পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মন্দি র ও বাড়িতে শ্রীশ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বৃহস্পতিবার ৩০ অক্টোবর-২৫ থেকে শুরু হয়ে ১ ডিসেম্বর শণিবার তিন দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা সমাপ্ত হয়ে ছে।
উপজেলার মজিতপুরে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত রাম কৃষ্ণ সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই পূ জা উৎসব সাড়ম্বরের সাথে পালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের আয়োজনে, সারদা সংঘ এবং বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ কেশবপুর শাখার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিবছরই এই পূজার আয়োজন করা হয়।
উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়-এই পূজা মানুষের মধ্যে সহি ষ্ণুতা, মানবতা ও পার স্প রিক ভালোবাসার বন্ধনকে আ রও দৃঢ় করায় একটি প্রয়াস।
সভাপতি শ্রী তপন কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পা দক শ্রী কালীপদ পাল জানান, “রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের লক্ষ্য কেবল ধর্ম নয়, মানবসেবা।
সকল ধর্মের মর্ম বাণী এক-সত্য,প্রেম ও সেবা। এই পূজার মধ্য দিয়েই আমরা সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।”
বৃহস্পতিবার ৩০ অক্টোবর-২৫ শিশুদের মাঝে নতুন বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে পূজার সূচনা হয়। সন্ধ্যায় ছিল, প্রতি মা আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন ছিল শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূ জা, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যারতির পর ছিল স্থানীয় শিল্পী দের দ্বারা পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যা ভক্তিময় পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
শনিবার(১ নভেম্বর-২৫) সকালে দর্পণ বিসর্জন ও যাত্রা মঙ্গলের মধ্য দিয়ে পূজার সকল কাজ সমাপ্তি ঘটে।
বিকেল থেকে সিঁদুর দান, মনমুগ্ধকর আরতি ও বিসর্জ নের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী পূজার পরিসমাপ্তি হয়। সারা দিন ব্যাপী ছিল ভক্তদের কলরবে মুখরিত প্রাঙ্গন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মজিদপুর রামকৃষ্ণ সেবা শ্রমে এই পূজা প্রতিবছরই এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃ তিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সকল ধর্মের মানুষ এখা নে সমান উৎসাহে অংশ নেন।
এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোজ কুমার হালদার জানান, হেম ন্তের প্রারম্ভে, মনোরম পরিবেশে সারা দিন ব্যাপী পূজা সহ নানা রকম অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরে মানুষ যারপ রনাই খুশীই হয়েছে।

Reporter Name 


















