Breaking News

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি,মণিরামপুরে থামছেই না বাল্যবিবাহ: ঝুঁকিতে কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ

‎বিএম সাব্বির হাসান,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:-যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচে তন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ থেকে ১৫ বছ র বয়সী স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদেরও বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বয়স গোপন করে কিংবা জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করে এসব বিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও গভীর রাতে গোপনে বিয়ের আয়োজন করা হয়, যাতে প্রশাসনের নজ র এড়িয়ে যাওয়া যায়।

‎বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর।

এ বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া বা বাল্যবিবাহে সহযোগিতা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এরপরও দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং সচেতনতার অভাবকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে অনেক পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বাল্যবিবাহের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অল্প বয়সে মাতৃত্বের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পা চ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না: ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগু লোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নজরদারি, বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং গোপনে সংঘটিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা। উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন,বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় পরিবার গোপনে রাতের আঁধারে বিয়ে সম্পন্ন করে, ফলে প্রশাসনের পক্ষে তাৎক্ষ ণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে খবর পেলেই আমরা প্রশাসনকে জানাই এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহযোগিতা করি।

একজন ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন,দারিদ্র্য, সামাজিক অনিরাপত্তা এবং কুসংস্কারের কারণে এখনও অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রবণতা রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একজন নারী জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) বলে ন,বাল্যবিবাহের কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রী লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ছে।

এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ক্ষতি। প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোর দার করা প্রয়োজন।

এবিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএ নও) মো: সম্রাট হোসেন বলেন,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

কোথাও বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভি ভাবক এবং স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।

কেউ বাল্যবিবাহের তথ্য গোপন না করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানালে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্য মাণ আদালত পরিচালনা, অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাৎক্ষ ণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে মণিরামপুরে বাল্যবিবাহ আরও ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

About admin

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় কৃষক পরিবারের ফসলের পরিচর্যা ও সংগ্রহে এগিয়ে এলো আনসার-ভিডিপি

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও : উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের এক অসহায় কৃষক পরিবারের …