Dhaka , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন

‌ শেখ মাহতাব হোসেন,ডুমুরিয়া:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে নদী খন নের একটি প্রধান বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

আজ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে খর্নিয়া ইউনি য়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রানাই গ্রামের মেরি ভাটা সংলগ্ন এলাকায় এই আকস্মিক বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী খনন কাজের অংশ হিসেবে তৈরি করা বড় বেড়িবাঁধটি হঠাৎ ভেঙে যাওয়ায় তীব্র বে গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বাঁধ ভাঙার ফলে মুহূর্তের মধ্যে

এলাকার বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে হতদ রিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চাষীরা।

সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ: বাঁধ ভাঙার পরপরই চরম সংকটে পড়া গ্রামবাসী দ্রুত বাংলা দেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী কালবিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সেনা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি নিয় ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন এবং পানির তীব্র চাপ কমাতে নদীর মূল বাঁধ কাটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

একই সাথে ভাঙন কবলিত স্থানটি সুনির্দিষ্টভাবে পরি  দর্শন করে দ্রুত বাঁধটি বেঁধে দেওয়ার (মেরামত) তৎপরতা শুরু করেন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে কৃষি ও মৎস্য খাত:নোনা ও নদীর পানি হু হু করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, “হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় খর্নিয়া এলা কার কয়েকশত একর জমির সবজি ও উঠ তি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আমরা উপ-সহ কারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যা য়ে ক্ষয় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ শুরু করেছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণো দনাসহ পরবর্তী চাষাবাদের জন্য সব ধরনের কারিগরি ও সহ যোগিতা নিশ্চিত করা হবে।”

সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার মৎস্য খাত। পানি দ্রুত বিল সিংগার দিকে ধাবিত হওয়ায় হাজার হা দেখলাম জার মৎস্য ঘের এখন চরম হুমকির সম্মুখীন।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “বাঁধ ভাঙার ফলে রানাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মাছের ঘের ও ভেড়ি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে চাষী দের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বিল সিংগার দিকে পানি ছড়াতে থাকায় সেখানকার বিশা ল মৎস্য জোনও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঘেরের চারপাশে নেট বা পাটা দিয়ে মাছ যেন ভেসে না যায়, সে বিষয়ে চাষীদের প্রয়ো জনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতা:

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএ নও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “খর্নিয়ার রানাই এলাকা য় বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা স্থানীয় প্রশা সন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগা যোগ করি।

সেনাবাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “নদী খনন কাজের সময় পানির অতিরিক্ত চাপ বা কোনো টেকনিক্যাল কারণে বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দেয়।

সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নদীর মূল বাঁধ কাটার মাধ্যমে পানির তীব্রতা কমানোর চেষ্টা চলছে। ভাঙন কবলিত স্থানটি আমরা পরিদর্শন করেছি এবং অতি দ্রুত বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং ও মাটি কাটার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সর ঞ্জাম নিয়োজিত করা হয়েছে।”

জনগণের কৃতজ্ঞতা:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে এত বড় বিপর্যয় আসায় তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সত্য, তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জাদুকরী ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক ও তড়িৎ ব্যবস্থা নেও য়ার জন্য খর্নিয়াবাসী ও সর্বস্তরের জনগণ বাংলা দেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন।

 

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন

Update Time : 07:07 am, Sunday, 12 July 2026

‌ শেখ মাহতাব হোসেন,ডুমুরিয়া:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে নদী খন নের একটি প্রধান বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

আজ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে খর্নিয়া ইউনি য়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রানাই গ্রামের মেরি ভাটা সংলগ্ন এলাকায় এই আকস্মিক বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী খনন কাজের অংশ হিসেবে তৈরি করা বড় বেড়িবাঁধটি হঠাৎ ভেঙে যাওয়ায় তীব্র বে গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বাঁধ ভাঙার ফলে মুহূর্তের মধ্যে

এলাকার বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে হতদ রিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চাষীরা।

সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ: বাঁধ ভাঙার পরপরই চরম সংকটে পড়া গ্রামবাসী দ্রুত বাংলা দেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী কালবিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সেনা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি নিয় ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন এবং পানির তীব্র চাপ কমাতে নদীর মূল বাঁধ কাটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

একই সাথে ভাঙন কবলিত স্থানটি সুনির্দিষ্টভাবে পরি  দর্শন করে দ্রুত বাঁধটি বেঁধে দেওয়ার (মেরামত) তৎপরতা শুরু করেন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে কৃষি ও মৎস্য খাত:নোনা ও নদীর পানি হু হু করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, “হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় খর্নিয়া এলা কার কয়েকশত একর জমির সবজি ও উঠ তি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আমরা উপ-সহ কারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যা য়ে ক্ষয় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ শুরু করেছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণো দনাসহ পরবর্তী চাষাবাদের জন্য সব ধরনের কারিগরি ও সহ যোগিতা নিশ্চিত করা হবে।”

সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার মৎস্য খাত। পানি দ্রুত বিল সিংগার দিকে ধাবিত হওয়ায় হাজার হা দেখলাম জার মৎস্য ঘের এখন চরম হুমকির সম্মুখীন।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “বাঁধ ভাঙার ফলে রানাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মাছের ঘের ও ভেড়ি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে চাষী দের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বিল সিংগার দিকে পানি ছড়াতে থাকায় সেখানকার বিশা ল মৎস্য জোনও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঘেরের চারপাশে নেট বা পাটা দিয়ে মাছ যেন ভেসে না যায়, সে বিষয়ে চাষীদের প্রয়ো জনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতা:

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএ নও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “খর্নিয়ার রানাই এলাকা য় বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা স্থানীয় প্রশা সন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগা যোগ করি।

সেনাবাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “নদী খনন কাজের সময় পানির অতিরিক্ত চাপ বা কোনো টেকনিক্যাল কারণে বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দেয়।

সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নদীর মূল বাঁধ কাটার মাধ্যমে পানির তীব্রতা কমানোর চেষ্টা চলছে। ভাঙন কবলিত স্থানটি আমরা পরিদর্শন করেছি এবং অতি দ্রুত বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং ও মাটি কাটার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সর ঞ্জাম নিয়োজিত করা হয়েছে।”

জনগণের কৃতজ্ঞতা:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে এত বড় বিপর্যয় আসায় তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সত্য, তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জাদুকরী ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক ও তড়িৎ ব্যবস্থা নেও য়ার জন্য খর্নিয়াবাসী ও সর্বস্তরের জনগণ বাংলা দেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন।