Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুরবানির জন্য সাতক্ষীরায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত,চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার বেশি

মুহা: জিললুর রহমান,সাতক্ষীরা:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার ৭ উপজেলায় গবাদিপশুর খামারগুলোতে এখন ব্যাপক ব্যস্ততা এবং প্রস্তুতি চলছে।

চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় কুরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা।

এসব প্রস্তুুুতকৃত পশুর বিপরীতে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার।

এতে চাহিদার তুলনায় জেলায় প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু বেশি থাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

ঈদের আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি রয়েছে। ভাল দাম পাওয়ার আমায় শেষ মুহুর্ত্বে সাতক্ষীরায় খামার গুলোতে কুরবানির পশু লালন পালনে প্রাণান্ত পরিশ্রম করে যা চ্ছেন খামারিরা।

গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ খুবই সীমিত থাকায় স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভবান হয়েছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ভাল দাম পাওয়ার আশায় এ বছর অনেকেই নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালন করছেন।

অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার থেকে গবাদি পশু বিক্রি শুরু করেছেন। তবে এবার পশুখাদ্যের চড়া দামের কার ণে বিনিয়োগ তুলে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির জন্য এক লাখের বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪৯ হাজারের বেশি, ছাগল ৪৪ হাজার এবং ভেড়া রয়েছে ৬ হাজার।

গত বছরের তুলনায় এবার পশুর উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

জানা গেছে, এখন থেকে গরু-ছাগলের বাজার কুরবানীর পশুর চাহিদা বাড়বে। গরুর খাদ্যের তালিকায় খামারীরা প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমেরভূষি, ধানেরকুঁড়া এবং নিজেদের তৈরি দানাদার খাবার খাইয়ে পশু মোটা তাজা করছেন।

ব্যস্ত খামারীরা পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করছেন।

তবে গবাদিপশু পালন করতে নানাধরনের সমস্যার মুখো মুখি হচ্ছেন খামারীরা। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অস্বা ভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ি য়েছে।

খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার গবাদিপশু পালনে খরচ বেড়ে ছে কয়েক গুণ। এতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে শঙ্কিত খামারী রা।

তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, গমের ভুসি, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈলসহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

ফলে পশুর দাম আশানুরূপ না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।একই কথা জানান পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ।

তাঁর খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম ধরেছেন ৮ লাখ টাকা।

বাজারে বড় গরুর ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।

অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক খামারি দেশি পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করেন লাভের আশা করছেন।

বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ জানান, তাঁর খামরের ১০টি গরুকে দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে বড় করছেন। এতে খরচ কিছুটা কম হওয়ায় তিনি
লাভের আশা করছেন।

স্থানীয় খামারী আলমগীর বলেন, গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারীরা ভালো দাম পেয়েছিল। সেই আশা নিয়েই এবার বেশি করে কুরবানির পশু লালন-পালন হয়েছে।

বাজারে কুরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পেলে খামারীরা লাভবান হবে বরে তিনি আশা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্না ন কবীর বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্ততু আছে।

জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৮২ হাজার পশুর চাহি দার বিপরীতে এবর মজুদ আছে এক লাখের বেশি। প্রায় ১৮ হাজার পশু উদবৃত্ত রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় এবার দেশি
খামারিরা ভালো বাজার পাবেন বলে আশা করছি।

অবৈধ পথে গরু আসা রোধে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কারি বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির জন্য বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অ নেকটাই কমেছে।

এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও পশুখাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষুদ্র খামারিরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

কুরবানির জন্য সাতক্ষীরায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত,চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার বেশি

Update Time : 02:48 pm, Friday, 22 May 2026

মুহা: জিললুর রহমান,সাতক্ষীরা:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার ৭ উপজেলায় গবাদিপশুর খামারগুলোতে এখন ব্যাপক ব্যস্ততা এবং প্রস্তুতি চলছে।

চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় কুরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা।

এসব প্রস্তুুুতকৃত পশুর বিপরীতে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার।

এতে চাহিদার তুলনায় জেলায় প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু বেশি থাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

ঈদের আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি রয়েছে। ভাল দাম পাওয়ার আমায় শেষ মুহুর্ত্বে সাতক্ষীরায় খামার গুলোতে কুরবানির পশু লালন পালনে প্রাণান্ত পরিশ্রম করে যা চ্ছেন খামারিরা।

গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ খুবই সীমিত থাকায় স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভবান হয়েছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ভাল দাম পাওয়ার আশায় এ বছর অনেকেই নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালন করছেন।

অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার থেকে গবাদি পশু বিক্রি শুরু করেছেন। তবে এবার পশুখাদ্যের চড়া দামের কার ণে বিনিয়োগ তুলে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির জন্য এক লাখের বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪৯ হাজারের বেশি, ছাগল ৪৪ হাজার এবং ভেড়া রয়েছে ৬ হাজার।

গত বছরের তুলনায় এবার পশুর উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

জানা গেছে, এখন থেকে গরু-ছাগলের বাজার কুরবানীর পশুর চাহিদা বাড়বে। গরুর খাদ্যের তালিকায় খামারীরা প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমেরভূষি, ধানেরকুঁড়া এবং নিজেদের তৈরি দানাদার খাবার খাইয়ে পশু মোটা তাজা করছেন।

ব্যস্ত খামারীরা পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করছেন।

তবে গবাদিপশু পালন করতে নানাধরনের সমস্যার মুখো মুখি হচ্ছেন খামারীরা। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অস্বা ভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ি য়েছে।

খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার গবাদিপশু পালনে খরচ বেড়ে ছে কয়েক গুণ। এতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে শঙ্কিত খামারী রা।

তালা উপজেলার খামারি শামীম সরদার জানান, গমের ভুসি, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈলসহ সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

ফলে পশুর দাম আশানুরূপ না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।একই কথা জানান পাটকেলঘাটার খামারি প্রভাষ ঘোষ।

তাঁর খামারে বড় আকারের দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম ধরেছেন ৮ লাখ টাকা।

বাজারে বড় গরুর ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।

অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক খামারি দেশি পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করেন লাভের আশা করছেন।

বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ জানান, তাঁর খামরের ১০টি গরুকে দেশি ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে বড় করছেন। এতে খরচ কিছুটা কম হওয়ায় তিনি
লাভের আশা করছেন।

স্থানীয় খামারী আলমগীর বলেন, গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারীরা ভালো দাম পেয়েছিল। সেই আশা নিয়েই এবার বেশি করে কুরবানির পশু লালন-পালন হয়েছে।

বাজারে কুরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পেলে খামারীরা লাভবান হবে বরে তিনি আশা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্না ন কবীর বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্ততু আছে।

জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৮২ হাজার পশুর চাহি দার বিপরীতে এবর মজুদ আছে এক লাখের বেশি। প্রায় ১৮ হাজার পশু উদবৃত্ত রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় এবার দেশি
খামারিরা ভালো বাজার পাবেন বলে আশা করছি।

অবৈধ পথে গরু আসা রোধে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কারি বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় এখন কোরবানির জন্য বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অ নেকটাই কমেছে।

এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও পশুখাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষুদ্র খামারিরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।