Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা ও র‌্যালি ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়,জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করছে এবি পার্টি: মজিবুর রহমান মঞ্জু নড়াইলর মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুটবলার গোপাল হাজরার স্মৃতি কথা!! ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী- নিতাই রায় চৌধুরী পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাওনা টাকা চাওয়ায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফাটালো বড় ভাই

সবার প্রিয় অধ্যক্ষ শরীফ স্যার!!

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:38 am, Wednesday, 17 June 2026
  • 117 Time View

:কবিরুল ইসলাম:/ফারুক আহাম্মেদ::যশোর :২০০৬ সালের একটি চিঠি আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।

এক দরিদ্র ভ্যান চালক মোহাম্মদ মুজাহিদ আলীর কন্যা মোছা. শরিফা খাতুনের চিকিৎসা সহায়তার জন্য চিঠিটি লিখেছিলেন যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,সমাজসেবক ও সমাজ শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রদূত অধ্যক্ষ শরীফ হোসে ন।

চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছিলেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা.ইমদাদুল হোসেন ও ডা. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে। সেই চিঠির বাহক ছিলাম আমি নিজেই।

স্যার জানতেন, চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রাম আমার ওস্তাদজি কবি আহমদ আলী সাহিত্য রত্নের গ্রাম। ১৯৯৯ সালে তিনি এই গ্রামে দুটি সন্দীপন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

একটি ছিল “সাংবাদিক ওসমান গনি সন্দীপন কেন্দ্র” এবং অন্যটি “কবি আহমদ আলী সাহিত্য রত্ন শান্তিপুর কেন্দ্র”।

সেই সূত্রে তিনি বহুবার কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছেন এবং আমি তাঁর সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছি।

অনেকবার যশোরের খড়কিতে তাঁর বাসভবনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।

প্রতিবারই তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নিতেন। জিজ্ঞেস করতেন, “তোমার মা কেমন আছেন?”, “

আমাদের একটি মাম আমাদের একটি মামলা ছিল তার কী অবস্থা?”, “সন্দীপন কেন্দ্রের ছেলে-মেয়েরা কেমন আছে?”।

বিদায় এর সময় বলতেন, “চক, পেন্সিল, ডাস্টার আর বসার জন্য চট নিয়ে যেও।

তোমাদের কেন্দ্রের বোর্ড তৈরি হয়ে গেছে।” সেই বোর্ডে লেখা ছিল—“মেধালনে অবহেলি ত শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র”।

আজও মনে পড়ে তাঁর অসাধারণ মানবিকতার কথা। অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাঁর কাছে আসতেন সাহায্যের আশায়।

তিনি শুধু আর্থিক সহায়তাই করতেন না, মানুষকে আত্ম নির্ভরশীল হওয়ার পথও দেখাতেন।

অনেককে কিছু অর্থ দিয়ে বলতেন, এই টাকা দিয়ে ব্যবসা করো। প্রতি সপ্তাহে এসে হিসাব দেবে কত লাভ করেছো।” এভাবেই তিনি মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলতেন।

মনে পড়ে সুলতান স্যারের কথা, মনে পড়ে লিটন ভাই, সালাউদ্দিন ভাই এর কথা। আমাদের সামান্য সম্মানী হিসেবে ৩০০ টাকা দিতেন।

কিন্তু সেই টাকার চেয়েও মূল্যবান ছিল তাঁর অনুপ্রেরণার বাণী। তিনি বলতেন, “আমি তোমাদের প্রকৃত মূল্য দিতে পারবো না।

তোমরা যে পরিশ্রম করো, আল্লাহ অবশ্যই তার উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

২০০৭ সালে আমি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যশো র কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

সেখানেই শুনতে পেলা ম, অধ্যক্ষ মোঃ শরীফ হোসেন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই।

সংবাদটি শুনে আমি ডুকরে কেঁদে উঠেছি লাম। ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

সেদিন নিজের শারীরিক কষ্ট যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে ফিরে সন্দীপন কেন্দ্রের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করতে যাই।

দেখলাম, সমাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষটি খড়কির পীর পরিবারের কব রস্থানের এক কোণে চিরনিদ্রায় শায়িত।

অধ্যক্ষ মোঃ শরীফ হোসেন ছিলেন সমাজ শিক্ষা আন্দো লনের এক অগ্রদূত।

পাঠাগার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম—সবখানেই ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্র হণ।

সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক—প্রতি টি ক্ষেত্রেই তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল অবদান।

শ্রমজীবী মানুষ,পথশিশু, গরিব-দুঃখী, ছিন্নমূল ও বিধবা মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁর হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করত।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাঁকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখতেন।

তিনি ছিলেন একজন কীর্তিমান মানুষ, একজন বিরল মানবতাবাদী, যাঁর জীবন ছিল মানুষের কল্যাণে নিবেদি ত।

আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কর্ম, আদর্শ ও মানবপ্রেম তাঁকে অমর করে রেখেছে। তাঁর সন্তানরাও আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

তাঁদের মধ্যে ডা.মোসলে উদ্দিন ফরিদ স্যার যশোর-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি তাঁর পিতার মানব কল্যাণমূল ক আদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সময়ের ব্যবধানে অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজ ও যখন স্যারের কথা মনে পড়ে,তখন হৃদয়ের গভীর থে কে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে এমন মানুষ কোথায় পাব আজ?

অধ্যক্ষ শরীফ হোসেন স্যার এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃত জ্ঞতা। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, আদর্শে এবং অসং খ্য মানুষের হৃদয়ে।

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

সবার প্রিয় অধ্যক্ষ শরীফ স্যার!!

Update Time : 06:38 am, Wednesday, 17 June 2026

:কবিরুল ইসলাম:/ফারুক আহাম্মেদ::যশোর :২০০৬ সালের একটি চিঠি আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।

এক দরিদ্র ভ্যান চালক মোহাম্মদ মুজাহিদ আলীর কন্যা মোছা. শরিফা খাতুনের চিকিৎসা সহায়তার জন্য চিঠিটি লিখেছিলেন যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,সমাজসেবক ও সমাজ শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রদূত অধ্যক্ষ শরীফ হোসে ন।

চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছিলেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা.ইমদাদুল হোসেন ও ডা. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে। সেই চিঠির বাহক ছিলাম আমি নিজেই।

স্যার জানতেন, চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রাম আমার ওস্তাদজি কবি আহমদ আলী সাহিত্য রত্নের গ্রাম। ১৯৯৯ সালে তিনি এই গ্রামে দুটি সন্দীপন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

একটি ছিল “সাংবাদিক ওসমান গনি সন্দীপন কেন্দ্র” এবং অন্যটি “কবি আহমদ আলী সাহিত্য রত্ন শান্তিপুর কেন্দ্র”।

সেই সূত্রে তিনি বহুবার কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছেন এবং আমি তাঁর সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছি।

অনেকবার যশোরের খড়কিতে তাঁর বাসভবনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।

প্রতিবারই তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নিতেন। জিজ্ঞেস করতেন, “তোমার মা কেমন আছেন?”, “

আমাদের একটি মাম আমাদের একটি মামলা ছিল তার কী অবস্থা?”, “সন্দীপন কেন্দ্রের ছেলে-মেয়েরা কেমন আছে?”।

বিদায় এর সময় বলতেন, “চক, পেন্সিল, ডাস্টার আর বসার জন্য চট নিয়ে যেও।

তোমাদের কেন্দ্রের বোর্ড তৈরি হয়ে গেছে।” সেই বোর্ডে লেখা ছিল—“মেধালনে অবহেলি ত শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র”।

আজও মনে পড়ে তাঁর অসাধারণ মানবিকতার কথা। অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাঁর কাছে আসতেন সাহায্যের আশায়।

তিনি শুধু আর্থিক সহায়তাই করতেন না, মানুষকে আত্ম নির্ভরশীল হওয়ার পথও দেখাতেন।

অনেককে কিছু অর্থ দিয়ে বলতেন, এই টাকা দিয়ে ব্যবসা করো। প্রতি সপ্তাহে এসে হিসাব দেবে কত লাভ করেছো।” এভাবেই তিনি মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলতেন।

মনে পড়ে সুলতান স্যারের কথা, মনে পড়ে লিটন ভাই, সালাউদ্দিন ভাই এর কথা। আমাদের সামান্য সম্মানী হিসেবে ৩০০ টাকা দিতেন।

কিন্তু সেই টাকার চেয়েও মূল্যবান ছিল তাঁর অনুপ্রেরণার বাণী। তিনি বলতেন, “আমি তোমাদের প্রকৃত মূল্য দিতে পারবো না।

তোমরা যে পরিশ্রম করো, আল্লাহ অবশ্যই তার উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

২০০৭ সালে আমি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যশো র কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

সেখানেই শুনতে পেলা ম, অধ্যক্ষ মোঃ শরীফ হোসেন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই।

সংবাদটি শুনে আমি ডুকরে কেঁদে উঠেছি লাম। ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

সেদিন নিজের শারীরিক কষ্ট যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে ফিরে সন্দীপন কেন্দ্রের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করতে যাই।

দেখলাম, সমাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষটি খড়কির পীর পরিবারের কব রস্থানের এক কোণে চিরনিদ্রায় শায়িত।

অধ্যক্ষ মোঃ শরীফ হোসেন ছিলেন সমাজ শিক্ষা আন্দো লনের এক অগ্রদূত।

পাঠাগার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম—সবখানেই ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্র হণ।

সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক—প্রতি টি ক্ষেত্রেই তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল অবদান।

শ্রমজীবী মানুষ,পথশিশু, গরিব-দুঃখী, ছিন্নমূল ও বিধবা মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁর হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করত।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাঁকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখতেন।

তিনি ছিলেন একজন কীর্তিমান মানুষ, একজন বিরল মানবতাবাদী, যাঁর জীবন ছিল মানুষের কল্যাণে নিবেদি ত।

আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কর্ম, আদর্শ ও মানবপ্রেম তাঁকে অমর করে রেখেছে। তাঁর সন্তানরাও আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

তাঁদের মধ্যে ডা.মোসলে উদ্দিন ফরিদ স্যার যশোর-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি তাঁর পিতার মানব কল্যাণমূল ক আদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সময়ের ব্যবধানে অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজ ও যখন স্যারের কথা মনে পড়ে,তখন হৃদয়ের গভীর থে কে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে এমন মানুষ কোথায় পাব আজ?

অধ্যক্ষ শরীফ হোসেন স্যার এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃত জ্ঞতা। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, আদর্শে এবং অসং খ্য মানুষের হৃদয়ে।