: ঝিনাইদ হের মহেশপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপপ্রচার চালানোর হুমকি এবং ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ কর ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারের নিকটবর্তী খালিশপুর–কোটচাঁদপুর মহাসড়কের পাশে বজরাপুর নামক স্থানে অবস্থিত ‘ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কশপ’ (লেদ)
ও পুরাতন ট্রাক্টর ক্রয়-বিক্রয়, মেরামত এবং ভাড়ায় পরিচা লিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ৪-৫ দিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান।
মালিকপক্ষ তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র দেখালেও, পরে ক্রয়কৃত একটি ট্রাক্টরের কাগজপত্রে ইঞ্জিন নম্বরের একটি সংখ্যায় ভুল বা অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তিরা।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
একপর্যায়ে অন্য একজন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যসংবলিত ভিডিও প্রচার করা হয়ে ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে লেদ ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ ও তাঁর ছেলে মো. সু মন মিয়া জানান, তাঁরা প্রচলিত আইন ও সরকারি নিয়ম নীতি মেনে নিজেদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিজস্ব জমিতে বৈধভাবে লেদ মেশিন স্থাপন করেছেন।
সেখানে দক্ষ মিস্ত্রিদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে লেদের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করে আসছেন। তদন্ত করলেই তাঁদের ব্যব সার বৈধতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে তাঁরা দাবি করেন।
আমান উল্লাহর ছেলে মো. সুমন মিয়া জানান, গত ৭-৮ বছর ধরে তিনি পুরাতন ট্রাক্টর ক্রয়-বিক্রয়, মেরামত ও ভাড়ায় প রিচালনার ব্যবসা করে আসছেন।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করে পুরাতন ট্রাক্টর কিনে এনে প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে সেগু লো বিক্রি ও ভাড়ায় ব্যবহার করে থাকেন।
সুমন মিয়ার অভিযোগ, প্রায় পাঁচ দিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে এসে ট্রেড লাই সেন্সসহ ব্যবসার বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন।
পরে এসব কাগজপত্র ভুয়া বলে সংবাদ প্রচারের ভয় দেখি য়ে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাঁরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বি রুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও প্রচার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভা বে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আ ইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সুমন মিয়া। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহ যোগিতা কামনা করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকা বাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে লেদ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশা সনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যব সায়ীরা।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) 


















