Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন পুঠিয়ায় টাফেন্টাডল ও ইয়াবা টেবলেটসহ তিনজন আটক চৌগাছায় সমবায় দিবস পালিত সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার

পরিবারিক পুষ্টি বাগান হাসি ফুটিয়েছে ডুমুরিয়ার কৃষক পরিবারে

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:13 pm, Friday, 14 November 2025
  • 38 Time View

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক পরিবারগুলোর জীবনে নতুন সম্ভাবনা র দ্বার উন্মোচন করেছে পারি বারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্প।

কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবারের নিরাপদ খাদ্য সংস্থান পূরণে এ বাগানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পরিবারের দৈনিক সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আয় করতে পারছেন চাষিরা। এতে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি যুক্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় দুই ধাপে পাঁচ শতাধিক বাগান স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কালিকাপুর মডেল অনুযায়ী নির্মিত এসব বাগান থেকে শাকসবজি আহরণ শুরু করেছেন সুবিধাভোগীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাছা ইকৃত পরিবার থেকে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে অথবা একজনকে দুই দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাগান ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলা হয়। প্রশিক্ষণের পর বসতবাড়ির আঙিনায় দেড় শতক জমিতে ‘কালিকাপুর মডেল’ অনুযায়ী বাগান স্থাপন করা হয়।

প্রতিটি বাগানে উত্তর-দক্ষিণমুখী পাঁচটি বেড ও দুই পাশে মাচা তৈরি করা হয়েছে। বেডে লালশাক, বীটকপি, গাজর, পালংশাক, গীমা কলমি, পুঁইশাক, ডাটাশাক, ধনিয়া, কাঁ চামরিচ, মূলোসহ বিভিন্ন শাকসবজি এবং মাচায় লাউ, কুমড়া, সিম, বরবটি ও ঝিঙা আবাদ করা হয়েছে।

বাগানের দুই প্রান্তে থাই পেয়ারা, কদবেল, কুল ও চুইঝা লের চারা রোপণ করা হয়েছে। বাগানগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে সারা বছর শাকসবজি বা ফল পাওয়া সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় বীজ, সার, চারা ও অন্যান্য উপকরণ সরকার বিনামূল্যে সরবরাহ করছে; কৃষকেরা পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র মতে, পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি পুষ্টিবাগান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরাতিয়া গ্রামের কৃষক নবদ্বীপ মণ্ডল জানান, বর্ষাকালীন ফসল তোলা হয়েছে এবং উৎপাদন সন্তোষজনক।

তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের ১৫–২০ দিনের সবজির চাহিদা তিনি এ বাগান থেকেই পূরণ করছেন। অতিরিক্ত সবজি বিক্রিও করতে পারছেন।

ফহরাদ হোসেন বলেন, কৃষি অফিসের নির্দেশনায় বাড়ির আঙিনায় বাগান করার পর থেকে তাকে বাজার থেকে শাকসবজি কিনতে হচ্ছে না।

খর্ণিয়ার কৃষক হানিফ মোল্লা বলেন, আগে সবজি লাগা লেও এত পরিকল্পিতভাবে কখনো লাগানো হয়নি। এখন তিনি পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বিক্রির আশাও করছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্ম কর্তা নূরুন নাহার জানান, পুষ্টিবাগান স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকেরা সারা বছরের সবজির চাহিদা পূরণের পাশা পাশি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’—এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসতবাড়ির আঙিনার পতিত জমিকে ব্যবহারের আওতায় আনা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে প্র তিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ১০০টি করে পুষ্টিবাগান স্থাপন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং চার সদস্যের পরিবারে র সবজির অর্ধেক চাহিদা পূরণ সম্ভব। নারীদের প্রশিক্ষ ণের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি তারা সহজেই বাগান পরিচর্যা করতে পারেন।

 

About Author Information

Popular Post

ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু

পরিবারিক পুষ্টি বাগান হাসি ফুটিয়েছে ডুমুরিয়ার কৃষক পরিবারে

Update Time : 03:13 pm, Friday, 14 November 2025

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক পরিবারগুলোর জীবনে নতুন সম্ভাবনা র দ্বার উন্মোচন করেছে পারি বারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্প।

কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবারের নিরাপদ খাদ্য সংস্থান পূরণে এ বাগানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পরিবারের দৈনিক সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আয় করতে পারছেন চাষিরা। এতে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি যুক্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় দুই ধাপে পাঁচ শতাধিক বাগান স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কালিকাপুর মডেল অনুযায়ী নির্মিত এসব বাগান থেকে শাকসবজি আহরণ শুরু করেছেন সুবিধাভোগীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাছা ইকৃত পরিবার থেকে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে অথবা একজনকে দুই দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাগান ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলা হয়। প্রশিক্ষণের পর বসতবাড়ির আঙিনায় দেড় শতক জমিতে ‘কালিকাপুর মডেল’ অনুযায়ী বাগান স্থাপন করা হয়।

প্রতিটি বাগানে উত্তর-দক্ষিণমুখী পাঁচটি বেড ও দুই পাশে মাচা তৈরি করা হয়েছে। বেডে লালশাক, বীটকপি, গাজর, পালংশাক, গীমা কলমি, পুঁইশাক, ডাটাশাক, ধনিয়া, কাঁ চামরিচ, মূলোসহ বিভিন্ন শাকসবজি এবং মাচায় লাউ, কুমড়া, সিম, বরবটি ও ঝিঙা আবাদ করা হয়েছে।

বাগানের দুই প্রান্তে থাই পেয়ারা, কদবেল, কুল ও চুইঝা লের চারা রোপণ করা হয়েছে। বাগানগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে সারা বছর শাকসবজি বা ফল পাওয়া সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় বীজ, সার, চারা ও অন্যান্য উপকরণ সরকার বিনামূল্যে সরবরাহ করছে; কৃষকেরা পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র মতে, পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি পুষ্টিবাগান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরাতিয়া গ্রামের কৃষক নবদ্বীপ মণ্ডল জানান, বর্ষাকালীন ফসল তোলা হয়েছে এবং উৎপাদন সন্তোষজনক।

তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের ১৫–২০ দিনের সবজির চাহিদা তিনি এ বাগান থেকেই পূরণ করছেন। অতিরিক্ত সবজি বিক্রিও করতে পারছেন।

ফহরাদ হোসেন বলেন, কৃষি অফিসের নির্দেশনায় বাড়ির আঙিনায় বাগান করার পর থেকে তাকে বাজার থেকে শাকসবজি কিনতে হচ্ছে না।

খর্ণিয়ার কৃষক হানিফ মোল্লা বলেন, আগে সবজি লাগা লেও এত পরিকল্পিতভাবে কখনো লাগানো হয়নি। এখন তিনি পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বিক্রির আশাও করছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্ম কর্তা নূরুন নাহার জানান, পুষ্টিবাগান স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকেরা সারা বছরের সবজির চাহিদা পূরণের পাশা পাশি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’—এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসতবাড়ির আঙিনার পতিত জমিকে ব্যবহারের আওতায় আনা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে প্র তিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ১০০টি করে পুষ্টিবাগান স্থাপন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং চার সদস্যের পরিবারে র সবজির অর্ধেক চাহিদা পূরণ সম্ভব। নারীদের প্রশিক্ষ ণের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি তারা সহজেই বাগান পরিচর্যা করতে পারেন।