Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু শালিখায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন পুঠিয়ায় টাফেন্টাডল ও ইয়াবা টেবলেটসহ তিনজন আটক চৌগাছায় সমবায় দিবস পালিত সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা 

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:12 pm, Wednesday, 7 January 2026
  • 75 Time View
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদুক) মামলা করেছেন। বর্তমানে তিনি এলজিইডির সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে সংযুক্ত আছেন।
গাড়ির ডালায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বা হী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৩৭ লাখ টাকা বহন ও স্থানান্তরের অভিযোগে এলজিই ডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক তান জির আহমেদ। মামলায় ছাবিউল ইসলামের পাশাপাশি আরও দুজনকে সহায়তাকারী আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বাপ্পি কুমার দাস ও তাঁর পুত্র বিন্তু কুমার দাস।
দুদক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ মার্চ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ছাবিউল ইসলামের ভাড়া করা একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
তল্লাশির সময় গাড়ির ডালা থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি দুদকের নজরে এলে সংস্থাটি আনুষ্ঠা নিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, উদ্ধার করা অর্থ ছাবিউল ইসলাম তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই অর্থ কোনো বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যেই তিনি অন্যত্র স্থানা ন্তরের চেষ্টা করছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ছাবিউল ইসলাম জ্ঞাতসা রে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৮৭৯৭ নম্বর প্রাইভেট কারে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ কাজে তাঁকে সহায়তা করেন সহায়তাকারী আসামিরা। অর্থ গোপন রেখে পরিবহন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দুদক মনে করছে।
মামলার প্রধান আসামি ছাবিউল ইসলাম এর আগে এলজিইডি গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি এলজিইডির সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে সংযুক্ত আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদক জানায়, এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে দুদকের সংশ্লি ষ্ট শাখা, যা বর্তমানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও আসা মিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কমিশনের অবস্থান কঠোর।
প্রভাবশালী বা উচ্চপদস্থ কেউ হলেও দুর্নীতির প্রমাণ পাও য়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই মামলাটি সে ধরনেরই একটি দৃষ্টান্ত বলে মনে করছে দুদক।
এদিকে সচেতন মহলের অভিমত, মামলার তদন্তকালীন সময়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।
কারণ স্বপদে বহাল থাকলে সে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেস্টা করতে পারেন।#

About Author Information

Popular Post

ইউএনও’র তত্বাবধানে পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা 

Update Time : 03:12 pm, Wednesday, 7 January 2026
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদুক) মামলা করেছেন। বর্তমানে তিনি এলজিইডির সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে সংযুক্ত আছেন।
গাড়ির ডালায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বা হী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৩৭ লাখ টাকা বহন ও স্থানান্তরের অভিযোগে এলজিই ডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক তান জির আহমেদ। মামলায় ছাবিউল ইসলামের পাশাপাশি আরও দুজনকে সহায়তাকারী আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বাপ্পি কুমার দাস ও তাঁর পুত্র বিন্তু কুমার দাস।
দুদক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ মার্চ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ছাবিউল ইসলামের ভাড়া করা একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
তল্লাশির সময় গাড়ির ডালা থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি দুদকের নজরে এলে সংস্থাটি আনুষ্ঠা নিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, উদ্ধার করা অর্থ ছাবিউল ইসলাম তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই অর্থ কোনো বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যেই তিনি অন্যত্র স্থানা ন্তরের চেষ্টা করছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ছাবিউল ইসলাম জ্ঞাতসা রে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৮৭৯৭ নম্বর প্রাইভেট কারে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ কাজে তাঁকে সহায়তা করেন সহায়তাকারী আসামিরা। অর্থ গোপন রেখে পরিবহন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দুদক মনে করছে।
মামলার প্রধান আসামি ছাবিউল ইসলাম এর আগে এলজিইডি গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি এলজিইডির সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে সংযুক্ত আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদক জানায়, এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে দুদকের সংশ্লি ষ্ট শাখা, যা বর্তমানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও আসা মিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কমিশনের অবস্থান কঠোর।
প্রভাবশালী বা উচ্চপদস্থ কেউ হলেও দুর্নীতির প্রমাণ পাও য়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই মামলাটি সে ধরনেরই একটি দৃষ্টান্ত বলে মনে করছে দুদক।
এদিকে সচেতন মহলের অভিমত, মামলার তদন্তকালীন সময়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।
কারণ স্বপদে বহাল থাকলে সে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেস্টা করতে পারেন।#