Breaking News

জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ; ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে ১৫ বছর রয়েছে বহাল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার ঘোড়াগাছা লাল মোহা ম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুলশান আরা জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েছেন।

ধরা পড়ার পরেও কমিটিকে ম্যানেজ করে ১৫ বছর রয়ে ছেন বহাল তবিয়তে।

স্কুলের নথি থেকে জানা যায়, তিনি ২০১১ সালে জাল সনদে নিয়োগের মাধ্যমে এমপিওভূক্ত হন, যার ইনডেক্স নম্বর-১০৬৯৬২১।

পরবর্তিতে এই শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল সনাক্ত হলে বেতন উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু এই নিয়োগ এবং ইনডেক্্র নম্বর বহাল রেখে ০১/০ ৭/২০১৬ তারিখ হতে ৩০/০৬/২০২৬ পর্যন্ত ১০ বছরে সরকারি বেতন ভাতার লাখ লাখ টাকা উত্তোলনকরেছেন এই শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে ,ঘোড়াগাছা লাল মোহাম্মদ মাধ্য মিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিগত ১৯/০৬/ ২০১১ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর ও দৈনিক গ্রা মের কাগজ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশের পর মোছাঃ গুলশান আরা খাতুন প্রার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে সহকারীশিক্ষক (শাখা) হিসেবে আবেদন করেন।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতেম১৯/৭/২০১১ তারিখের নিয়ো গ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে ম্যানেজিং কমিটিমতাকে ২০/৭/ ২০১১ তারিখে নিয়োগপত্র দেন যার স্বারক নং-শিঃ নিঃ ১১/৩/৪৫/২ এবং এই স্মারকের আলোকে তিনি ২৩-৭- ২০১১ তারিখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন।

এরপর তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ০১/১১/২০১২ তারিখে এমপি ও ভুক্ত করণ করা হয়। যার ইনডেক্স নং- ১০৬৯ ৬২১, সোনালী ব্যাংক, হরিনাকুন্ডু শাখার হিসাব নং- ০০২ ০৯৪২৪৭। এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর তৎকালিন জেলা শিক্ষা অফিসার এস,এম ছায়েদুর রহমানমমোছাঃ গুল শান আরার নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই কালে এনটি আরসিএ সনদ জাল ধরা পড়ে।

যার রোল নং-১২০৪০ ৫৯০, নিবন্ধন নং-০৫১০ ৯৭৬৭ ,তারিখ- ১৪/১২/২০০৬। জাল সনদ ধরা পড়ার পর অভি যুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অদৃশ্য কারণে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেণম ম্যানেজিং কমিটি।

এরপর গুলশান আরার এনটিআরসিএ সনদ জাল প্রমা নিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ম্যানেজিং কমিটির সভা পতি ১০/১২/২০১৩ তারিখে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার উত্তোলনকৃত বেতনের টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরৎ দেয়ারননির্দেশ দেয়।

সে মোতাবেক গুলশান আরা দোষ স্বীকার করে উত্তোলন কৃত টাকা গত ১২-১২- ২০১৩ তারিখে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক হরিণা কু-ু শাখায় ১২৫৩১০০ ০০২৬৭৯ নং কোডে ৩২,১৪০/- টা কা জমা দেয়।

জালিয়াতি ধরা পড়ার পরেও তৎকালিন ম্যানেজিং কমি টির সভাপতি আক্তারুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক নজির উদ্দিন ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তার অবৈধ নিয়োগপত্র এবং এমপিও বাতিল না করে ১১/১২/২০১৩ইং তারিখে মিটিং করেনরেজুলেশনের মাধ্যমে তাঁর জাল সনদের নিয়োগ বহাল রাখেন।

অভিযুক্ত গুলশান আরা ২০/১২/২০১৫ তারিখে বৈধ এনটিআরসিএ সনদ অর্জন করেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান জোয়ারদার ও প্রধান
শিক্ষক আবুল কাসেম তার জাল সনদে অবৈধ নিয়োগের ইনডেক্স ব্যবহার করে পুণরায় ০১/০৭/২০১৬ তারিখে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তার নিয়োগমস্থায়ী করেন ।

যা শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী। উল্লেখ্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় এনটিআরসিএ জাল সনদ ধরা পড়া র পর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কোনো ভাবেই ওই শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ দিতে পারে না।

জাল সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা ফৌজদারি
অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত ও উত্তোলিতমবেতন-ভাতাদি ফেরত ও এমপিও বাতিল করার নিয়ম রয়েছে।

আইন অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি ওই শিক্ষককে রেজুল শেনের মাধ্যমেমনিয়োগ বহাল রাখা এবং সনদ অর্জণ করতে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বরং জাল সনদধারী শিক্ষক এবং তাকে নিয়োগে বা সহায়তা প্রদানকারী ম্যানেজিং কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।”

অভিযুক্ত শিক্ষক গুলশান আরার কাছে জাল সনদে নি য়োগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়োগের সময় তার দাখিলকৃত এনটিআরসিএ সনদ জাল ছিল।

তবে ২০১৫ সালে বৈধভাবে এনটিআরসিএ সনদ অর্জন করার পরন০১/০৭/২০১৬ তারিখে ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ১১/১২/২০১১মতারিখে দেয়া অস্থা য়ী নিয়োগ পুনরায় বহাল করেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শিল্পী খাতুন জা নান,আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। ততকালীন ম্যানে জিং কমিটি তাকে কি ভাবে নিয়োগনদিয়েছে আমি জানিনা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, শিক্ষকমনিয়োগে অনিয়মের প্রমান পেলে অভিযু ক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেনশিক্ষা মন্ত্রালয়ে চিঠি লিখবো।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, যেহেতু নিয়োগটা ২০১১ সালের।

আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে, এইটার যথাযথ অভি যোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যপারে সূধীজনদের ধারণা এই ভুক্তভোগী শিক্ষককে আইনের আওতায় আনলে এই এনটিআরসিএ’র জাল সনদ সরবরাহকারী চক্রের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

 

About admin

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় কৃষক পরিবারের ফসলের পরিচর্যা ও সংগ্রহে এগিয়ে এলো আনসার-ভিডিপি

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও : উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের এক অসহায় কৃষক পরিবারের …