Dhaka , Sunday, 8 November 2026

রাজশাহীতে ধানের দামে অস্থিরতা, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:24 am, Wednesday, 26 November 2025
  • 45 Time View
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে আমণ ধান কাটা–মাড়াই এখা নো সম্পন্ন হয়নি।
রাজশাহীর  বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা–মাড়াই বাকি।
কৃষকরা বলছেন, মৌসুম এখন মধ্যভাগে, পুরোপু রি শেষ হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে।
এই অবস্থায় বাজারে ধানের দরপতন নিয়ে তারা আরও বেশি উদ্বিগ্ন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টা।কা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু উপজেলার তালন্দ হাট, কালী গঞ্জ, চৌবাড়িয়া,কলমা ও বিল্লি হাটের কৃষকেরা জানা চ্ছেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ১৫০ টাকায় যা সরকার ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলা য় প্রায় ৮৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।
গত অর্থবছরে চাষ হয়েছিল ৮৪  হাজার ১০৫ হেক্টর জমি তে, উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৩  মেট্রিক টন।
তানোর উপজেলার দরিয়া গ্রামের  কৃষক আবু বকর সিদ্দিক  (৪২) বলেন, ‘এখনো অনেক জমির ধান কাটা বাকি। শ্রমিক ও সারের দাম অনেক বেড়েছে।
কিন্তু বাজারে ধানের দাম শুনলেই বুক ভেঙে যায়। মণ প্রতি এক হাজার ১০০ টাকায় ধান বিক্রি করলে লোক সান ছাড়া কিছুই থাকে না।’তবে খড়ের ভালো দাম থাকায় কিছুটা খরচের টাকা উঠে আসছে।
মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্বাস উদ্দিন (৩৮) বলেন, ‘সরকার ঘোষিত দরে ধান কেনে খুব অল্প পরিমাণে।
এছাড়াও অনেক সময় ক্রয়কেন্দ্রে আমাদের মতো সাধা রণ কৃষকের ধান নেওয়া হয় না। আর বাজারে ফড়িয়ারা কম দামে কিনে নিচ্ছে। এখনো অনেক ধান কাটা বাকি-যদি দাম আরও কমে, তাহলে বড় বিপদে পড়ব’।
নারী কৃষক সারমিন খাতুন (৩০) বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ধান কাটাও পুরো শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে-এ ভাবনায় দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।
উপজেলার কামারগাঁ বাজারের ধান ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কঠিন হয়ে গেছে। মিলগুলোও ধান কম কিনছে।
তাই আমরা বেশি দামে ধান কেনার অবস্থায় নেই।’ ধান ব্যবসায়ী রাব্বানী বলেন, ‘ধান কাটার মৌসুম চলছে, সর বরাহ বাড়ছে। কিন্তু নগদ টাকা সংকটের কারণে দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখনো জেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা–মাড়াই বাকি। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে।
আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ক্রয় কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরি চালিত হয়, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে ক্রয়কেন্দ্রে ধান দিতে পারেন, সেজন্যও আমরা নজরদারি করছি।#

About Author Information

Popular Post

রাজশাহীতে ধানের দামে অস্থিরতা, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

Update Time : 06:24 am, Wednesday, 26 November 2025
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে আমণ ধান কাটা–মাড়াই এখা নো সম্পন্ন হয়নি।
রাজশাহীর  বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা–মাড়াই বাকি।
কৃষকরা বলছেন, মৌসুম এখন মধ্যভাগে, পুরোপু রি শেষ হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে।
এই অবস্থায় বাজারে ধানের দরপতন নিয়ে তারা আরও বেশি উদ্বিগ্ন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টা।কা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু উপজেলার তালন্দ হাট, কালী গঞ্জ, চৌবাড়িয়া,কলমা ও বিল্লি হাটের কৃষকেরা জানা চ্ছেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ১৫০ টাকায় যা সরকার ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলা য় প্রায় ৮৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।
গত অর্থবছরে চাষ হয়েছিল ৮৪  হাজার ১০৫ হেক্টর জমি তে, উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৩  মেট্রিক টন।
তানোর উপজেলার দরিয়া গ্রামের  কৃষক আবু বকর সিদ্দিক  (৪২) বলেন, ‘এখনো অনেক জমির ধান কাটা বাকি। শ্রমিক ও সারের দাম অনেক বেড়েছে।
কিন্তু বাজারে ধানের দাম শুনলেই বুক ভেঙে যায়। মণ প্রতি এক হাজার ১০০ টাকায় ধান বিক্রি করলে লোক সান ছাড়া কিছুই থাকে না।’তবে খড়ের ভালো দাম থাকায় কিছুটা খরচের টাকা উঠে আসছে।
মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্বাস উদ্দিন (৩৮) বলেন, ‘সরকার ঘোষিত দরে ধান কেনে খুব অল্প পরিমাণে।
এছাড়াও অনেক সময় ক্রয়কেন্দ্রে আমাদের মতো সাধা রণ কৃষকের ধান নেওয়া হয় না। আর বাজারে ফড়িয়ারা কম দামে কিনে নিচ্ছে। এখনো অনেক ধান কাটা বাকি-যদি দাম আরও কমে, তাহলে বড় বিপদে পড়ব’।
নারী কৃষক সারমিন খাতুন (৩০) বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ধান কাটাও পুরো শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে-এ ভাবনায় দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।
উপজেলার কামারগাঁ বাজারের ধান ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কঠিন হয়ে গেছে। মিলগুলোও ধান কম কিনছে।
তাই আমরা বেশি দামে ধান কেনার অবস্থায় নেই।’ ধান ব্যবসায়ী রাব্বানী বলেন, ‘ধান কাটার মৌসুম চলছে, সর বরাহ বাড়ছে। কিন্তু নগদ টাকা সংকটের কারণে দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখনো জেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা–মাড়াই বাকি। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে।
আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ক্রয় কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরি চালিত হয়, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে ক্রয়কেন্দ্রে ধান দিতে পারেন, সেজন্যও আমরা নজরদারি করছি।#