Dhaka , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কেশবপুরে যুবককে হাতুড়ি-রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা  

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:58 am, Wednesday, 10 June 2026
  • 56 Time View

কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি: :
যশোরের কেশবপুরে মালিকাধীন পুকুর (শরিকানা ঘের) থেকে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার মাছ লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক যুবক ও তার পরিবারকে লোহার রড, জিআই পাইপ এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ০৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে উপজেলার মঙ্গল কোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত মো: সজল হোসেন (২৩) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় রডের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং শরীরে হাতুড়িপেটার মারাত্মক চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় সজলের পিতা মো: জহুরুল ইসলাম (৬০) বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/ ১২ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত এজা হার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ জুন সকাল আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার ঘসময় মঙ্গলকোট (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের জহু রুল ইসলামের শরিকানা পুকুর থেকে বিবাদী মো: রোমান হোসেন (২৫), মো: আব্দুল কালাম বিশ্বাস (৪৮) ও মো: রিফাত হোসেন (২১) সহ একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে মঙ্গলকোট বাজারের কা ছে ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে সজল হোসেন মাছ লুটের কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

২নং বিবাদী আব্দুল কালাম বিশ্বাসের হুকুম ও নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, জিআই পাইপ, লোহার শেকল ও হাতুড়িতে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে তারা সজল হোসেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহারের তথ্যমতে, ১নং বিবাদী রোমান হোসেন সজলকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথা য় সজোরে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়।

এরপর ৩ ও ৪নং বিবাদী হাতুড়ি দিয়ে সজলের বুকে, পিঠে ও শরীরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাড়ভাঙা জখম করে। অন্যান্য বিবাদীরাও তাকে লোহার শেকল ও পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে।

এ সময় সজলের সাথে থাকা তার ভাইঝি আলিফা খাতুন (১৮) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও শ্লীলতা হানি ও মারধর করে এবং তার গলা থেকে আনুমানিক ৯০,০০০/- (নব্বই হাজার) টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।

সজলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে মাছ লুটপাট এবং পরবর্তীতে হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়।

এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলা, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অব নতি হতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দাবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশা সন যেন কোনো প্রকার প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে আই নের আওতায় আনা হয়।

এই বিষয়ে কেবশপুর থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কেশবপুরে যুবককে হাতুড়ি-রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা  

Update Time : 01:58 am, Wednesday, 10 June 2026

কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি: :
যশোরের কেশবপুরে মালিকাধীন পুকুর (শরিকানা ঘের) থেকে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার মাছ লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক যুবক ও তার পরিবারকে লোহার রড, জিআই পাইপ এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ০৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে উপজেলার মঙ্গল কোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত মো: সজল হোসেন (২৩) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় রডের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং শরীরে হাতুড়িপেটার মারাত্মক চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় সজলের পিতা মো: জহুরুল ইসলাম (৬০) বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/ ১২ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত এজা হার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ জুন সকাল আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার ঘসময় মঙ্গলকোট (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের জহু রুল ইসলামের শরিকানা পুকুর থেকে বিবাদী মো: রোমান হোসেন (২৫), মো: আব্দুল কালাম বিশ্বাস (৪৮) ও মো: রিফাত হোসেন (২১) সহ একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে মঙ্গলকোট বাজারের কা ছে ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে সজল হোসেন মাছ লুটের কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

২নং বিবাদী আব্দুল কালাম বিশ্বাসের হুকুম ও নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, জিআই পাইপ, লোহার শেকল ও হাতুড়িতে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে তারা সজল হোসেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহারের তথ্যমতে, ১নং বিবাদী রোমান হোসেন সজলকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথা য় সজোরে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়।

এরপর ৩ ও ৪নং বিবাদী হাতুড়ি দিয়ে সজলের বুকে, পিঠে ও শরীরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাড়ভাঙা জখম করে। অন্যান্য বিবাদীরাও তাকে লোহার শেকল ও পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে।

এ সময় সজলের সাথে থাকা তার ভাইঝি আলিফা খাতুন (১৮) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও শ্লীলতা হানি ও মারধর করে এবং তার গলা থেকে আনুমানিক ৯০,০০০/- (নব্বই হাজার) টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।

সজলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে মাছ লুটপাট এবং পরবর্তীতে হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়।

এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলা, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অব নতি হতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দাবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশা সন যেন কোনো প্রকার প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে আই নের আওতায় আনা হয়।

এই বিষয়ে কেবশপুর থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।