Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ীরা কেজিতে খরচ ১৯–২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বরং হিমাগার ভাড়া, পরিব হনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন ও সংরক্ষণ-পরবর্তী খরচ দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা।

অথচ বর্তমানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগারে মজুত আলু বিক্রি করতে না পেরে বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে দাম বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংর ক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আ রমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়ার আশায় তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন।

ভেবেছিলেন, দাম বাড়লে সংরক্ষণের খরচ উঠে কিছুটা লাভ হবে। কিন্তু হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কে জি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা।

এখন সেই আলু ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তাকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলে ন, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

আলুর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বাজারে আসার কথা থাকলেও চাহিদা কম থাকায় বিক্রি হচ্ছে ধীরগতিতে।

তার দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে মজুত রয়েছে। দ্রুত এসব আলু বাজারজাত করা না গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমি তে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।

জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে।

বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় হিমাগার মালিকেরাও চিন্তিত। হিমাগার থে কে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকেরা জানান, হিমাগারে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফলে আলুর বাজারে মন্দার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষও আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন।

কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষ ক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করা গেলে হিমাগারে মজুত আলু বিক্রির সুযোগ বাড়বে।

এতে বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ক্ষ তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

 

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ীরা কেজিতে খরচ ১৯–২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়

Update Time : 08:45 pm, Saturday, 10 October 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বরং হিমাগার ভাড়া, পরিব হনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন ও সংরক্ষণ-পরবর্তী খরচ দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা।

অথচ বর্তমানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগারে মজুত আলু বিক্রি করতে না পেরে বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে দাম বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংর ক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আ রমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়ার আশায় তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন।

ভেবেছিলেন, দাম বাড়লে সংরক্ষণের খরচ উঠে কিছুটা লাভ হবে। কিন্তু হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কে জি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা।

এখন সেই আলু ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তাকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলে ন, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

আলুর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বাজারে আসার কথা থাকলেও চাহিদা কম থাকায় বিক্রি হচ্ছে ধীরগতিতে।

তার দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে মজুত রয়েছে। দ্রুত এসব আলু বাজারজাত করা না গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমি তে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।

জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে।

বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় হিমাগার মালিকেরাও চিন্তিত। হিমাগার থে কে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকেরা জানান, হিমাগারে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফলে আলুর বাজারে মন্দার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষও আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন।

কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষ ক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করা গেলে হিমাগারে মজুত আলু বিক্রির সুযোগ বাড়বে।

এতে বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ক্ষ তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।