Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা ও র‌্যালি ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়,জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করছে এবি পার্টি: মজিবুর রহমান মঞ্জু নড়াইলর মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুটবলার গোপাল হাজরার স্মৃতি কথা!! ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী- নিতাই রায় চৌধুরী পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাওনা টাকা চাওয়ায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফাটালো বড় ভাই

তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:47 pm, Saturday, 21 February 2026
  • 58 Time View
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে আগাম আলু চাষিরা ফের লোকসা নের মুখে পড়েছেন।এবার আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো।
তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতা শ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।
সম্প্রতি, তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই মলিন মুখে  বসে আছে আলু চাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
গত মৌসুমে একইভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ঘুরে দাড়ানোর আশা নিয়ে বিলপাড়ের উঁচু জমিতে পুন রায় আগাম জাতের আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়েছেন।
আলু চাষি ফিরোজ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলন যা হয়েছে তুলনামূলক ভালো।
বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ বস্তা (৭০ কেজি) করে।
কিন্ত্ত বাজারে নতুন আলুর দাম নাই। বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এক বস্তায় ৭০ কেজি আলু নিলেও ৬৫ কেজির দাম দেয়া হচ্ছে।
সব মিলে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা আসছে। এতে বি ঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।
আলু চাষি রইচ উদ্দিন জানান,তিনি সাড়ে তিন বিঘা আলু উত্তোলন করে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।অপর কৃষক জানান,তিনি আড়াই বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।
তারা জানান বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টা কা লোকসান হচ্ছে।
বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় আছে। আবার ঢলন বাবদ ৫ কেজি করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম পাচ্ছি।
যে কারণে প্রতি বস্তায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই হিসেবে ঢলন বাবদ প্রতি বিঘায় ২৫০ কেজি করে বাড়তি আলু নিচ্ছে ব্যবসায়িরা।
যার দাম লাগছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি করে ঢল ন না দিলে তারা আলু কিনছে না। ঢলন টাই নাকি তাদের লাভ। কারণ আলুর দাম নাই। আবার এখান থেকে আলু ট্রাকে করে খুলনায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন।
এখান থেকে খুলনা যাওয়া ও সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করার পর আলু বিক্রি করে। এজন্য জমির কাঁচা আলু নাকি অনেক শুকিয়ে যায়।
তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত হন ব্যবসায়ী আই নুল, তিনি জানান, এসব আলু সব যাবে খুলনা। সেখানে গিয়ে খুববেশি হলে কেজিতে এক টাকা থেকে দু’টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে।
ঢলনের নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে আলু নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি থেকে একেবারেই কাঁচা আলু কিনা হচ্ছে।
খুলনা মোকামে যেতেই অনেক ওজন কমে যায়। আবার কয়েকদিন বিক্রি করতে না পারলে বেশি পরিমান কমে। এ জন্য ঢলন নিতে হয়।
অপর ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন,গত বছরের মতো এবছরেও আলুতে ধরাশায়ী চাষিরা। কারণ বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করে পাচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুন তে হচ্ছে।
মুনসুর নামের এক আলু চাষি জানান, রাব্বানী ২৫ কাঠা জমির আলু তুলে সাড়ে ৯ টাকা কেজি করে বিক্রি করে ছেন। গতবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ধরা খেয়ে এবার কমিয়ে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন।
চাষিরা জানান, পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি।
যারা আগে আলু রোপন করেছিলেন তাদের আলু উঠতে শুরু করেছে।  অবশ্য এবার জমি লীজ ও বীজ আলু কম দামে পাওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের কারনে অনেক টা বেড়েছে উৎপাদন খরচ।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি তে আলু চাষ হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তুলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন করে ফলন হয়েছে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষা বাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।
এবিষয়ো কৃষি বিপণন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শাহানা আখতার জাহানের মোবাইলে একাধি ক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#
About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা

Update Time : 12:47 pm, Saturday, 21 February 2026
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে আগাম আলু চাষিরা ফের লোকসা নের মুখে পড়েছেন।এবার আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো।
তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতা শ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।
সম্প্রতি, তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই মলিন মুখে  বসে আছে আলু চাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
গত মৌসুমে একইভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ঘুরে দাড়ানোর আশা নিয়ে বিলপাড়ের উঁচু জমিতে পুন রায় আগাম জাতের আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়েছেন।
আলু চাষি ফিরোজ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলন যা হয়েছে তুলনামূলক ভালো।
বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ বস্তা (৭০ কেজি) করে।
কিন্ত্ত বাজারে নতুন আলুর দাম নাই। বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এক বস্তায় ৭০ কেজি আলু নিলেও ৬৫ কেজির দাম দেয়া হচ্ছে।
সব মিলে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা আসছে। এতে বি ঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।
আলু চাষি রইচ উদ্দিন জানান,তিনি সাড়ে তিন বিঘা আলু উত্তোলন করে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।অপর কৃষক জানান,তিনি আড়াই বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।
তারা জানান বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টা কা লোকসান হচ্ছে।
বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় আছে। আবার ঢলন বাবদ ৫ কেজি করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম পাচ্ছি।
যে কারণে প্রতি বস্তায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই হিসেবে ঢলন বাবদ প্রতি বিঘায় ২৫০ কেজি করে বাড়তি আলু নিচ্ছে ব্যবসায়িরা।
যার দাম লাগছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি করে ঢল ন না দিলে তারা আলু কিনছে না। ঢলন টাই নাকি তাদের লাভ। কারণ আলুর দাম নাই। আবার এখান থেকে আলু ট্রাকে করে খুলনায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন।
এখান থেকে খুলনা যাওয়া ও সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করার পর আলু বিক্রি করে। এজন্য জমির কাঁচা আলু নাকি অনেক শুকিয়ে যায়।
তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত হন ব্যবসায়ী আই নুল, তিনি জানান, এসব আলু সব যাবে খুলনা। সেখানে গিয়ে খুববেশি হলে কেজিতে এক টাকা থেকে দু’টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে।
ঢলনের নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে আলু নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি থেকে একেবারেই কাঁচা আলু কিনা হচ্ছে।
খুলনা মোকামে যেতেই অনেক ওজন কমে যায়। আবার কয়েকদিন বিক্রি করতে না পারলে বেশি পরিমান কমে। এ জন্য ঢলন নিতে হয়।
অপর ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন,গত বছরের মতো এবছরেও আলুতে ধরাশায়ী চাষিরা। কারণ বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করে পাচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুন তে হচ্ছে।
মুনসুর নামের এক আলু চাষি জানান, রাব্বানী ২৫ কাঠা জমির আলু তুলে সাড়ে ৯ টাকা কেজি করে বিক্রি করে ছেন। গতবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ধরা খেয়ে এবার কমিয়ে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন।
চাষিরা জানান, পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি।
যারা আগে আলু রোপন করেছিলেন তাদের আলু উঠতে শুরু করেছে।  অবশ্য এবার জমি লীজ ও বীজ আলু কম দামে পাওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের কারনে অনেক টা বেড়েছে উৎপাদন খরচ।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি তে আলু চাষ হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তুলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন করে ফলন হয়েছে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষা বাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।
এবিষয়ো কৃষি বিপণন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শাহানা আখতার জাহানের মোবাইলে একাধি ক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#