Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা ও র‌্যালি ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়,জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করছে এবি পার্টি: মজিবুর রহমান মঞ্জু নড়াইলর মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুটবলার গোপাল হাজরার স্মৃতি কথা!! ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী- নিতাই রায় চৌধুরী পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাওনা টাকা চাওয়ায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফাটালো বড় ভাই

রঙিন ফুলকপি চাষে ডুমুরিয়া কৃষক হানিফের মুখে হাসি 

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:38 am, Monday, 12 January 2026
  • 58 Time View

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা ফুলকপি বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি মৌসুমে হলুদ ফুলকপির বাম্পার ফলন তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে, বিশেষ করে হলুদ জাতের ভালো
ফলন হয়েছে।

কম উ পাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে ফুলকপি চাষ এই এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উ পাদিত হলুদ ফুলকপি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে এবং
দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা জা নান, তারা ভালো বাজার মূল্য পাচ্ছেন, যা তাদের আত্ম বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উপজে লার র্খণিয়া এলাকার আর্দশ কৃষক আবু হানিফ মোড়ল ৩৩ শতক জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন।

এছাড়াও তিনি শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষেও নিয়োজিত রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মৌসুমে ডুমুরি য়ায় প্রায় এক হেক্টর জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন র্অজিত হয়েছে।

উপজেলার কৃষকরা বলেছেন, এ বছর প্রাকৃতিক প্রতিকূ লতার মধ্যেও শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে হলুদ ফুল কপি থেকে লাভ তাদের আরও বেশি করে এ ধরনের
চাষে উ সাহিত করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি র্কমর্কতা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, এ মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমি তে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লে খযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ফুলকপির উ পাদন অনেক বেশি, আর হলুদ ফুলকপির ভালো ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

কৃষক আবু হানিফ মোড়ল বলেন, রঙিন ফুলকপি, বিশেষ করে হলুদ বা কমলা জাত বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ জাত, যা প্রায়ই ‘ক্যারোটিনা ইয়ে লো’ নামে পরিচিত, এটি প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনা য় বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি।

ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হচ্ছেন।
এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কৃষকরাও রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন।

খুলনার বিভিন্ন এলাকায় বেগুনি, হলুদ এবং ব্রোকলি জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে।

মাগুরঘোনা ইউনিয়নের কৃষক শাহদাত হোসেন ও ববিতা সরকার বলেন, আমরা দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষামূ লকভাবে ২০ বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি।

যেখানে সাদা ফুলকপির দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সেখানে রঙিন ফুলকপি আমরা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে পারি।

তারা বলেন, আমরা এই লাভে খুবই খুশি। আগামী মৌসু মে রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য জমির পরিমাণ আরও বাড়াব।

তারা আরও বলেন, আমরা সরকার থেকে বিনামূল্যে ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগা ছানাশক ও কীটনাশক পেয়েছি।

খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম আজ বাসসকে বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছি মাটি ও আবহাওয়া রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য কতটা
উপযোগী, যাতে ভবিষ্যতে জমি রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য উপযুক্ত করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের ফুলকপির বীজ, রাসা য়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরার্মশ দিয়েছি। ভালো ফুলকপির বীজ ও সার পাওয়ার পর কৃষকরা সফল হয়েছেন।

কৃষকরা ভালো লাভ পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় সবজি চা ষিরা রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রঙিন ফুলকপি চাষের সাফল্যে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরও খুবই সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে যদি কোনো কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষ করতে চান, কৃষি অধিদপ্তর সব ধর নের সহায়তা ও সহযোগিতা করবে।

এছাড়া আমরা সবসময় কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি যাতে রঙিন ফুলকপি চাষ আরও লাভজনক হয়।

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

রঙিন ফুলকপি চাষে ডুমুরিয়া কৃষক হানিফের মুখে হাসি 

Update Time : 11:38 am, Monday, 12 January 2026

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা ফুলকপি বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি মৌসুমে হলুদ ফুলকপির বাম্পার ফলন তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে, বিশেষ করে হলুদ জাতের ভালো
ফলন হয়েছে।

কম উ পাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে ফুলকপি চাষ এই এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উ পাদিত হলুদ ফুলকপি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে এবং
দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা জা নান, তারা ভালো বাজার মূল্য পাচ্ছেন, যা তাদের আত্ম বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উপজে লার র্খণিয়া এলাকার আর্দশ কৃষক আবু হানিফ মোড়ল ৩৩ শতক জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন।

এছাড়াও তিনি শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষেও নিয়োজিত রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মৌসুমে ডুমুরি য়ায় প্রায় এক হেক্টর জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন র্অজিত হয়েছে।

উপজেলার কৃষকরা বলেছেন, এ বছর প্রাকৃতিক প্রতিকূ লতার মধ্যেও শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে হলুদ ফুল কপি থেকে লাভ তাদের আরও বেশি করে এ ধরনের
চাষে উ সাহিত করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি র্কমর্কতা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, এ মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমি তে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লে খযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ফুলকপির উ পাদন অনেক বেশি, আর হলুদ ফুলকপির ভালো ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

কৃষক আবু হানিফ মোড়ল বলেন, রঙিন ফুলকপি, বিশেষ করে হলুদ বা কমলা জাত বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ জাত, যা প্রায়ই ‘ক্যারোটিনা ইয়ে লো’ নামে পরিচিত, এটি প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনা য় বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি।

ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হচ্ছেন।
এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কৃষকরাও রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন।

খুলনার বিভিন্ন এলাকায় বেগুনি, হলুদ এবং ব্রোকলি জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে।

মাগুরঘোনা ইউনিয়নের কৃষক শাহদাত হোসেন ও ববিতা সরকার বলেন, আমরা দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষামূ লকভাবে ২০ বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি।

যেখানে সাদা ফুলকপির দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সেখানে রঙিন ফুলকপি আমরা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে পারি।

তারা বলেন, আমরা এই লাভে খুবই খুশি। আগামী মৌসু মে রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য জমির পরিমাণ আরও বাড়াব।

তারা আরও বলেন, আমরা সরকার থেকে বিনামূল্যে ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগা ছানাশক ও কীটনাশক পেয়েছি।

খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম আজ বাসসকে বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছি মাটি ও আবহাওয়া রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য কতটা
উপযোগী, যাতে ভবিষ্যতে জমি রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য উপযুক্ত করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের ফুলকপির বীজ, রাসা য়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরার্মশ দিয়েছি। ভালো ফুলকপির বীজ ও সার পাওয়ার পর কৃষকরা সফল হয়েছেন।

কৃষকরা ভালো লাভ পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় সবজি চা ষিরা রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রঙিন ফুলকপি চাষের সাফল্যে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরও খুবই সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে যদি কোনো কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষ করতে চান, কৃষি অধিদপ্তর সব ধর নের সহায়তা ও সহযোগিতা করবে।

এছাড়া আমরা সবসময় কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি যাতে রঙিন ফুলকপি চাষ আরও লাভজনক হয়।