আলিফ হোসেন,তানোরঃ
আজ (১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়ো দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণে শেষে নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে জমেজমাট ভোটের মাঠ।
প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলো এবা র প্রার্থীদের ইশতেহারের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এবার রাজশাহীর ৬টি আসনে সর্বমোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসে বে লড়ছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবি বা বেগম।
ভোটারদের দেয়া তথ্য মতে, এবারের নির্বাচনে রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি আসনেই লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
তবে, জয় পরাজয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে নারী ও আও য়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট ব্যাংকের উপর।
নিজ দলের ভোট বাদে যে প্রার্থীর থলিতে আওয়ামী লীগে র ও নারীদের ভোট বেশি পড়বে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে মন্তব্য করছেন সাধারণ ভোটাররা।
তবে ৬টি আসনের প্রতিটিতেই লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন এবা রের নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ফিফটি ফিফটি চান্স আছে রড় দুটো দলের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে।
রাজশাহীর মোট ৬টি আসনে পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ সবমিলিয়ে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৯২ হাজার ২১৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮২ জন। নারী ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০৯ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা ২৮ জন।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) এই আসনে মোট ভো টার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন।
নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৩ জন।
এই আসনের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের মৌলিক দাবি গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কৃষি কাজের জন্য পানি, বী জ আর সারের বাধাহীন সরবরাহ ও সহজলভ্য প্রাপ্তি।
সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে বিজয়ী প্রাপ্তীকে পড়তে হবে কৃষকদের রোষানলে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দিন ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।
আর অন্যদিকে দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে থাক বেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাড়িপাল্লার ম ধ্যে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
এই আসনে নারী পুরুষ ভোটের সংখ্যা প্রায় সমান। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৫ জন। তারা হলেন ট্রাক প্রতিকে মির শাহজাহান, ঈগল প্রতিকে আব্দুর রহমান, মোবাইল ফোন প্রতিকে আল-সাআদ, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে অধ্যাপক মুজিবর রহমান ও ধানের শীষ প্রতিকে শরীফ উদ্দীন প্রতিদন্দীতা করছেন।
রাজশাহী-২ (সদর) রাজশাহীর মোট ৬টি আসনে মধ্যে সদর আসন সর্বোচ্চ ভাইটাল আসন হিসেবেই বিবেচিত। তাই এই আসনের দিকে অতিরিক্ত নজর সকলের।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৮ হাজার ২৪৯ জন, নারী ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৩০৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৮
জন। স্থানীয় ভোটার, ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য ও মন্তব্য মতে নগরীর সাহেব বাজারসহ মহানগরীর অন্যান্য বাজা রঘাটে অদৃশ্য চাঁদাবাজি নির্মূল করতে না পারলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজয়ী প্রার্থীকে সেটার খেসারত দিতে হবে চরমভাবে।
এছাড়াও সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ চান ব্যবসায়িরা। কিশোর গ্যাংয়ের উত্তাপ কমাতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়কে হবে বিজয়ী প্রার্থীকে। এই আসনে নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষের চাইতে প্রায় ২০ হাজার বেশি।
নারী ভোটার ও আওয়ামী লীগ সমর্থীত ভোটারদের উপ রই নির্ভর করবে জয় পরাজয়। এই আসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান।
এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নি র্বাচন করছেন মিজানুর রহমান মিনু।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর লড়বেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৬ জন।
তারা হলেন ঈগল প্রতিকে মু. সাঈদ নোমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর. কেটলি প্রতিকে মোহা ম্মদ সামছুল আলম, ধানের শীষ প্রতিকে মিজানুর রহমান মিনু, আনারস প্রতিকে মেজবাউর ইসলাম ও মোটর সাই কেল প্রতিকে সালেহ আহমেদ।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) রাজশাহী শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত হবার কারণে এই আসনের গুরুত্বও অনেক। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ লাখ ৭৩৮ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৭ জন; নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৬ জন।
এই আসনের একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে।
অন্যদিকে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন দুজন। মূল এই দুজনের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ের। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
মিলনের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু ল কালাম আজাদ লড়বেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হবে বলে মন্তব্য স্থানীয় দের।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৬ জন। তারা হলেন ফুটবল প্রতিকে মোসা. হাবিবা বেগম, ধানের শীষ প্রতিকে মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, লাঙ্গল প্রতিকে আফজাল হোসেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে আবুল কালাম আজাদ, হাত পাখা প্রতিকে ফজলুর রহমান ও প্রজাপতি প্রতিকে সাইদ পারভেজ।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) : রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এরমধ্যে পুরু ষ ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৫৯,১৮৫ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান লড় বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধ মাতাবেন ডা. আব্দুল বারী সরদার।
আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসেবার বিষয়টি এই অঞ্চ লের মানুষের বড় চাওয়া। এই নির্বাচনে ধানের শীষ আর দাড়িপাল্লার মধ্যে ভোটযুদ্ধ জমবে বেশ; বলে মন্তব্য স্থানী য়দের। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৪ জন।
তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে ডি.এম জিয়াউর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে আব্দুল বারী সরদার, হাতপাখা প্রতি কে তাজুল ইসলাম খান ও লাঙ্গল প্রতিকে ফজলুল হক।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপু র) আসনে এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে বেশ বেকা য়দায় পরতে হবে ধানের শীষের প্রার্থীকে।
আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বেশ সুবিধাজনক স্থানে আছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলা ম।
আর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ভোট যুদ্ধে থাকছেন মনজুর রহমান। এই আসনে এই দুই প্রার্থী র মধ্যেই ভোটযুদ্ধের লড়াই হবে প্রায় সমানে সমানে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৪ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৭০ জন; নারী ভেটার এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৯ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৫ জন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৭ জন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকে মনজুর রহমান, একতারা প্রতিকে আলতাব হোসেন মোল্লা, ঘোড়া প্রতিকে ইসফা খায়রুল হক, মোটর সাইকেল প্রতিকে রায়হান কাওসার, হাতপাখা প্রতিকে রুহুল আমিন ও ফুটবল প্রতিকে রেজাউল করিম।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ০৫৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ০৬৮ জন; নারী ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৪ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাড়িপাল্লা নিয়ে ভোটযুদ্ধে থাকবেন নাজমুল হক। অন্যদিকে বিএন পির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আবু সাইদ চাঁদ। এই আসনে আবু সাইদ চাঁদ জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও নারী ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের উপরই নির্ভর করতে হবে জয় পরাজয়ের বিষয়টি বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
এই আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘পদ্মার বালু মহাল নি য়ে নোংড়া রাজনীতি আর হানাহানির বিষয়টি। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৪ জন।
তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে আবু সাইদ চাঁদ, হাত পাখা প্রতিকে আব্দুস সালাম সুরুজ, লাঙ্গল প্রতিকে ইকবাল হোসেন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে নাজমুল হক।#

Reporter Name 



















