সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
ভারতের কলকাতা নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের “শি খা ইন” নামের একটি ৫তলা হোটেলের তৃতীয় তলায় অগ্নি কান্ডের ঘটনায় নিহত ৯জনের মধ্যে ৭জনের বাড়ি বাংলাদে শে।
এদের মধ্যে একজন নারীসহ দুইজনের বাড়ি সাতক্ষীরার
কালিগঞ্জে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত একজনের নাম এস.এম আলিমু জ্জামান ওরফে সাজু (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপ জেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী। নিহত অপরজনের
নাম রেবতী রানী সরকার।
তিনি একই ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের ভবেষ কুমার সরকারের স্ত্রী।
নিহত সাজুর নিকটাতœীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানা ন, চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু সবার ছোট। মেঝো ভাই রাজু সর দার মারা গেছেন বশে আগে।
বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেঝো ভাই উজ্জ্বল সর দার জীবিত আছেন।
কোমরে ব্যথারমজন্য চিকিৎসক দেখা তে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নি কান্ডের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ৫ থেকে ৬ দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসারজন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে।
পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান কর ছিল। একজন আত্মীয়কেবসেখানে পাঠানো হয়।
পরে ছবির সঙ্গে লাশের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমা র ছোট ভাই আর নেই।
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, সর।কারের কাছে আকুলমআবেদন, আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেওয়া হয়।
আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই। এদিকে নিহত রেবতী রানী সরকার ও স্বামী ভবেষ সরকার কালিগঞ্জের তেতুলিয়ানগ্রামের বাড়িতেই থাকতেন।
তাদের ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা বর্তমানেন ভারতের উত্তরাখন্ডে অবস্থান করছেন।
রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলেরনসঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন কলকা লেগে বৌদি মারা গেছেন।
দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখ ন তার সঙ্গেও ফোনে যো গাযোগ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও ভারতে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর রহা মন জানান, আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু ও রেবতী সরকার নামের দুইজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ পৃথক দুইজনের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে ২টার দিকে ভার তের কলকাতা নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের “শি খা ইন” নামের একটি হোটেলে তৃতীয় তলায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৭ জন বাংলাদেশী নাগরিকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একই পরিবারের চার জন রয়ে ছেন কুষ্টিয়ার।
তারা হলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশী ষের শশুর আকরাম আলী।
নিহত অপরজনের নাম আহ মেদ বাবু (২৭)। তিনি সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগমবাড়ি গ্রামের আদম আলীর ছেলে। তবে হোটেলটিতে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারা লী ইউনিয়নের বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ।
প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে এখন স্বজনদের একটাই আকুতি তাদের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যব স্থা করা হয়।
এজন্য তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতের হাই কমিশন থেকে লাশ দুটো দ্রুত প্রেরণের ব্যবস্থা করছে তারা। পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যোগা যোগ করেছে।

Reporter Name 



















