আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : দীর্ঘ আট বছর পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছিলেন প্রবাসী আরিফ হো সেন।
প্রিয় সন্তান ও স্বজনকে বরণ করে ঘরে ফেরার আনন্দে পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়েছিলেন ঢাকার বিমান বন্দ রে।
কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই পরিণত হলো জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিতে। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিকরগাছার একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজ ন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। সোমবার (২ জুন ২০২৬) ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ের ভাঙ্গা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে পণ্য বাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনি য়নের খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ হোসেন (২৮), ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০), মেয়ে আয়েশা খাতুন (৩৫), স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০) এবং মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের প্রাইভেটকার চালক জাহিদ হোসেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ হোসেন দীর্ঘ আট বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার খবরে পরিবারে উৎসবের আমেজ বিরা জ করছিল।
তাকে বরণ করে আনতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেটকারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।
গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর একজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ দুর্ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। একসঙ্গে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম।
স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে ছে। যে আরিফকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন, আনন্দ ও অ পেক্ষা ছিল, সেই আরিফও শেষ পর্যন্ত জীবিত নয়, লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারের সদস্যরা প্রবাসফেরত আ রিফকে নিয়ে নতুন করে সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখছি লেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুরো ঝিকরগাছা উপজেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃ পক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে ছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘট নায় ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।
কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
একই পরিবা রের চার সদস্যসহ পাঁচজনের এমন হৃদয় বিদারক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য অপূর ণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।
আনন্দের যাত্রা যে এত বড় শোকগাঁথায় পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

Reporter Name 



















