যশোর প্রতিনিধি:যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ।একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড় ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীর জানায়, সংসদ সদস্য গোলাম রসূলের শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাড়ি সংলগ্ন আল মাদরা সাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এরই জের ধরে সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে এমপি গোলাম রসুলের মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান ও রেক্সনা নামে এক নারীকে মারধর করেন।
সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি মীমাংসা হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মাদরাসা খোলার পর সেটি ফের বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ন।
বিক্ষোভকারী রবিউল অভিযোগ করেন, মাদরাসাটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা এমপির বাড়ির সামনেজড়ো হলে দ্বিতীয় তলা থেকে গরম পানি মারা হয়। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরি স্থিতি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মার ধর করে।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপা রেশন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরি স্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ডিনা জানান, তার মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
মাদরাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে বিভিন্ন সময় শিশুরা এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে।
এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাদের বাড়িতে হামলা চালি য়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন আমার মেয়ে মা’নসিক রোগে(সিজো ফ্রেনিয়া) আক্রান্ত। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ মাসুম খান জানান, বেলা একটার দিকে পরিস্থিতি শা ন্ত হয়েছে। পুলিশ উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করেছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।