বাগেরহাটের মোংলায় চোরাই মালামালসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক দুই যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের একজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপরজনকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে দুজনকেই আরও এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) গভীর রাতে মোংলা পৌরসভার রি জেকশন গলি থেকে চোরাই মালামালসহ ওই দুই যুবককে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে মোংলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়।
পরে সোমবার তাঁদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে অপরা ধের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোঃ শাকিল হাওলাদার (২২), পিতা মোঃ শামীম হাওলাদার এবং মোঃ আবুল হোসেন (২৩), পিতা মোঃ আমজাদ হোসেন।
সামারি ট্রায়ালে দ্রুত বিচার, অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা:
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৬০ থেকে ২৬৫ ধারায় নির্ধারিত শর্তে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার বিধান রয়েছে। এ পদ্ধতিতে আইন দ্বারা নির্ধারিত কিছু অপরাধের বিচার তুল নামূলক দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।
তবে সব অপরাধের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়; অপরাধে র ধরন, প্রযোজ্য আইন ও আদালতের এখতিয়ারের ওপর তা নির্ভর করে।
মোংলায় চোরাই মালামালসহ আটক দুই যুবকের কারাদ ণ্ডের ঘটনায় অপরাধ দমনে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের বিষ য়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক এবং পরে আদালতের মাধ্য মে দণ্ডিত হওয়ার এ ঘটনা চুরি ও চোরাই মালামাল সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স::
মোংলা – রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, “মোংলা ও রামপাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, চোর ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অব স্থান কঠোর।
অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। মাদক ব্যবসা, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরা ধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে সাধা রণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।”
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, চোরাই মালামালসহ আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদক ব্যবসা, চুরি ও অন্যান্য অপরা ধের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানু ষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ নিয় ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।#

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, মোংলা (বাগেরহাট): 


















