শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
ডুমুরিয়া খুলনা ১৯জুলাই ২০২৬ ধান কিংবা প্রথাগত মাছ চাষের চেয়ে কম সময়ে এবং অধিক লাভে খুলনার ডুমুরি য়া উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাঁকড়া চাষ।
অনুকূল আবহাওয়া, লবণাক্ত পানির সহজলভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই অঞ্চলে র শত শত বেকার যুবক ও সাধারণ চাষী কাঁকড়া চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিল ও ঘেরগুলোতে এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নত জাতের কাঁকড়া, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদে শেও রফতানি হচ্ছে।
চাষীরা জানান, অন্যান্য মাছের তুলনায় কাঁকড়ার রোগবা লাই কম এবং মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই এটি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ‘সফট শেল’ (নরম খো লস) ও ‘হার্ড শেল’ (শক্ত খোলস) দুই পদ্ধতিতেই এখানে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য বেশ চড়া।
ডুমুরিয়া উপজেলায় কাঁকড়া চাষের এই নীরব বিপ্লব ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় ও জেলা মৎস্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন:”ডুমুরিয়া উপজেলার মাটি ও পানি কাঁকড়া চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এখানকার চাষীরা প্রথাগত চাষাবাদ থেকে বের হয়ে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ করছেন।
মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষীদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, মানসম্মত পোনা নির্বাচন এবং ঘের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছি। কাঁকড়া চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন নতুন উদ্যো ক্তা তৈরি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে।”
খুলনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেনঃ
“খুলনা অঞ্চলের কাঁকড়ার গুণগত মান খুব ভালো হও য়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও আরব আমিরাতে এর বিশাল চাহিদা রয়েছে।
এটি আমাদের অন্যতম প্রধান একটি রফতানি খাত হয়ে উঠছে। চাষীরা যাতে সঠিক মূল্যে কাঁকড়া বিক্রি করতে পারেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে, সেজন্য আমরা বাজার লিংকেজ তৈরির কাজ করছি।
পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের জন্য সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে।”
ডুমুরিয়ার মাদারতলা, মাগুরখালী, সাহস ও শোভনা ইউ নিয়নের বেশ কয়েকজন চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় যারা ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা ছিলেন, তারা এখন কাঁকড়া চাষ করে পাকা বাড়ি ও জমির মালিক হয়েছেন।
স্থানীয় চাষীরা জানান, প্রাকৃতিকভাবে নদী-নালা থেকে সংগ্রহ করা ছোট কাঁকড়া এনে ঘেরে ৩0 থেকে 80 দিন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাবার দিয়ে বড় করা হয়। বিশেষ করে নারী কাঁকড়া (যার ডিম চড়া দামে বিক্রি হয়) এবং গ্রেড-ওয়ান পুরুষ কাঁকড়ার বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি।
তবে চাষীদের দাবি, সরকারিভাবে যদি আরও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা যায় এবং পোনার কৃত্রিম প্রজনন (হ্যাচারি) আরও সহজলভ্য করা যায়, তবে ডুমুরিয়ার কাঁকড়া দেশের রফতানি আয়ে চিংড়ির মতোই এক বিশা ল ভূমিকা রাখতে পারবে।

Reporter Name 



















