পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
এর জেরে সোমবার সকালে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালুমহালের কাছে এক টি পক্ষ মানববন্ধন করে।
কর্মসূচিতে নদীতীরবর্তী এলাকা ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনকে রাজনৈ তিক বিরোধে র ফল বলে দাবি করে ছেন।
মানববন্ধনের আয়োজক সোহানুর রহমান বিপু ও জুয়েল রানা মৃধার অভিযোগ, সাঁড়া এলাকায় হাসিবুর রহমান হাক্কে মণ্ডলের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, এর ফলে নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
নদীর পাড়ের প্রতিরক্ষা ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তাঁরা।
এসব বিষ য়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই মানববন্ধনের আয়োজ ন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হেকমতউল্লাহ মণ্ডল কনক বলেন, তিনি পদ্মা নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলন করেন না।
রাজশাহীর লক্ষ্মীনগর মৌজার ইজারাদার মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে বালু কিনে সাঁড়া য় বিক্রি করেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।
সাঁড়া ঘাটের ইজারাদার ও সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজাদুর রহমান মেম্বার বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা নিয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খাজনা আদায় করছেন।
তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁকে লক্ষ্য করে মানববন্ধন করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌ-পুলিশ সূত্রে মানববন্ধনের আয়োজক সোহানুর রহমান বিপু ও জুয়েল রানা মৃধার বিরু দ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবা জি এবং নদীর চর দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা থাকা র অভিযোগের কথা জানা গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদা বাজি ও মাদক বিক্রিসংক্রান্ত মামলার অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার নথি, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ থা কা এবং বালু সংগ্রহ নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে মানবব ন্ধন টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কর্মসূচির পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই।
ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুর রহ মান সরকার বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বিব্রত। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএ নও) মোহাম্মাদ শোয়াইব হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগা যোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালু উত্তোলন ও ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইজারার বৈধতা, বালু উত্তো লনের স্থান এবং নদীতীরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

হাসান আলী,সোহেল,,স্টাফ রিপোর্টার 


















