নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
সমাজের অন্ধকার দিকগুলো যেন দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভালোবাসার অভিনয় আর আশ্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় নারীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা সমাজে নতুন নয়। তবে এবার রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া
এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও অমানুষিক নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। বিয়ের নামে প্রতারণা, কাবিননামা না করা এবং পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকা র হয়ে এখন স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক অসহায় নারী।
ভুক্তভোগী এই নারীর নাম ফারজানা আকতার কানন। তিনি মানিকগঞ্জ সদর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিকে বসবাস করছেন। তার অভিযোগের তীর বিএম ডালিম নামের এক ব্যক্তির দিকে। অভিযুক্ত ডালিমের স্থায়ী ঠিকানা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর ইউনিয়নে। অভিযোগ উঠেছে, এক অসহায় বিধবা নারীর সরলতা ও একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে ডালিম গড়ে তুলেছিলেন এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ।
ফারজানা আকতার কানন বলেন, ‘ আমার অসহায়ত্বের সুযোগে প্রতারণা করেছে ডালিম। আমি স্বীকৃতির চাওয়ায় ডালিম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিনিয়ত হুমকী দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তা চাই। একই সাথে স্ত্রীর স্বীকৃতিও চাই।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১০ মে ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের মাধ্যমে প্রথম পরিচয় হয় কাননের সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে।
কানন ছিলেন একজন বিধবা নারী। স্বামী হারানোর একা কীত্ব, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা আর জীবনের সংগ্রাম তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলেছিল।
ঠিক এই দুর্বলতাকেই নিজের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহা র করেন বিএম ডালিম। সহমর্মিতা আর ভালোবাসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তিনি কাননের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তো লেন এবং তাকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখান।
সম্পর্কের এক পর্যায়ে কাননকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ডালিম। একই বছরের ১০ মে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শুধুমাত্র ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
বিয়ের সময় ডালিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, খুব শিগ গিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজি ডেকে কাবিন রেজিস্ট্রি করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তিনি আর রক্ষা করেননি।
প্রতারক ডালিম নানা টালবাহানা ও অজুহাতে কাবিন রেজি স্ট্রির বিষয়টি সচেতনভাবে এড়িয়ে যেতে থাকেন। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা প্রথমে রাজধানীর আফতাব নগর এবং পরবর্তীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।
দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিকটা স্বাভাবিক মনে হলেও, বিপ ত্তি ঘটে যখন কানন তার ন্যায্য সামাজিক স্বীকৃতির জন্য চাপ দিতে থাকেন। সমাজের বুকে মাথা
উঁচু করে ডালিমের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হওয়ার দাবি তুল লেই ডালিমের আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়। স্ত্রীর মর্যাদা ও অধিকার দেওয়ার বদলে কাননের ওপর শুরু হয় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়; কাননের ওপর এই অমানুষিক নির্যাতনে নতুন মাত্রা যোগ করেন ডালিমের দ্বিতী য় স্ত্রী রোমানা বেগম।
অভিযোগ রয়েছে, ডালিম এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোমানা দুজ নে মিলে কাননের ওপর নিয়মিত অমানবিক নির্যাতন চালা চ্ছেন।
একটি সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবনের আশায় যে নারী ডালিমের হাত ধরেছিলেন, তার জীবন পরিণত হয় এক দুর্বিষহ নরকে।


Reporter Name 



















