Dhaka , Sunday, 8 November 2026

মুক্তিপনের দাবিতে সুন্দরবনে চার জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে একজন

পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন গহীন সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে মুক্তিপনের দাবিতে বনদস্যু ‘জিয়া বাহিনীর’ হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন শ্যামনগরের চার জেলে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের বাদুড়ঝুলি খালে নোংগর করা নৌকা থেকে জোরপূর্বক তাদেরকে অপ হরণ করে নিয়ে যায় বনদস্যুরা

তাদের চারজনকে জিম্মি করার পর বিকাশ ও নগদের মাধ্য মে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে  খোকা গাজী নামের এক জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে বনদস্যুরা।

তবে এখনও জিম্মি রয়েছেন তিন জেলে। তাদের মুক্তির জ ন্য জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দ্রুত টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মিদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা মাছুম পাড়, আহম্মাদ শেখ ও শহিদ গাজী। মুক্তি পাওয়া খোকা গাজীও একই এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস থেকে বৈধ পাস বা অনুমতিপত্র নিয়ে ওই চার জেলে সুন্দরবনের গহিনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান।

রোববার রাতে তারা পশ্চিম সুন্দরবনের বাদুড়ঝুলি খালে নৌকা নোঙর করে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে ট্রলার নিয়ে অতর্কিতে সেখানে হাজির হয় জিয়া বাহিনীর সদস্যরা।

তারা জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ক রে তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায় নৌকা থেকে জোরপূর্বক  চারজনকে অপহরণ করে  নিজেদের গোপন আস্তানায় নিয়ে যায় বনদস্যুরা।
অপহরণের পর বনদস্যুরা খোকা গাজীর স্বজনদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

জিম্মির জীবন বাঁচাতে স্বজনেরা ধারদেনা করে বিকা শ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে সুন্দরব নের একটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে খোকা গাজীকে ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

ফিরে আসা জেলা খোকা গাজী জানান, সুন্দরবনের গহিনে কেবল আমরাই নই, আরও একাধিক জেলে দলকে জিম্মি করে রেখেছে ওই ডাকাত দল।

আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বাকি তিন জেলে মাছুম, আহম্মাদ ও শহিদকে মুক্ত করতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বাকি তিন জেলের পরিবারে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দিনমজুর এসব পরিবারের পক্ষে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপহৃত স্বজনদের দ্রুত ও জীবিত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসি এফ) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে সুন্দরবনে নতুন করে জেলে অপহরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি।

লিখিত অভিযোগ বা তথ্য পেলে উদ্ধার তৎপরতাসহ প্রয়োজ নীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

About Author Information

Popular Post

মুক্তিপনের দাবিতে সুন্দরবনে চার জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে একজন

Update Time : 08:54 pm, Wednesday, 14 October 2026

পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন গহীন সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে মুক্তিপনের দাবিতে বনদস্যু ‘জিয়া বাহিনীর’ হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন শ্যামনগরের চার জেলে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের বাদুড়ঝুলি খালে নোংগর করা নৌকা থেকে জোরপূর্বক তাদেরকে অপ হরণ করে নিয়ে যায় বনদস্যুরা

তাদের চারজনকে জিম্মি করার পর বিকাশ ও নগদের মাধ্য মে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে  খোকা গাজী নামের এক জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে বনদস্যুরা।

তবে এখনও জিম্মি রয়েছেন তিন জেলে। তাদের মুক্তির জ ন্য জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দ্রুত টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মিদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা মাছুম পাড়, আহম্মাদ শেখ ও শহিদ গাজী। মুক্তি পাওয়া খোকা গাজীও একই এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস থেকে বৈধ পাস বা অনুমতিপত্র নিয়ে ওই চার জেলে সুন্দরবনের গহিনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান।

রোববার রাতে তারা পশ্চিম সুন্দরবনের বাদুড়ঝুলি খালে নৌকা নোঙর করে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে ট্রলার নিয়ে অতর্কিতে সেখানে হাজির হয় জিয়া বাহিনীর সদস্যরা।

তারা জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ক রে তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায় নৌকা থেকে জোরপূর্বক  চারজনকে অপহরণ করে  নিজেদের গোপন আস্তানায় নিয়ে যায় বনদস্যুরা।
অপহরণের পর বনদস্যুরা খোকা গাজীর স্বজনদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

জিম্মির জীবন বাঁচাতে স্বজনেরা ধারদেনা করে বিকা শ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে সুন্দরব নের একটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে খোকা গাজীকে ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

ফিরে আসা জেলা খোকা গাজী জানান, সুন্দরবনের গহিনে কেবল আমরাই নই, আরও একাধিক জেলে দলকে জিম্মি করে রেখেছে ওই ডাকাত দল।

আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বাকি তিন জেলে মাছুম, আহম্মাদ ও শহিদকে মুক্ত করতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বাকি তিন জেলের পরিবারে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দিনমজুর এসব পরিবারের পক্ষে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপহৃত স্বজনদের দ্রুত ও জীবিত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসি এফ) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে সুন্দরবনে নতুন করে জেলে অপহরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি।

লিখিত অভিযোগ বা তথ্য পেলে উদ্ধার তৎপরতাসহ প্রয়োজ নীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।