:রাশেদুল ইসলাম,সাবেক সচিব :ঃ সাহায্য’ শব্দের কোন বিপরীত শব্দ নেই । তারমানে কেউ সাহায্য করলে তার বিপরীতে যে কিছু করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই ।
কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা বিপদে কারও সাহায্য পেলে, সাহায্যকারি কখনও কোন বিপদে পড়লে, তিনিও তাঁর সাহায্যে এগিয়ে যান।
একে বলে ‘মনুষ্যত্ববোধ’। আল্লাহর সৃষ্টির সেরাজীব মানু ষের মধ্যে এই ‘মনুষ্যত্ববোধ’ থাকবে এটা ধরে নিয়েই হয়ত সাহায্যের বিপরীত কোনও শব্দ রাখা হয়নি ।
তবে কোনও ‘দান’ শর্তহীন নয় । এ কারণে ‘দান’ এর বিপ রীত শব্দ ‘প্রতিদান’ । তারমানে দান প্রতিদান আশা করে । স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজেও প্রতিদান প্রত্যাশী।
তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির জন্য প্রতিদান হিসেবে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন ।
একথা কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে।
একারণে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিক র্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন । তবে আমার এ লেখার বিষয় দান নয়; সাহায্য, মানুষের সাহা য্য- যার বি পরীতে কোন কিছু করার বাধ্যবাধকতা নেই ।
জন্মগতভাবে মানুষ একটি পরনির্ভরশীল প্রাণী । অন্যের সাহায্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না । যিনি নিজের চেষ্টায় সফল হয়ে সমাজে নিজেকে ‘সেলফ মেড’ দাবি করেন, তিনি মিথ্যাকথা বলেন ।
কারণ, একটি নবজাত শিশু জন্মের পর যে সুতীব্র চিৎ কা রে কেঁদে ওঠে, সেই কান্না তার জীবনের শেষ কান্না হতে পারে- যদি কেউ তাকে সাহায্য না করে ।
অন্য কোন প্রাণীর বাচ্চাকে জন্মের পর কেউ সাহায্য না করলেও বেঁচে যাবে; কিন্তু মানুষের বাচ্চা বাঁচবে না ।
প্রকৃত সত্য এই যে, মানুষকে অন্যের সাহায্যনির্ভর করে সৃষ্টি করা হয়েছে । সমাজে যারা ‘মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন’ তাঁ রাই কেবল এ ধরণের সাহায্যকে নিজের সামাজিক দায়ব দ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অনেকটা জন্মঋণ শোধ করার মতই নিজের জন্মস্থান, নিজের এলাকা তথা নিজে র দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূল ক কাজ করার চেষ্টা করে থাকেন ।
আমার এতকিছু লেখা একজন মানুষের উদাহরণ দেওয়া র জন্য । তাঁর নাম মোঃ হাসানুজ্জামান রাহিন ।
তিনি বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত একজন সিআইপি (Commercially Important Person). ২০২২ সালে সরকারের বানিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের যে ১৮৪ জন সিআ ইপির নাম ঘোষণা করেন, তাঁর মধ্যে ডিভাইন গ্রুপের কর্ণ ধার জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান একজন ।
তিনি ১৯৯৭ সালে তাঁর ডিভাইন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজের সততা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশের রেডি মেড গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলস সামগ্রী রপ্তানীকারকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় একজন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন । তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠানে দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি ।
তারমানে দেশের দশহাজার পরিবারের মানুষের রিজিক দানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি- যা অনেক বড় একটি ইবাদত।
অন্যান্য শিল্পপতিদের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া কর্মসূচির কারণে ।
শুধু মুনাফা অর্জন নয়, নিজ জন্মস্থান যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানে র উন্নতি তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ।
প্রচারবিমুখ এই মানুষটি তাঁর গারমেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো গাজীপুর ও সাভারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় সুবি ধাবঞ্চিত মানুষের সুবিধার্থে চৌগাছাতেও নিয়ে গেছেন ।
স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার সুবিধার্থে চৌগাছায় গড়ে তুলেছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ডাঃ আনিসুজ্জামান হাসপাতাল এবং খায়রুন্নেসা নার্সিং কলেজ ।
তাঁর পিতা ডাঃ আনিসুজ্জামান আজীবন তাঁর সেবামূলক কাজের জন্য এলাকার মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা পে য়েছেন ।
পুত্র হাসানুজ্জামান রাহিন মানুষের সম্মান ও ভালবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্য মে গোটা দেশের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে ছেন ।
অতিসাধারণ জীবনযাপন করেন তিনি এবং রাজধানী ঢাকা নয়, নিজের এলাকায় বসবাসা করেন যা – সত্যিই বিস্ময়কর ।
একজনের খারাপ কাজ, অন্যজনকে যেমন দ্রুতগতিতে খারাপ কাজে প্রভাবিত করতে পারে, একজনের ভালো কাজ, তেমনভাবে অন্যজনকে খুব দ্রুত ভালো কাজে উদ্বু দ্ধ করতে পারে না ।
তারপরও রাহিন সাহেবের সমাজকল্যাণমূলক কাজ এলাকার শিক্ষিত শ্রেণির অনেকের মধ্যে একধরণের প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করেছে বলে আমার মনে হয়েছে ।
এ ধরণের কাজ এলাকার শিক্ষার্থীদের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে- যা ভবিষ্যতে তাঁদের বাস্তব কাজের মাধ্য মে প্রতিফলিত হবে বলে আমার বিশ্বাস ।
বাংলাদেশে বর্তমান উপজেলা সংখ্যা ৫০০ । প্রতিটি উপ জেলায় আর্থিক সামর্থ্যের দিক দিয়ে রাহিন সাহেবের মত মানুষ অনেকেই আছেন ।
দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে যদি একজন রাহিন সা হেবের মত মন নিয়ে তাঁর এলাকায় কাজ শুরু করেন, তাহলে গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে যেতে পারে ।
বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দেশ । একই সা থে বাংলাদেশ ধর্মভীরু মানুষের দেশ । নবি হযরত মুহাম্ম দ (সঃ) এঁর জন্ম আরবের মক্কায় ।
তিনি জীবনের শেষ দশ বছর মদিনায় বসবাস করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
তিনি তাঁর জন্মস্থান ও বাসস্থানের মানুষের জন্য এমন ব্যবস্থা করে গেছেন যে, এ দুটি নগরীর বাসিন্দারা কেয়া মত পর্যন্ত অভাবমুক্ত ও মর্যা দাপূর্ণ জীবনযাপন করবেন।
মুসলমান হিসেবে আমাদের নিজেদের জন্মস্থান এবং বাসস্থানের মানুষের জন্য একই দায়িত্ব রয়ে গেছে ।
আমার জানামতে এ বিষয়ে অন্যান্য ধর্মের ব্যাখ্যা একই । সকলে ইচ্ছা করলে, যার যার অবস্থানে থেকে নিজেদের দায়িত্ব সচেতনতা দিয়ে যথাযথ কাজের মাধ্যমে গোটা দে শের সার্বিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব ।
লেখক: রাশেদুল ইসলাম । ৭ আগস্ট, ২০২৬ । মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে