মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোংলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিউজিল্যান্ডপ্রবাসী এক তরুণীর পরিবারকে ঘিরে হামলা, ভাংচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একাধিকবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোংলা উপজেলার কেওড়াতলা এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর রেজিস্ট্রিকৃতভাবে তার কন্যা সান জিদা ইসলাম সাবার নামে একটি জমি লিখে দেন।
পরে পারিবারিক প্রয়োজনে সাবা ওই জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তার বাবার কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর থেকেই একটি প্রভাবশালী পক্ষ জমিটি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডি নং-৬১৪।
সেখানে সানজিদা ইসলাম সাবা উল্লেখ করেন, অভিযু ক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনা শের হুমকি দিচ্ছে।
জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে কেওড়াতলা এলাকার মো. মজিবর রহমান খাঁ, তার ছেলে মো. নয়ন খাঁ, স্ত্রী সবুরুন বেগম এবং আফজাল শিকারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা একাধিকবার জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখল ও ঘরবাড়ি নির্মাণের পাঁয় তারা করে। এতে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই অভিযুক্ত রা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এতে সানজিদা ইসলাম সাবা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মোংলা ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি নিজে থানায় যেতে না পারায় তার বাবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ৩০ জুলাই ২০২৪ তারিখে আরেকটি জিডি করেন।
পরিবারটির অভিযোগ, ঘটনার পর জীবন বাঁচাতে সান জিদা ইসলাম সাবা দ্রুত নিউজিল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে আশ্রয় আবেদন করেন।
কিন্তু এরপরও অভিযুক্তদের হুমকি ও হামলা বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৫ সালের ১৫ ও ১৬ মার্চ পুনরায় তার শ্বশুর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, অভিযুক্তরা শুধু জমি দখলে র চেষ্টাই করেনি, বরং নুরুল ইসলামের ওপরও একাধিক বার প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়েছে।
তারা বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভাংচুর এবং হামলা র ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে আরও একটি জিডি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা পুনরায় ওই জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করে।
এ সময় নুরুল ইসলামের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে— “সানজিদা ইসলাম সাবা বিদেশে থাকায় তারা যা খুশি তাই করবে।”
এমন বক্তব্যে পরিবারটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ছে। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাভা বিক চলাফেরাও করতে পারছেন না।
সানজিদা ইসলাম সাবা তার জিডিতে আরও উল্লেখ করে ন, অভিযুক্তদের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও তিনি নিরাপদ থাকতে পারেননি।
তাদের লোকজন সেখানে গিয়েও ভয়ভীতি ও হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।#

Reporter Name 



















