Dhaka , Sunday, 8 November 2026

গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ 

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:56 am, Sunday, 13 September 2026
  • 74 Time View
স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী:
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার আমিন কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।চাকরি মানেই যেনো রূপকথার আলাদিনের চেরাগ যা ঘষ লেই রাতারাতি সব অবৈধ সম্পত্তি বৈধ হয়ে যায়।
গোদাগাড়ী পৌরসভায় এমনই এক অলৌকিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার সার্ভেয়ার আমিন কবি রের বিরুদ্ধে। খাস জমি মাপে কারচুপি, ফাইল গায়েব, সাধা রণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং সুদের কারবারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার চাঞ্চল্যকর আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর এলাকার অভিজাত ও ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি মোড়ে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের সা ম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন কবির। বাইরে শান্ত ও আমায়িক স্বভা বের হলেও ভেতরে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নির্দিষ্ট ফি থাকলেও জমি মাপা ও সিরিয়াল পাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা হাঁকেন আমিন কবির।
এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, একই জমি চার বছ রে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত মাপা হয়েছে এবং প্রতিবারই কবি রের ফিতে ভিন্ন ফল দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় যে পক্ষের টাকার পাল্লা ভারী হয়েছে, অদৃশ্য শক্তিতে তাদের জমির পরিমাণ বেড়ে গেছে।
আর টাকা দিতে না পারা পক্ষ নিজের জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খাস জমি দখল করে নিজস্ব মার্কেট নির্মা ণ সবচেয়ে বড় অভিযোগ।বিগত আওয়ামী লীগ সরকা রের সময়ে সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী এবং সেই সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে  রাস্তার পাশের সরকারি খাস জমি দখল করে নিজ বাড়ির সামনেই তিনি একটি মার্কেট গড়ে তুলেছেন।স্থানীয়দের দাবি, আমিন কবিরের দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজতে বড় তদন্তের প্রয়োজন নেই, তার বাড়ির সামনের অবৈধ মার্কেটটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
​সুত্র জানায়, নকশা অনুমোদন বা নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষে ত্রে অজুহাত  ধরে সাধারণ নাগরিকদের ব্ল্যাকমেইলিং করেন কবির। চাহিদা মতো আর্থিক সুবিধা  না দিলে কাজের ফাইল আটকে রাখা বা মূল রেকর্ডপত্র গায়েব করে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করেন।
এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মূল মালিককে ডিঙিয়ে তৃতীয় পক্ষকে নামজারিতে সহযোগিতার অভিযোগও রয়ে ছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের কাছে অনেকটা অজানা আতংক সার্ভেয়ার আমিন কবির।
গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানী য়রা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেন। সরকারি ক্ষমতার অপ ব্যব হারে নিজ কাগজপত্রের ক্ষতি হতে পারে এমন ভয়ে অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
অসহায় দরিদ্র মানুষের ভিটেমাটি কেটে ছোট করে দেওয়ার পরেও কবিরের অদৃশ্য দাপটে নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হয় ভুক্ত ভোগীরা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার আমিন কবির  সব
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সরকারি সার্ভেয়ার, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের জায়গায় মার্কেট করার কথা ভুল।
আমরা সরকারি জায়গা রক্ষা করি। যারা অভিযোগ করছে তারা কাগজপত্র বোঝে না। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কিছু দুর্বল পয়েন্ট আছে, তারা সঠিকভাবে একুইজিশন করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, কারো কোনো অভিযোগ থাক লে পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিক। আমারও অজান্তে কোনো অন্যায় থাকলে শাস্তি হোক।
কাজের মধ্যে ভুলত্রুটি দেখলে জানালে সংশোধন করে নেব।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আ ইনপ্রয়োগকারি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকগণ।
About Author Information

Popular Post

গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ 

Update Time : 04:56 am, Sunday, 13 September 2026
স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী:
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার আমিন কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।চাকরি মানেই যেনো রূপকথার আলাদিনের চেরাগ যা ঘষ লেই রাতারাতি সব অবৈধ সম্পত্তি বৈধ হয়ে যায়।
গোদাগাড়ী পৌরসভায় এমনই এক অলৌকিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার সার্ভেয়ার আমিন কবি রের বিরুদ্ধে। খাস জমি মাপে কারচুপি, ফাইল গায়েব, সাধা রণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং সুদের কারবারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার চাঞ্চল্যকর আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর এলাকার অভিজাত ও ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি মোড়ে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের সা ম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন কবির। বাইরে শান্ত ও আমায়িক স্বভা বের হলেও ভেতরে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নির্দিষ্ট ফি থাকলেও জমি মাপা ও সিরিয়াল পাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা হাঁকেন আমিন কবির।
এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, একই জমি চার বছ রে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত মাপা হয়েছে এবং প্রতিবারই কবি রের ফিতে ভিন্ন ফল দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় যে পক্ষের টাকার পাল্লা ভারী হয়েছে, অদৃশ্য শক্তিতে তাদের জমির পরিমাণ বেড়ে গেছে।
আর টাকা দিতে না পারা পক্ষ নিজের জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খাস জমি দখল করে নিজস্ব মার্কেট নির্মা ণ সবচেয়ে বড় অভিযোগ।বিগত আওয়ামী লীগ সরকা রের সময়ে সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী এবং সেই সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে  রাস্তার পাশের সরকারি খাস জমি দখল করে নিজ বাড়ির সামনেই তিনি একটি মার্কেট গড়ে তুলেছেন।স্থানীয়দের দাবি, আমিন কবিরের দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজতে বড় তদন্তের প্রয়োজন নেই, তার বাড়ির সামনের অবৈধ মার্কেটটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
​সুত্র জানায়, নকশা অনুমোদন বা নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষে ত্রে অজুহাত  ধরে সাধারণ নাগরিকদের ব্ল্যাকমেইলিং করেন কবির। চাহিদা মতো আর্থিক সুবিধা  না দিলে কাজের ফাইল আটকে রাখা বা মূল রেকর্ডপত্র গায়েব করে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করেন।
এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মূল মালিককে ডিঙিয়ে তৃতীয় পক্ষকে নামজারিতে সহযোগিতার অভিযোগও রয়ে ছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের কাছে অনেকটা অজানা আতংক সার্ভেয়ার আমিন কবির।
গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানী য়রা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেন। সরকারি ক্ষমতার অপ ব্যব হারে নিজ কাগজপত্রের ক্ষতি হতে পারে এমন ভয়ে অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
অসহায় দরিদ্র মানুষের ভিটেমাটি কেটে ছোট করে দেওয়ার পরেও কবিরের অদৃশ্য দাপটে নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হয় ভুক্ত ভোগীরা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার আমিন কবির  সব
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সরকারি সার্ভেয়ার, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের জায়গায় মার্কেট করার কথা ভুল।
আমরা সরকারি জায়গা রক্ষা করি। যারা অভিযোগ করছে তারা কাগজপত্র বোঝে না। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কিছু দুর্বল পয়েন্ট আছে, তারা সঠিকভাবে একুইজিশন করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, কারো কোনো অভিযোগ থাক লে পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিক। আমারও অজান্তে কোনো অন্যায় থাকলে শাস্তি হোক।
কাজের মধ্যে ভুলত্রুটি দেখলে জানালে সংশোধন করে নেব।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আ ইনপ্রয়োগকারি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকগণ।