উৎপাদন ক রা জরুরী।

তিনি বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে ধানের আবাদি জমিতে পানির ব্যবহার নিয় ন্ত্রন করা। এটা করতে কৃষক পদ্ধতি ও ত্রিএফফোরডি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হচ্ছে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৮ শতাংশ বেশী ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ইরি-বোরো মৌসুমে উ পরিভাগে সেচ পাম্পেরমাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়।

ভূগর্ভস্থ পানির পরিমান কমে গেলে আর্সেনিকের ঘনোত্ব বেড়ে যায়। ফলে ধানে অধিক পরিমান আর্সেনিক থাকার ঝুঁকি থাকে।

এই পদ্ধতির মূল কাজ হলো প্রচলিত জলাবদ্ধতার পরিবর্তে ৩ দিন জমিতে পানি ধরে রেখে ৪ দিন শুকানো।

এতে মাটির রেডক্স পটেনশিয়াল বেড়ে অক্সিডেটিভ পরিবেশ
তৈরি হয়। সেকারনে ধান গাছের আর্সেনিক শোষণ কমে যা য়।

একই সাথে চালে অজৈব আর্সেনিক মাত্রা উল্লেখযোগভাবে হ্রাস পায়। আড়ারহদ গ্রামের প্লটের কৃষক ইমদাদুল হক ও মাজালি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান তপন জানান, ধানে আর্সেনিক থাকতে পারে তা আগে কখনো ধারনা ছিল না।

আমরা ধানের জমিতে যেভাবে পানি দিতাম এখন সেভাবে দিইনা। আমরা থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জমি ভেজানো, ৪ দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফের দৌসী খাতুন জানান, ধান বা চালে আর্সেনিকের বিষয়ে সর কারী কোন উদ্যোগ নেই। তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রনে সরকারি উদ্যোগ আছে।

আমরা বর্তমানে ১১টি ইউনিয়নে ৯০ টি অগভীর নলকুপ দিয়েছি। নলকুপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারে পাঠাচ্ছি। যেখনে আর্সেনিকের মাত্রা বেশী পা চ্ছি, সেখানে পানি পরিশোধনের ভ্যাসেল দিচ্ছি।

তিনি বলেন অত্র উপজেলা আর্সেনিকের আধিক্য রয়েছে। বিগত রিপোর্টে গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহ সাননুল মিজান রুমী জানান, আর্সেনিকের রোগীর সংখ্যা বিষয়ে আপডেট তথ্য নেই।

তবে ইতোপূর্বে বিভিন্ন জরিপে আমরা জানতে পারি উপজে লায় আর্সেনিক রোগী আছে ১৫’শ। উপজেলা হাসপাতালে এখনো রোগীরা আসছেন।

তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করলে রোগ ভাল হওয়া সম্ভব। এই রোগ অবহেলা করা
উচিৎ না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম জানান, ধানে আর্সেনিকের বিষয়ে একটি সংস্থা কাজ করছে বলে জেনে ছি।

এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোন উদ্যোগ শুরু হয়নি। পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রনের জন্য অসভীর নলকুপ দেয়া হচ্ছে।

নলকুপে আর্সেনিক ধরা পড়লে পানি শোধনে সরকারিভাবে
ভ্যাসেল দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দি নের। আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। পানি ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।