, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধের জেরে ফরি দপুরের ভাঙ্গায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় সানি (১৭) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভাঙ্গা উপজেলার কৌডুবী সদরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৌডুবী সদরদী এলাকার হযরত ফাতিমাতুয যাহরা (রাযিঃ) মহিলা মাদ্রাসার সামনে সড় কে স্থানীয় শিশুরা ফুটবল খেলছিল।
খেলার সময় বল বারবার মাদ্রাসার ভেতরে গিয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ১১ বছর বয়সী জিসানের সঙ্গে মাদ্রাসার শি ক্ষক মনির বেপারীর কথা-কাটাকাটি হয়।
ঘটনায় আহত আলমগীর বেপারী বলেন, “বাচ্চারা মাদ্রা সার সামনে ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় বল মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ায় জিসানের সঙ্গে হুজুরের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে জিসানকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে তার বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন সেখানে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিসানকে ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি জানাজানি হলে তার বাবা বসার মাতুব্বর ও পরি বারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সংঘর্ষে মনিরুজ্জামান (৩৫), আলমগীর মাতুব্বরসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রের জানা যায়, গুরুতর আহত সানি (১৭)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার দিকে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করছে বলে জানা গেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ফুটবল খেলা নিয়ে শুরু হও য়া বিষয়টি এত বড় সংঘর্ষে রূপ নেবে, তা কেউ ধারণা করতে পারেনি।
একটি শিশুকে নিয়ে বিষয়টি শুরু হলেও পরে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদ ন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
আরেক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “এলাকায় এমন ঘটনা কো নোভাবেই কাম্য নয়।
ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন তরুণের প্রাণ চলে গেছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হলেও এর পেছনে পূর্ববিরোধ বা স্থানীয় আধিপত্যের কোনো বিষয় রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষে আহত ও নিহতের বিষয়টি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংঘর্ষের পর কৌডুবী সদরদী এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলি শ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Reporter Name 



















