Dhaka , Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ:
ঈশ্বরদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটতে জনবল সংকট,চিকিৎসাসেবা ব্যাহত যশোরে কিশোর স্বাধীন হত্যাকারীদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমার দেশ কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এবি পার্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পুলিশকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই:এবি পার্টি গোপালগঞ্জে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক ঝিকরগাছা মহিলা মাদ্রাসায় ছাত্রী নিপীড়নের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার দায়ে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের মৃত্যুদন্ড ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের ইন্তেকাল

সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার দায়ে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের মৃত্যুদন্ড

সাতক্ষীরায়  যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বি রোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এক জো নাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কা লিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপ জেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কা লিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়।
একপর্যায়  আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য আরো কিছু টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্বামী -স্ত্রীর মধ্যে বি রোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর সন্তানকে নিয়ে বা বার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবা রের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন।
পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাত নি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন বাদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি আব্দুর রউফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালি য়ে যায়।
পরে পুলিশ তদন্ত করে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে প্রেরিত হলে বিচা রক মামলার নথি ও ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
একই সাথে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।
তিনি বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি ক রেছিল।
আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবা রের ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সং শ্লিষ্টরা।

One thought on “সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার দায়ে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের মৃত্যুদন্ড”

  1. সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার দায়ে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের মৃত্যুদন্ড

Comments are closed.

About Author Information

Popular Post

ঈশ্বরদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় মা-মেয়ে হত্যার দায়ে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের মৃত্যুদন্ড

Update Time : 11 Hours Ago
সাতক্ষীরায়  যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বি রোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এক জো নাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কা লিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপ জেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কা লিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়।
একপর্যায়  আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য আরো কিছু টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্বামী -স্ত্রীর মধ্যে বি রোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর সন্তানকে নিয়ে বা বার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবা রের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন।
পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাত নি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন বাদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি আব্দুর রউফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালি য়ে যায়।
পরে পুলিশ তদন্ত করে আসামি আব্দুর রউফ সরদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি বিচারের জন্য উক্ত আদালতে প্রেরিত হলে বিচা রক মামলার নথি ও ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
একই সাথে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।
তিনি বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি ক রেছিল।
আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবা রের ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সং শ্লিষ্টরা।