Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

যশোরে রস-গুড়ের মৌসুমের খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

শীতের আমেজ আসতে না আসতেই খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার গাছিরা। এভাবে প্রস্তুতি চলছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মহেশপুর, কোটচাঁ দপুর, কালিগঞ্জ, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা, শার্শা, কেশবপুর ও বাঘারপাড়া সহ বৃহত্তর যশোর জেলা।
আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে খেজুরগাছের পরিচর্যা, শুকনো পাতা পরিষ্কার ও ‘বেগো কাটা’র মাধ্যমে গাছকে রস সংগ্র হের উপযোগী করে তুলছেন তাঁরা।
শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেন ঐতিহ্যবাহী যশো রের জস খেজুরের রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে।
চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের গাছি আসাদুল ইস লাম ( আশা )।
বয়স ৫০ বছরের বেশি। বাবা মৃত আয়তাল হক। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহ ও সেই রস থেকে গুড় তৈরি করে আসছেন তিনি।
অভিজ্ঞ এই গাছি জানান, আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই খেজুরগাছের পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের প্রাথমিক কাজ শুরু করেন তাঁরা।
রাস্তার ধারে ধারে সাড়ি বাঁধা গাছে গাছে, গাছি যখন রস বের করতে ব্যাস্ত পরিচর্যায় কাজে। ব্যস্ত গাছিকে দেখতে যেন এক অপরূপ লাগে।
সৌন্দর্যের এই প্রতিক যেন শীতকালীন ঋতুকে সে স্বাগতিক হিসেবে, স্বাগতম জানাচ্ছে তার গাছ পরিচর্যা মাধ্যমে ।
একজন অভিজ্ঞ গাছি আসাদুল ইসলাম (আশা ) বলেন, ‘আ শ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে গাছের শুকনো পাতা পরিষ্কার করে বেগো কাটার কাজ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে গাছ রস দেওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কার্তিক মাস থেকে রস সংগ্রহ শুরু করা যায়। একটানা চৈত্র মাস পর্যন্ত রস সংগ্রহের সুযো গ থাকে।’ তবে অনেকেই একটু দেরিতে করাই পুরো কার্তিক মাসটায় গাছ পরিচর্যায় কাটিয়ে দেয়।
একই গ্রামের আরো অভিজ্ঞ গাছিরা হলেন আইনাল হক ওরফে পুটকে, আমজে দ হোসেন, শরিফুল ইসলাম শরি, ইনতা প্রমুখ।
গ্রামবাংলার শীতের সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের সম্পর্ক বহুদিনের। ভোরের আলো ফোটার আগে গাছ থেকে হাঁড়িভ র্তি রস নামানো, সেই রস জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু গুড় তৈরি সব মিলিয়ে গাছিদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে শীতের গ্রামীণ জনপদ।
সকাল সাজে, ঘুম থেকে উঠে, রসের আনাগোনা দেখতে, রাস্তাঘাটে খুব ভালোই লাগে।  খেজুরের কাঁচা রস, ঝোলা গুড়, পাটালি ও নানা ধরনের পিঠাপুলির স্বাদে শীতের আন ন্দও যেন পূর্ণতা পায়।
খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য দেশজুড়ে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে যশোরের। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সুনাম দীর্ঘদিনের। যশোরের খেজুরের গুড় ভৌগো লিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এ ঐতিহ্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের শ্রম ও অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। বছরের পর বছর গাছ পরিচর্যা, নির্দিষ্ট সময়ে বেগো কাটা, রস সংগ্রহ এবং তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির প্র তিটি ধাপেই প্রয়োজন দক্ষতা ও যত্ন।
উল্লেখ্য যে,  চৌগাছা উপজেলার গাছ,গাছি ও উপজেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালে খেজুরের গুড় জি আই পণ্য  হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন বলেন, “খেজুরের রস ও গুড় বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়।
অনেক পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এছাড়াও খেজু রগাছের যথাযথ পরিচর্যা, নতুন গাছ রোপণ এবং আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের মাধ্য মে এ ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
একই সঙ্গে খেজুরের গুড়ের গুণগত মান বজায় রাখা, ভেজা লমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করা ও ন্যায্যমূল্যে বাজার জাত করণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সবার এগিয়ে আসা প্রয়ো জন।”
এদিকে আশ্বিনের শেষ সপ্তাহ থেকে খেজুরগাছ পরিচর্যার মধ্য দিয়ে চৌগাছা, মহেশপুর ও মনিরামপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। গাছিদের প্রত্যাশা, শীতের মৌসুমে পর্যাপ্ত রস পাওয়া গেলে তাঁদের ঘরে ফিরবে বাড়তি আয়, আর রস-গুড়ের স্বাদে সমৃদ্ধ হবে গ্রামবাংলার চিরচেনা শীতের ঐতিহ্য।

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

যশোরে রস-গুড়ের মৌসুমের খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

Update Time : 08:14 pm, Thursday, 15 October 2026
শীতের আমেজ আসতে না আসতেই খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার গাছিরা। এভাবে প্রস্তুতি চলছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মহেশপুর, কোটচাঁ দপুর, কালিগঞ্জ, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা, শার্শা, কেশবপুর ও বাঘারপাড়া সহ বৃহত্তর যশোর জেলা।
আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে খেজুরগাছের পরিচর্যা, শুকনো পাতা পরিষ্কার ও ‘বেগো কাটা’র মাধ্যমে গাছকে রস সংগ্র হের উপযোগী করে তুলছেন তাঁরা।
শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেন ঐতিহ্যবাহী যশো রের জস খেজুরের রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে।
চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের গাছি আসাদুল ইস লাম ( আশা )।
বয়স ৫০ বছরের বেশি। বাবা মৃত আয়তাল হক। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহ ও সেই রস থেকে গুড় তৈরি করে আসছেন তিনি।
অভিজ্ঞ এই গাছি জানান, আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই খেজুরগাছের পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের প্রাথমিক কাজ শুরু করেন তাঁরা।
রাস্তার ধারে ধারে সাড়ি বাঁধা গাছে গাছে, গাছি যখন রস বের করতে ব্যাস্ত পরিচর্যায় কাজে। ব্যস্ত গাছিকে দেখতে যেন এক অপরূপ লাগে।
সৌন্দর্যের এই প্রতিক যেন শীতকালীন ঋতুকে সে স্বাগতিক হিসেবে, স্বাগতম জানাচ্ছে তার গাছ পরিচর্যা মাধ্যমে ।
একজন অভিজ্ঞ গাছি আসাদুল ইসলাম (আশা ) বলেন, ‘আ শ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে গাছের শুকনো পাতা পরিষ্কার করে বেগো কাটার কাজ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে গাছ রস দেওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কার্তিক মাস থেকে রস সংগ্রহ শুরু করা যায়। একটানা চৈত্র মাস পর্যন্ত রস সংগ্রহের সুযো গ থাকে।’ তবে অনেকেই একটু দেরিতে করাই পুরো কার্তিক মাসটায় গাছ পরিচর্যায় কাটিয়ে দেয়।
একই গ্রামের আরো অভিজ্ঞ গাছিরা হলেন আইনাল হক ওরফে পুটকে, আমজে দ হোসেন, শরিফুল ইসলাম শরি, ইনতা প্রমুখ।
গ্রামবাংলার শীতের সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের সম্পর্ক বহুদিনের। ভোরের আলো ফোটার আগে গাছ থেকে হাঁড়িভ র্তি রস নামানো, সেই রস জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু গুড় তৈরি সব মিলিয়ে গাছিদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে শীতের গ্রামীণ জনপদ।
সকাল সাজে, ঘুম থেকে উঠে, রসের আনাগোনা দেখতে, রাস্তাঘাটে খুব ভালোই লাগে।  খেজুরের কাঁচা রস, ঝোলা গুড়, পাটালি ও নানা ধরনের পিঠাপুলির স্বাদে শীতের আন ন্দও যেন পূর্ণতা পায়।
খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য দেশজুড়ে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে যশোরের। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সুনাম দীর্ঘদিনের। যশোরের খেজুরের গুড় ভৌগো লিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এ ঐতিহ্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের শ্রম ও অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। বছরের পর বছর গাছ পরিচর্যা, নির্দিষ্ট সময়ে বেগো কাটা, রস সংগ্রহ এবং তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির প্র তিটি ধাপেই প্রয়োজন দক্ষতা ও যত্ন।
উল্লেখ্য যে,  চৌগাছা উপজেলার গাছ,গাছি ও উপজেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালে খেজুরের গুড় জি আই পণ্য  হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন বলেন, “খেজুরের রস ও গুড় বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়।
অনেক পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এছাড়াও খেজু রগাছের যথাযথ পরিচর্যা, নতুন গাছ রোপণ এবং আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের মাধ্য মে এ ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
একই সঙ্গে খেজুরের গুড়ের গুণগত মান বজায় রাখা, ভেজা লমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করা ও ন্যায্যমূল্যে বাজার জাত করণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সবার এগিয়ে আসা প্রয়ো জন।”
এদিকে আশ্বিনের শেষ সপ্তাহ থেকে খেজুরগাছ পরিচর্যার মধ্য দিয়ে চৌগাছা, মহেশপুর ও মনিরামপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। গাছিদের প্রত্যাশা, শীতের মৌসুমে পর্যাপ্ত রস পাওয়া গেলে তাঁদের ঘরে ফিরবে বাড়তি আয়, আর রস-গুড়ের স্বাদে সমৃদ্ধ হবে গ্রামবাংলার চিরচেনা শীতের ঐতিহ্য।