Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের হাত ধরে আঙুরে বদলে যাচ্ছে গ্রাম, বিক্রির আশা ১০০ মণ

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:44 pm, Tuesday, 28 April 2026
  • 90 Time View

রহমত আরিফ,ঠাঁকুরগাও সবাদদাতাঃ গ্রামের সরু কাচা পথ। দুই পাশে সবুজের সারি। মাথার ওপর বাশের মাচায় ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কোনো পর্যটন বাগান।

কিন্তু এটা একটি গ্রামের বাড়ির প্রবেশপথ। আর সেই পথ ই এখন আলোচনায়। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজে লার ঝলঝলি বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের বাড়ির এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় কর ছেন মানুষ।

কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকছেন। অনেকেই আবার অনুপ্রাণিত হয়ে ফিরছেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাজ করার সময় সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ফলের বাগান ঘুরে দেখতেন আবুল কালা ম।

তখনই মনে বীজ বুনেছিলেন দেশে ফিরেও এমন কিছু করবেন। দেশে ফিরে প্রথমে সবজি চাষে হাত দেন। পরে ধীরে ধীরে আঙুর চাষে মনোযোগী হন। শুরুটা ছিল মাত্র ৭০টি গাছ দিয়ে।

এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০০। চার বিঘা জমির পাশাপাশি বাড়ির যাতায়াতের পথ ওম পুকুর পাড়কেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

মাচা তৈরি করে তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আঙুরলতা। এখন পুরো জায়গাটাই যেন এক সবুজ ছাউনি। শুধু আঙুরই নয়, এই বাগানে রয়েছে বৈচিত্র্যময় ফলের সমাহার।

বেদানা, লটকন, জামরুল, ড্রাগন ফল, প্যাশন ফল, মাল্টা, আপেল, নাশপাতিসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির গাছ।

সঙ্গে আছে চুইঝাল ও গোলমরিচের মতো মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। সব মিলিয়ে জায়গাটি এখন একটি ছোট বহুমুখী ফলবাগানে পরিণত হয়েছে।

চাষাবাদের পদ্ধতি সম্পর্কে আবুল কালাম বলেন, ইউটি উব দেখে আঙুর চাষ শিখেছি। লতানো গাছ হওয়ায় উঁচু মাচা তৈরি করেছি।

মূলত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়, অন্য কোনো রাসায়নিকের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। ফেব্রুয়ারিতে ডালপালা ছাঁটাই করলে মার্চে ফুল আসে আর জুন-জুলা ইয়ের দিকে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছ রোপণ ও পরিচ র্যায় তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

তবে চলতি মৌসুমেই ৯০ থেকে ১০০ মণ আঙুর উৎপা দনের আশা করছেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা হতে পারে।

আবুল কালাম বলেন, এ বছরই খরচ উঠে আসবে বলে আশা করছি। অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করেছেন।

আমি চাই, দেশে ঘরে ঘরে আঙুরের চাষ হোক বিদেশ থেকে যেন আর আঙুর আমদানি করতে না হয়। আগামী দেড় মাসের মধ্যেই আঙুরগুলো পরিপক্ব হবে বলে জা নান আবুল কালাম।

স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও ভালো চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা তার সঙ্গে যোগাম যোগ শুরু করে ছেন।

বাগান দেখতে আসা মাজেদুল, মামুন, নাজমূল ও ইয়াসি ন বলেন, গতবার এখানে এসে আঙুর খেয়েছিলাম খুবই মিষ্টি ছিল।

আরও বেশি ফলন হয়েছে শুনে আবার এলাম। মাচাজুড়ে এমন আঙুর সত্যিই দেখার মতো। আরেক দর্শনার্থী রুবে ল হোসেন বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি।

এখানে এসে দেখলাম, আমাদের এলাকায়ও এভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। আমিও চারা নিয়ে চাষ করার কথা ভাবছি। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান আঙুরবাগান পরিদর্শনে যান।

তিনি বলেন, আঙুর চাষে দোআশ মাটি, জৈব সারসমৃদ্ধ কাকর মাটি সবচেয়ে উপযোগী। আবুল কালাম দুই বছর ধরে আঙুর চাষ করছেন এবং ভালো ফল পাচ্ছেন। তবে ফল পরিপক্ব না হওয়ায় আঙুরের মিষ্টতা যাচাই করার সুযোগ হয়নি।

এবার যাচাই করে দেখা হবে। তার বাগানের আঙুর মিষ্টি হলে, অন্য চাষিদের মধ্যেও আঙুর চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবো।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যাল য়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক জাহাঙ্গী র আলম বলেন, আবুল কালামের বাগানে যে আঙুরের ফলন দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। কৃষি বিভাগ তার পাশে থাকবে।

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের হাত ধরে আঙুরে বদলে যাচ্ছে গ্রাম, বিক্রির আশা ১০০ মণ

Update Time : 12:44 pm, Tuesday, 28 April 2026

রহমত আরিফ,ঠাঁকুরগাও সবাদদাতাঃ গ্রামের সরু কাচা পথ। দুই পাশে সবুজের সারি। মাথার ওপর বাশের মাচায় ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কোনো পর্যটন বাগান।

কিন্তু এটা একটি গ্রামের বাড়ির প্রবেশপথ। আর সেই পথ ই এখন আলোচনায়। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজে লার ঝলঝলি বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের বাড়ির এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় কর ছেন মানুষ।

কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকছেন। অনেকেই আবার অনুপ্রাণিত হয়ে ফিরছেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাজ করার সময় সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ফলের বাগান ঘুরে দেখতেন আবুল কালা ম।

তখনই মনে বীজ বুনেছিলেন দেশে ফিরেও এমন কিছু করবেন। দেশে ফিরে প্রথমে সবজি চাষে হাত দেন। পরে ধীরে ধীরে আঙুর চাষে মনোযোগী হন। শুরুটা ছিল মাত্র ৭০টি গাছ দিয়ে।

এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০০। চার বিঘা জমির পাশাপাশি বাড়ির যাতায়াতের পথ ওম পুকুর পাড়কেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

মাচা তৈরি করে তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আঙুরলতা। এখন পুরো জায়গাটাই যেন এক সবুজ ছাউনি। শুধু আঙুরই নয়, এই বাগানে রয়েছে বৈচিত্র্যময় ফলের সমাহার।

বেদানা, লটকন, জামরুল, ড্রাগন ফল, প্যাশন ফল, মাল্টা, আপেল, নাশপাতিসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির গাছ।

সঙ্গে আছে চুইঝাল ও গোলমরিচের মতো মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। সব মিলিয়ে জায়গাটি এখন একটি ছোট বহুমুখী ফলবাগানে পরিণত হয়েছে।

চাষাবাদের পদ্ধতি সম্পর্কে আবুল কালাম বলেন, ইউটি উব দেখে আঙুর চাষ শিখেছি। লতানো গাছ হওয়ায় উঁচু মাচা তৈরি করেছি।

মূলত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়, অন্য কোনো রাসায়নিকের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। ফেব্রুয়ারিতে ডালপালা ছাঁটাই করলে মার্চে ফুল আসে আর জুন-জুলা ইয়ের দিকে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছ রোপণ ও পরিচ র্যায় তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

তবে চলতি মৌসুমেই ৯০ থেকে ১০০ মণ আঙুর উৎপা দনের আশা করছেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা হতে পারে।

আবুল কালাম বলেন, এ বছরই খরচ উঠে আসবে বলে আশা করছি। অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করেছেন।

আমি চাই, দেশে ঘরে ঘরে আঙুরের চাষ হোক বিদেশ থেকে যেন আর আঙুর আমদানি করতে না হয়। আগামী দেড় মাসের মধ্যেই আঙুরগুলো পরিপক্ব হবে বলে জা নান আবুল কালাম।

স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও ভালো চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা তার সঙ্গে যোগাম যোগ শুরু করে ছেন।

বাগান দেখতে আসা মাজেদুল, মামুন, নাজমূল ও ইয়াসি ন বলেন, গতবার এখানে এসে আঙুর খেয়েছিলাম খুবই মিষ্টি ছিল।

আরও বেশি ফলন হয়েছে শুনে আবার এলাম। মাচাজুড়ে এমন আঙুর সত্যিই দেখার মতো। আরেক দর্শনার্থী রুবে ল হোসেন বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি।

এখানে এসে দেখলাম, আমাদের এলাকায়ও এভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। আমিও চারা নিয়ে চাষ করার কথা ভাবছি। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান আঙুরবাগান পরিদর্শনে যান।

তিনি বলেন, আঙুর চাষে দোআশ মাটি, জৈব সারসমৃদ্ধ কাকর মাটি সবচেয়ে উপযোগী। আবুল কালাম দুই বছর ধরে আঙুর চাষ করছেন এবং ভালো ফল পাচ্ছেন। তবে ফল পরিপক্ব না হওয়ায় আঙুরের মিষ্টতা যাচাই করার সুযোগ হয়নি।

এবার যাচাই করে দেখা হবে। তার বাগানের আঙুর মিষ্টি হলে, অন্য চাষিদের মধ্যেও আঙুর চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবো।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যাল য়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক জাহাঙ্গী র আলম বলেন, আবুল কালামের বাগানে যে আঙুরের ফলন দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। কৃষি বিভাগ তার পাশে থাকবে।