সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
ভারতের কলকাতা নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী নাগরিক সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এসএম আলীমুজ্জামান সাজুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সোয়া ১২টার দিকে ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
ভোমরায় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবি ভোমরামবিওপির সহযোগিতায় নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান লিপুর নিহত সাজুর মরদেহ গ্রহণ করেন।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা সজিব বালা ও সাতক্ষীরাস্থ ৩৩ বিজিবি’র ভোমরা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মোঃ আফজাল হোসেন এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের এএস আই পাচকেট উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে সাজুর মরদেহবাহী গাড়ী ভোমরার বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টে এসে পৌছায়।
সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বেলা সোয় ১২টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ী ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপো ষ্টের জিরো লাইনের কাছে এসে পৌছায়।
পরে সেখানেই দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত এস.এম আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু (৪৫) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনি য়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারেরমছেলে।
তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী। ভোমরা ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, আলিমুজ্জামান সাজু গত ৮ আগস্ট ভোমরা ইমি গ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে গমন করেন।
তার পাস পোর্ট নাম্বার এ ১১৭২০১২৭। কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রী টের আবাসিক হোটেল ‘শিখা ইন ‘ তিনি অবস্থান করেন।
উক্ত হোটেলে অবস্থানকালে ১৯ আগস্ট রাতে হোটেলে অগ্নি কান্ডের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
তাকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াই টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে আলিমুজ্জামান সাজু’র মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জের বরেয়া গ্রামের সরদারবাড়ি পৌছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির অবতারনা হয়।
মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যসহ উপস্থিত আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সাজুর ভাই মাহমুদুল হাসান লিপু বলেন, ব্যক্তি জীবনে তার ভাই সাজু অবিবাহিত ছিলেন। বাদ আছর জানাজা নামাজ শেষে স্জুর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ি তার ঘরের সামনে কাঁঠাল তলায় তাকে দাফন করা হবে।
অপরদিকে এঘটনায় রেবতী রানী সরকার (৩৯) নামে সাত ক্ষীরার আরো একজন নারী নিহত হন। তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা তারালি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের ভবেষ কুমার সরকারের স্ত্রী।
তবে রেবতী সরকারের মরদেহ ভারতে সৎকার করার সি দ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার।
রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার জানান, প্রয়োজনীয় নথি পত্র ও আইনি আনুষ্ঠানি কতা সম্পন্ন হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ
মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কল কা তাতেই তাঁর মায়ের সৎকার সম্পন্ন করতে চান তারা।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানান, রেবতী সরকারের পরিবার কলকাতাতেই মরদেহ সৎকারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে এজন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুম তি প্রয়োজন।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া
শেষে সাজুর মরদেহ নিহতের ভাই মাহমুদুলমহাসান লিপুর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Reporter Name 



















