Dhaka , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু,: আক্রান্ত সহস্রাধিক

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:15 pm, Saturday, 25 April 2026
  • 91 Time View

:রাশেদুল ইসলাম স্টাফ রির্পোটারঃ দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, টিকাদানে সংকটের অভিযোগ

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড় তে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে ১,১১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে গত এক মাসে মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীদের তিল ধারণের জায়গা নেই। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু।

শিশুদের তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে অভিভাবকরা ভিড় করছেন হাসপা তালে। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড ছাড়িয়ে অনেক রোগীকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স জানান, “প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

গত এক সপ্তাহে যে পরিমাণ রোগী এসেছে, তা গত কয়ে ক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।”

হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়লেও চিকিৎসার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা’র তীব্র স্বল্পতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্ত ভোগীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ঘুরে অনেক অভি ভাবককে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক মা জানান, তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে টিকা দেওয়ার জন্য গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরছেন, কিন্তু সব জায়গা থেকেই বলা হচ্ছে সরবরাহ নেই।

মহাখালী হাসপাতালেও টিকার মজুত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা নো হয়েছে, টিকার সং কট সাময়িক এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে আমদা নির প্রক্রিয়া চলছে।

ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৫ জন (সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত)। নতুন শনা ক্ত: ১,১১৫ জন।

সর্বাধিক আক্রান্ত এলাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ সবচে য়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলা গুলো তেও প্রকোপ বাড়ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে যারা একটি ডোজও টিকা পায়নি (জিরো ডোজ), তাদের অবস্থাই বেশি সংকটাপন্ন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নিয় মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা শিথিলতা এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ডা. কামরুজ্জামান কামরুল জানান, “হাম কেবল একটি সাধারণ চর্মরোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এমন কি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চি ত করতে হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

পাশাপাশি ‘ক্যাচ-আপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এবং আক্রান্ত দের আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ) জোরদার না করলে এই মহামারি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু,: আক্রান্ত সহস্রাধিক

Update Time : 07:15 pm, Saturday, 25 April 2026

:রাশেদুল ইসলাম স্টাফ রির্পোটারঃ দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, টিকাদানে সংকটের অভিযোগ

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড় তে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে ১,১১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে গত এক মাসে মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীদের তিল ধারণের জায়গা নেই। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু।

শিশুদের তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে অভিভাবকরা ভিড় করছেন হাসপা তালে। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড ছাড়িয়ে অনেক রোগীকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে।

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স জানান, “প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

গত এক সপ্তাহে যে পরিমাণ রোগী এসেছে, তা গত কয়ে ক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।”

হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়লেও চিকিৎসার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা’র তীব্র স্বল্পতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্ত ভোগীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ঘুরে অনেক অভি ভাবককে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক মা জানান, তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে টিকা দেওয়ার জন্য গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরছেন, কিন্তু সব জায়গা থেকেই বলা হচ্ছে সরবরাহ নেই।

মহাখালী হাসপাতালেও টিকার মজুত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা নো হয়েছে, টিকার সং কট সাময়িক এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে আমদা নির প্রক্রিয়া চলছে।

ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৫ জন (সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত)। নতুন শনা ক্ত: ১,১১৫ জন।

সর্বাধিক আক্রান্ত এলাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ সবচে য়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলা গুলো তেও প্রকোপ বাড়ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: আক্রান্তদের ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে যারা একটি ডোজও টিকা পায়নি (জিরো ডোজ), তাদের অবস্থাই বেশি সংকটাপন্ন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নিয় মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা শিথিলতা এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ডা. কামরুজ্জামান কামরুল জানান, “হাম কেবল একটি সাধারণ চর্মরোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এমন কি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চি ত করতে হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

পাশাপাশি ‘ক্যাচ-আপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এবং আক্রান্ত দের আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ) জোরদার না করলে এই মহামারি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।