খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় জাতের মানকচু চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এক প্রান্তিক কৃষক। কম জমিতে স্বল্প খরচে আশাতীত ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় ওই কৃষকের পরিবারে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার ছোটবন্দ গ্রামের ৯ নম্বর সাহস ইউনিয়নের বা সিন্দা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল এবার মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে ওল কচু চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে নামমাত্র, মাত্র ৫০০ টা কা।
নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল আনন্দিত মনে জানান, তিনি মাত্র ৫০ পিস স্থানীয় জাতের কচুর চারা (কন্দল ফসল) রোপণ করেছিলেন।
পরিচর্যা শে ষে ফলন ঘরে তোলার পর দেখা যায়, তার উৎ পাদিত কচুর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কেজি।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মানকচু ২৫ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি মোট ১০,০০০ টাকা আয় করেছেন।
মাত্র ৫০০ টাকা খরচ করে ১০,০০০ টাকার ফলন পেয়ে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তবে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বাজা রে যদি মানকচু দাম আরও কিছুটা বেশি থাকত, তবে লাভে র পরিমাণ আরও বেশি হতে পারত।”
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের এই সাফল্যের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা-র সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, “ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দল জাতীয় ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা সবসময় কৃষকদের লাভজনক ও কম খরচে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।
মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিচর্যা ও পরি মিত খরচে সামান্য জমিতেও ভালো লাভ করা সম্ভব।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগী কৃষকদের সব সময় আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজ নীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
কৃষি কর্মকর্তার এমন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রান্তিক কৃষ কদের উৎসাহ প্রদানের কারণে ডুমুরিয়া অঞ্চলে ভবিষ্যতে শাকসবজি ও কন্দল জাতীয় ফসলের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া, খুলনা 


















