Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা ও র‌্যালি ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়,জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করছে এবি পার্টি: মজিবুর রহমান মঞ্জু নড়াইলর মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুটবলার গোপাল হাজরার স্মৃতি কথা!! ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী- নিতাই রায় চৌধুরী পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাওনা টাকা চাওয়ায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফাটালো বড় ভাই

স্বাস্থ্য-খরচের চাপে আর্থিক বিপর্যয়ে দেশের শতকরা ৪৪ পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:00 pm, Sunday, 14 December 2025
  • 62 Time View

:এস এম নাসিম:
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’ গত শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে।

জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত’। স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে দেশে এখনো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে বাধ্য হয়। এ পরিস্থিতি দেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ- ইউএইচসি) অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলে ন, স্বাস্থ্য খরচের ভার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর সবচে য়ে বেশি পড়ে।

অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন না অর্থাভাবে। অনেকে আবার সঞ্চয় শেষ করে, ধারদেনা করে কিংবা সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মেটান।

এ কারণেই আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বলতে বোঝায়, প্রত্যেকে আর্থিক বোঝা ছাড়াই প্রয়োজনীয়, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং অসুস্থতার কারণে কেউ দরিদ্র হয়ে পড়বেন না।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশ লপত্র প্রণয়ন করা হয়। শুরুতে কিছু অগ্রগতি হলেও ২০১৫ সালের পর থেকে কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।

ডব্লিউএইচওর সূচকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ইউএই চসি স্কোর ছিল ৪৫। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৫২ হলেও ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪-তে। অথচ ২০৩০ সালের ৭৪ স্কোর অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

অথচ তা অর্জনে প্রয়োজনীয় গতি নেই। অতিরিক্ত ব্যক্তি খরচও একটি বড় সংকট। ২০১২ সালে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৪ শতাংশই রোগীদের পকেট থেকে আসত।

২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এ হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ কৌশলপত্রে বলা ছিল, ২০৩২ সালের মধ্যে এ হার নামিয়ে ৩২ শতাংশে আনা হবে।

এ বাস্তবতায় গতকাল শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’।

জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ইউএইচসি অর্জন আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

কারণ নেই কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি; নেই প্রয়োজ নীয় আইন বা নীতি ও অর্থায়ন। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআর,বির শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মূলত দরিদ্র মানুষ।

কিন্তু তাদের সুরক্ষায় গত ৮-১০ বছরে কোনো সরকারের কোনো কার্যকর কর্মসূচি ছিল না। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে র জন্য আলাদা তহবিল গড়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।’

 

 

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

স্বাস্থ্য-খরচের চাপে আর্থিক বিপর্যয়ে দেশের শতকরা ৪৪ পরিবার

Update Time : 04:00 pm, Sunday, 14 December 2025

:এস এম নাসিম:
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’ গত শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে।

জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত’। স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে দেশে এখনো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে বাধ্য হয়। এ পরিস্থিতি দেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ- ইউএইচসি) অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলে ন, স্বাস্থ্য খরচের ভার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর সবচে য়ে বেশি পড়ে।

অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন না অর্থাভাবে। অনেকে আবার সঞ্চয় শেষ করে, ধারদেনা করে কিংবা সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মেটান।

এ কারণেই আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বলতে বোঝায়, প্রত্যেকে আর্থিক বোঝা ছাড়াই প্রয়োজনীয়, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং অসুস্থতার কারণে কেউ দরিদ্র হয়ে পড়বেন না।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশ লপত্র প্রণয়ন করা হয়। শুরুতে কিছু অগ্রগতি হলেও ২০১৫ সালের পর থেকে কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।

ডব্লিউএইচওর সূচকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ইউএই চসি স্কোর ছিল ৪৫। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৫২ হলেও ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪-তে। অথচ ২০৩০ সালের ৭৪ স্কোর অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

অথচ তা অর্জনে প্রয়োজনীয় গতি নেই। অতিরিক্ত ব্যক্তি খরচও একটি বড় সংকট। ২০১২ সালে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৪ শতাংশই রোগীদের পকেট থেকে আসত।

২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এ হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ কৌশলপত্রে বলা ছিল, ২০৩২ সালের মধ্যে এ হার নামিয়ে ৩২ শতাংশে আনা হবে।

এ বাস্তবতায় গতকাল শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’।

জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ইউএইচসি অর্জন আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

কারণ নেই কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি; নেই প্রয়োজ নীয় আইন বা নীতি ও অর্থায়ন। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআর,বির শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মূলত দরিদ্র মানুষ।

কিন্তু তাদের সুরক্ষায় গত ৮-১০ বছরে কোনো সরকারের কোনো কার্যকর কর্মসূচি ছিল না। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে র জন্য আলাদা তহবিল গড়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।’