Dhaka , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝিনাইদহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এমপি মহিত যবিপ্রবিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত ঝিনাইদহে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পে-কমিশন দুই ধাপে বাস্তবায়ন:বাজেটে থাকছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

 বিশেষ প্রতিনিধি:বাজারে জিনিষ পত্রের দাম অতি রিক্ত বেড়ে যাওয়ায় চাকুরী জীবিরা তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাই দেশের সকল চাকুরী জীবিদের নজর তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেই পে-স্কেল নতুন সরকার কখন তাদের কার্যকর করবে।
তবে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে,আগামী অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন পেতে পাবেন।
এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারও আন্তরিক। যে কারনে  পে-স্কেলের জন্য এবারের বাজেটে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
এই অর্থ দিয়ে নবম পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের জন্য শুধু বেসিক (মূল) বেতন দেয়া হবে।
পরবর্তী অর্থবছরে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেয়া হবে।
ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি প্রস্তাবও সরকারের উচ্চপ র্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্রে জানা যায এ বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণা লয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরকে জানানো হয়েছে।
এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্কেত পাওয়া গেলে তা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মক র্তা  বলেছেন,আগামী অর্থ বছর থেকে সরকারি কর্মচা রীরা বর্ধিত বেতন যে পাবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত।
কিন্তু সেটা কিভাবে দেয়া হবে তা এখন স্পষ্ট নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের যেন মূল বেতন দেয়া হবে।
পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাকি অন্যান্য ভাতা পরবর্তী অর্থবছর থেকে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
 বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমি শন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পেকমিশন ও সশস্ত্রবা হিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে।
কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পেস্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পেস্কেল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ১১ বছর পার হলেও নবম পেস্কেল বাস্ত বায়ন হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২১ জানু য়ারি তারা সুপারিশ জমা দেয়।
এই সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকুরেদের সর্বনি¤œ বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।
এতে সর্বনিম্ম স্তরে বেতন বাড়বে ১৪২.৪২ শতাংশ এবং এবং সর্বোচ্চ বেতন বাড়বে ১০৫. ১২ শতাংশ। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ২০টি স্কেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
আর বর্ধিত এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে খরচ পড়বে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেন শন ভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গ ঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তি ক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দফতর গুলো তে ভাতাগুলো পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে।
শর্ত থাকে যে, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।
আরো বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে, কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমা নে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা করা যেতে পারে।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপা রিশ করা হয়েছে।
কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেন শনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভো গীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদে র বাড়ছে ৭৫ শতাংশ।
আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
তবে এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর করার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন বেছে নিতে সুপারিশ করা হয়।
About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

পে-কমিশন দুই ধাপে বাস্তবায়ন:বাজেটে থাকছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

Update Time : 11:57 pm, Sunday, 3 May 2026
 বিশেষ প্রতিনিধি:বাজারে জিনিষ পত্রের দাম অতি রিক্ত বেড়ে যাওয়ায় চাকুরী জীবিরা তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাই দেশের সকল চাকুরী জীবিদের নজর তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেই পে-স্কেল নতুন সরকার কখন তাদের কার্যকর করবে।
তবে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে,আগামী অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন পেতে পাবেন।
এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারও আন্তরিক। যে কারনে  পে-স্কেলের জন্য এবারের বাজেটে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
এই অর্থ দিয়ে নবম পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের জন্য শুধু বেসিক (মূল) বেতন দেয়া হবে।
পরবর্তী অর্থবছরে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেয়া হবে।
ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি প্রস্তাবও সরকারের উচ্চপ র্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্রে জানা যায এ বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণা লয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরকে জানানো হয়েছে।
এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্কেত পাওয়া গেলে তা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মক র্তা  বলেছেন,আগামী অর্থ বছর থেকে সরকারি কর্মচা রীরা বর্ধিত বেতন যে পাবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত।
কিন্তু সেটা কিভাবে দেয়া হবে তা এখন স্পষ্ট নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের যেন মূল বেতন দেয়া হবে।
পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাকি অন্যান্য ভাতা পরবর্তী অর্থবছর থেকে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
 বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমি শন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পেকমিশন ও সশস্ত্রবা হিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে।
কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পেস্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পেস্কেল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ১১ বছর পার হলেও নবম পেস্কেল বাস্ত বায়ন হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২১ জানু য়ারি তারা সুপারিশ জমা দেয়।
এই সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকুরেদের সর্বনি¤œ বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।
এতে সর্বনিম্ম স্তরে বেতন বাড়বে ১৪২.৪২ শতাংশ এবং এবং সর্বোচ্চ বেতন বাড়বে ১০৫. ১২ শতাংশ। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ২০টি স্কেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
আর বর্ধিত এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে খরচ পড়বে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেন শন ভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গ ঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তি ক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দফতর গুলো তে ভাতাগুলো পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে।
শর্ত থাকে যে, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।
আরো বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে, কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমা নে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা করা যেতে পারে।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপা রিশ করা হয়েছে।
কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেন শনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভো গীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদে র বাড়ছে ৭৫ শতাংশ।
আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
তবে এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর করার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন বেছে নিতে সুপারিশ করা হয়।