Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন

ঝিকরগাছার সেই প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে ইউএনও’র নিকট আবেদন ও বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:27 am, Monday, 26 January 2026
  • 89 Time View
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকর গাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে রবিবার (২৫ জানুয়ারী) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আ তিয়ার রহমান। তিনি অভয়নগর থানার সমসপুর, পায়রা গ্রামের মুন্সী আব্দুর রহিমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান অত্যন্ত পরিতাপের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে সদয় অবগতি র জন্য আবেদনে দাবী জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, ঝিকর গাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের বর্তমান প্রধা ন শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ আগামী ৩১ জানুয়ারি অব সরে যাচ্ছেন।
তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও আমার মতো আরও অনে ক প্রবীণ সহকারী শিক্ষককে অত্যন্ত অমর্যাদাকর ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। যেটা শিক্ষক সমাজের জন্য আপমা ন জনক অধ্যায়। ইতিপূর্বে আমি (
এম আতিয়ার রহমান), প্রবীণ শিক্ষক মশিয়ার রহমান, অমূল্য রতন বিশ্বাস, ইস রাফিল হোসেন এবং ফজলুর রহমানসহ অনেক শিক্ষক অবসরে গেলেও আমাদের জন্য কোনো সম্মানজনক আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি।
অথচ প্রধান শিক্ষক নিজের জন্য রাজকীয় বিদায়ের তোড়জোড় করছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহা নিকর, দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। যার কারণে বৈষম্য দূর করতে প্রধান শিক্ষকের নিজের একক বিদায় অনুষ্ঠা নের আয়োজন বন্ধ ও একইসাথে সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে নাম প্রকা শে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন করে জা নান, স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত রয়েছে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা থাকার পরেও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫মাসে র বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে।
স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনি পর্যন্ত প্রায় ১হাজার ৫শত শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৩শত টাকা এবং ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৪শত টকা হারে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও স্কুলের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৮হাজার ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের মাথা প্রতি ৫হাজার টাকা বাধ্যতামুলক দিতে হচ্ছে। শিক্ষক ফোরামে প্রধান শিক্ষকের নির্ভযোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা আলোচনার মাধ্যমে স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত টাকা থেকে প্রধা ন শিক্ষককে ৫লক্ষ টাকা দিতে হবে।
যেটার বিষয়ে নিরিহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষকে র ভয়ের মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
এছাড়াও তার বিদা য় অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিদায় সংবধনার বিষয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসএসসিদের ও হেড স্যারের বিদায় দেওয়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল।
কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছেলেপিলে তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই। আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়।
তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়।
আমি এই বিষয়ে জানিনে কিছু।শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না।
সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো। আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি।
আর অভিযোগ দিয়েছে দিক। ঐ অভিযোগ আমি শুনলা ম। ও আমার নতুন বিষয় না। আর হচ্ছে তাদেরকে দাওয়া ত দিছি। তারা আসেনি।
তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, আবেদন পেয়েছি। এটা তো বন্ধের আবেদন করা হয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটা বন্ধ হবে না। পরিশেষে আপনি লিখতে পারেন উপজেলা প্রশাস নের নিকট আবেদন পৌছেছে কিন্তু আবেদনের বিষয়ে বন্ধের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
‎
About Author Information

Popular Post

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত

ঝিকরগাছার সেই প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে ইউএনও’র নিকট আবেদন ও বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন

Update Time : 09:27 am, Monday, 26 January 2026
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকর গাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবীতে রবিবার (২৫ জানুয়ারী) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আ তিয়ার রহমান। তিনি অভয়নগর থানার সমসপুর, পায়রা গ্রামের মুন্সী আব্দুর রহিমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান অত্যন্ত পরিতাপের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে সদয় অবগতি র জন্য আবেদনে দাবী জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, ঝিকর গাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের বর্তমান প্রধা ন শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ আগামী ৩১ জানুয়ারি অব সরে যাচ্ছেন।
তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও আমার মতো আরও অনে ক প্রবীণ সহকারী শিক্ষককে অত্যন্ত অমর্যাদাকর ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। যেটা শিক্ষক সমাজের জন্য আপমা ন জনক অধ্যায়। ইতিপূর্বে আমি (
এম আতিয়ার রহমান), প্রবীণ শিক্ষক মশিয়ার রহমান, অমূল্য রতন বিশ্বাস, ইস রাফিল হোসেন এবং ফজলুর রহমানসহ অনেক শিক্ষক অবসরে গেলেও আমাদের জন্য কোনো সম্মানজনক আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি।
অথচ প্রধান শিক্ষক নিজের জন্য রাজকীয় বিদায়ের তোড়জোড় করছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহা নিকর, দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। যার কারণে বৈষম্য দূর করতে প্রধান শিক্ষকের নিজের একক বিদায় অনুষ্ঠা নের আয়োজন বন্ধ ও একইসাথে সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে নাম প্রকা শে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বিভিন্ন তথ্য উম্মেচন করে জা নান, স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত রয়েছে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা থাকার পরেও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫মাসে র বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে।
স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনি পর্যন্ত প্রায় ১হাজার ৫শত শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৩শত টাকা এবং ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৪শত টকা হারে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও স্কুলের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৮হাজার ও খন্ডকালীন শিক্ষকদের মাথা প্রতি ৫হাজার টাকা বাধ্যতামুলক দিতে হচ্ছে। শিক্ষক ফোরামে প্রধান শিক্ষকের নির্ভযোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা আলোচনার মাধ্যমে স্কুলের জেনারেল ফান্ডে গচ্ছিত টাকা থেকে প্রধা ন শিক্ষককে ৫লক্ষ টাকা দিতে হবে।
যেটার বিষয়ে নিরিহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষকে র ভয়ের মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
এছাড়াও তার বিদা য় অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিদায় সংবধনার বিষয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসএসসিদের ও হেড স্যারের বিদায় দেওয়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল।
কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছেলেপিলে তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই। আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়।
তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়।
আমি এই বিষয়ে জানিনে কিছু।শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না।
সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো। আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি।
আর অভিযোগ দিয়েছে দিক। ঐ অভিযোগ আমি শুনলা ম। ও আমার নতুন বিষয় না। আর হচ্ছে তাদেরকে দাওয়া ত দিছি। তারা আসেনি।
তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, আবেদন পেয়েছি। এটা তো বন্ধের আবেদন করা হয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটা বন্ধ হবে না। পরিশেষে আপনি লিখতে পারেন উপজেলা প্রশাস নের নিকট আবেদন পৌছেছে কিন্তু আবেদনের বিষয়ে বন্ধের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
‎