শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বানি য়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদীতে এখন প্রায়শই বড় সাইজের কার্প ও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নিয়মিত পোনা
মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও জেলেরা। দীর্ঘদিন
পর নদীতে এমন বড় আকারের মাছের দেখা মেলায় স্থা নীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ কর ছে। মাছটি ধরেছেন গজেন্দ্রপুরের হান্নান গাজী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের প্রমত্তা ভদ্রা নদী কাল ক্রমে ভরাট হয়ে ‘মরা ভদ্রা’য় পরিণত হলেও বানিয়াখালী এলাকায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় চিত্র বদলে গেছে। অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় চার পা শে র উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে বহু গুণ। রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, চিতলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্র জাতির বড় বড় মাছ এখন ধরা পড়ছে স্থানীয় জেলেদে র জালে।
এতে স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য জীবীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সো হেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন: “বানিয়াখালী ম ৎস্য অভয়াশ্রমটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রমের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ মরা ভদ্রা নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছের এত চমৎকার প্রাচুর্য দেখা যা চ্ছে। মা মাছ রক্ষা ও পোনা নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জন গণ সচেতন হওয়ায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়ে ছে।”
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন:
“ডুমুরিয়ার বানিয়াখালীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে মরা বা বদ্ধপ্রায় জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন সম্ভব। আমরা পুরো জেলা জুড়েই প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার এবং অভয়াশ্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মান্নান গাজী ও রহিমা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যেত না। কিন্তু অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই মাছের আকার ও সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াখালী অভয়াশ্রমটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ায় নি, বরং মরা ভদ্রা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও) মিজ সবিতা সরকার বলেন:বানিয়াখালী মৎস্য অভয়া শ্রমটি ডুমুরিয়ার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি রোল মডেল। নদী ও অভয়াশ্রমের সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৎস্য বিভাগকে সার্বিক সহ যোগিতা দিয়ে আসছে।
বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে যেন কেউ অভয়াশ্রমে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য আ মরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্থানীয় জনপ্র তিনিধি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানু ষ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।”

Reporter Name 



















