বিশেষ প্রতিনিধি যশোর সদরের সাজিয়ালী ও দোগাছিয়া মৌজায় আদা লতে মীমাংসিত জমি দুষ্কৃতকারী কর্তৃক জোর পূর্বক এক বিধবা নারীর জমি জবরদখল এর অভি যোগ উঠেছে।
প্রতিকার পেতে ওই বিধবা নারী যশোর কোতোয়ালি মডে ল থানায় ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার’র (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ৭ নং চুড়া মনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী ও দোগাছিয়া মৌ জায় মৃত- বদর উদ্দিন বিশ্বাসের ৪ ছেলে মৃত- বজলুর রহমান বিশ্বাস, মৃত- নুর ইসলাম বিশ্বাস,, মৃত- নূর মোহা ম্মদ বিশ্বা স এবং মৃত- জামাল উদ্দিন বিশ্বাসের ওয়ারিশ গণ ২১১ শতক জমি ভোগ দখল করে আসছেন।
বিগত ২০২১ সালে মৃত- নুর মোহাম্মদ এর স্ত্রী ভানু বিবি, পুত্র – দাউদ হোসেন, ২ মেয়ে মর্জিনা খাতুন এবং শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে যশোর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আ দালতে বন্টননামা মামলা দায়ের করেন।
দে-৫৯৫ (সাবেক ২৭৫/ ২০) নং মোকদ্দমা রুজু-০৬১ ০/২০২০ ইং।
ওই মামলায় বিবাদী করা হয় বদর উদ্দিন বিশ্বাসের অপর ৩ ছেলের ওয়ারিশগণকে। বিবাদীরা হলেন:v( ১) বজলুর রহমান, পিং- বদর উদ্দিন বিশ্বাস, (২) আম্বি য়া খাতুন, (৩) রাবেয়া খাতুন, (৪) সুফিয়া খাতুন, (৫) রুবিয়া খাতুন, (৬) সেলিনা খাতুন, সর্ব পিং- বজলুর রহমান, (৭) জেসমিন আক্তার, স্বামী মৃত – সোলাইমান হোসেন, (৮) সোনালী খাতুন, পিং- মৃত সোলাইমান হোসেন, (৯) মাসুদ পারভেজ, (১০) লিমা খাতুন, সর্ব পিং- মৃত জামাল উদ্দিন, (১১) কল্প না বেগম, স্বামী মৃত- জামাল উদ্দিন, (১২) ইব্রাহিম হোসে ন, (১৩) ইউনুস আলী, (১৪) ইকরাম হোসেন, (১৫) মনিরা খাতুন, সর্ব পিং-মৃত নুর ইসলাম, (১৬) মোমেনা বেগম, স্বা মী – নুর ইসলাম।
উভয়পক্ষ আপোষ মীমাংসার জন্য দফায় দফায় বৈঠক করে ঐক্যমতে পৌঁছালে গত ১৩/০২/২০২২ ইং তারিখ সিনিয়র সহকারী জজ, সদর, যশোর আদালতে হাজির হয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম (সাগর) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষের জবানবন্দী শেষে আপোষ মীমাং সার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের কপিতে বাদীপক্ষের ৪ জন, বিবাদী পক্ষের ১৬ জন এবং দুই পক্ষের আইনজীবী দ্বয় স্বাক্ষর বিদ্যমান রয়েছে।
আপোষ মীমাংসার রায় অনুযায়ী ১২-১৪ নং বিবাদীগণ ২১..২৫ শতক, ৭-৮ নং বিবাদীগণ ১২.৫০ শতক, ২-৬ নং বিবাদীগণ ৮০.৪২ শতক, ৯-১১ নং বিবাদীগণ ৭৯.০২ শতক, ১-৪ নং বাদীগণ ১৭.৯১ শতক প্রাপ্ত হয়েছেন।
বন্টননামা দলীল শেষে যার যার অংশ নতুন করে মিউটে শন করে ভোগ দখল করে আসছেন।
কিছুদিন যেতে না যেতেই দুস্কৃতিকারীদের পরামর্শে ১২-১ ৫ নং বিবাদীগণ ইব্রাহিম হোসেন, ইউনুস আলী, ইক রাম হোসেন, মনিরা খাতুন, সর্ব পিং- মৃত নুর ইসলাম ১-১১ নং বিবাদীগণের ৫ দাগের প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে ধান রোপণ করেছে।
তাদের বাঁধা দিতে আসলে অপহরণ পূর্বক খুন জখমের হুমকি প্রদান করে এবং জোর পূর্বক জমি লিখে নেওয়ার হুমকি দেয়। ১-১১ নং বিবাদীগণ চাকরির সুবাদে গ্রামের বাড়িতে না থাকায় উল্লেখিত দুস্কৃতিকারীরা আদালতের রায় অগ্রাহ্য করে জোরপূর্বক ঐ জমি দখলের চেষ্টা কর ছে। ১১ নং বিবাদী বিধবা ও অসহায় হওয়ায় তারা এহেন কাজ করার সাহস পাচ্ছে।
এলাকায় কোন বিচার না পেয়ে গত ১৪/১২/২৪ ইং যশো র সদর কোতোয়ালি থানায় একটি অবৈধভাবে জমি দখ লের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং গত ০৩/০৫/২৬ ইং তারিখ যশোর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অপর আর একটি লি খিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী কল্পনা বেগম জানান, আমার মৃত স্বামী জামাল উদ্দিন আমবটতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক জন স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন।
আমার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় আমি তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। আমি একজন বিধবা ও অসহায় নারী। দুজন সন্তান নিয়ে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ একটু স্বাভাবিক হয়েছি।
আমি যশোরের মাননীয় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রশাসনের উ র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অচিরেই এই দুস্কৃতিকারীদের হাত থেকে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া বৈধ জমি ফেরত পেতে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছে জানতে চাই লে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এবিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাজিয়ালী ফাঁড়ির টু আইসি নিয়ামুল ইসলাম জানান, এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে আমা দের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছিল, উভয়প ক্ষকে আমরা ফাঁড়িতে মীমাংসার জন্য ডেকেছিলাম।
উভয়পক্ষের কাগ জপত্র দেখে আদালতের মীমাংসিত জমিতে অবৈধভাবে জমি জবরদখল করতে অভিযুক্ত দের বলা হয়েছে।
অভিযুক্তরা আমাদের কথা শুনছে না বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে অবৈধ জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Reporter Name 



















